কমরেড নূর আহমদ বকুলের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬

কমরেড নূর আহমদ বকুলের জন্মদিন আজ

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ : বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতি ও গণআন্দোলনের এক পরীক্ষিত নাম, এরশাদবিরোধী ছাত্র গণআন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ১৯৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক কমরেড নূর আহমদ বকুলের জন্মদিন আজ।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই কমরেড বকুল প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর নেতৃত্বে থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও সংগঠনী দক্ষতা ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়ক হয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত।

Manual7 Ad Code

পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। বর্তমানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রগতিশীল ধারার বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন।

কমরেড বকুলের রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম, আদর্শ ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনী দক্ষতা এবং আদর্শিক দৃঢ়তার কারণে তিনি সহকর্মী ও নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে একজন প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।

তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে এরশাদবিরোধী ছাত্র গণআন্দোলনের নেতা এবং ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির তিন মেয়াদের সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান এক বিবৃতিতে কমরেড বকুলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং রাজনৈতিক জীবনের অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কমরেড নূর আহমদ বকুল আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অগ্রসৈনিক। তাঁর নেতৃত্ব, ত্যাগ ও আদর্শ আমাদের পথ দেখায়। দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও অবদান স্মরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কমরেড নূর আহমদ বকুলের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Manual3 Ad Code

কমরেড বকুল সংগ্রামের প্রাণ
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

আজকের এই দিনে ওঠে লাল সূর্যের গান,
ইতিহাসের পৃষ্ঠায় জ্বলে সংগ্রামের প্রাণ।
মাটির গভীর শিকড়ে যে নাম অটল রয়,
সে নাম নূর আহমদ—জনতার অগ্রসৈন্য।

ধুলোমাখা পথ বেয়ে ছাত্রজীবন শুরু,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিল তারই প্রথম গুরু।
শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ,
“মানুষের অধিকার চাই”—এই ছিল তার বরণ।

শহরের দেয়ালে দেয়ালে স্লোগানের আগুন,
রাত্রির অন্ধকারে লিখেছে জাগরণের ধ্বনিগুণ।
স্বৈরশাসনের কালো রাত, দমবন্ধ সময়,
তখনই বকুল দাঁড়ালেন—অবিচল নির্ভয়।

Manual4 Ad Code

আশির দশকের উত্তাল দিন, ক্ষুব্ধ জনতার ঢেউ,
ছাত্রসমাজে জাগল আগুন—শিকল ভাঙার নেশায় ঢেউ।
বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী—সংগ্রামের দীপশিখা,
তার নেতৃত্বে জ্বলে উঠল প্রতিরোধের দীক্ষা।

রক্তে লেখা প্রতিজ্ঞা—“স্বৈরাচার নামাও”,
শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার পতাকা উড়াও।
রাজপথ কাঁপে, মিছিল নামে অগ্নিস্রোতের মতো,
বকুলের কণ্ঠে তখন বজ্রের মতো শপথ।

Manual8 Ad Code

নব্বইয়ের সেই দিন—অভ্যুত্থানের জোয়ার,
জনতার ঐক্যে কেঁপে ওঠে শাসকের দ্বার।
ইতিহাস বদলের ক্ষণে, সাহসী পদচারণ,
সামনের সারিতে বকুল—অটল তাঁর অবস্থান।

রক্ত, অশ্রু, ত্যাগে লেখা গণতন্ত্রের নাম,
স্বাধীনতার নতুন মানে, মানুষের অধিকার ধাম।
যে লড়াই ছিল শুধু ক্ষমতার নয়,
ছিল মানুষের মর্যাদা ফেরানোর জয়।

সময়ের স্রোতে পেরিয়ে নতুন অধ্যায়,
ওয়ার্কার্স পার্টির পতাকায় জ্বলে সংগ্রামের দায়।
শ্রমিকের ঘামে লেখা ইতিহাসের কথা,
তার পাশে দাঁড়িয়ে বকুল—অদম্য প্রত্যয়তা।

ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই, বঞ্চনার বিরুদ্ধে,
ন্যায়ের দাবিতে কণ্ঠ তুলে অবিচল নিষ্ঠায় দৃঢ়ে।
গ্রামের মাটিতে, শহরের কোলাহলে,
মানুষের পাশে তিনি—দায়িত্বের উজ্জ্বল দলে।

সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে,
দলকে এগিয়ে নেন তিনি সময়ের স্রোত বেয়ে।
আদর্শ তার পথপ্রদর্শক, সংগ্রাম তার গান,
জনগণের শক্তিতেই দেখেন ভবিষ্যতের প্রাণ।

তার জীবন শুধু রাজনীতি নয় কোনো,
এ এক দীপ্ত শিখা—অন্যায়ের বিরুদ্ধে রণ।
সহযোদ্ধাদের মাঝে তিনি প্রেরণার নাম,
নতুন প্রজন্ম দেখে তাঁকে—সংগ্রামের অবিরাম।

যখনই অন্ধকার নামে দেশে, সমাজে,
তাঁর কণ্ঠে জাগে আলোর ডাক নতুন সাজে।
বলতে শেখান—“ভয় কোরো না, দাঁড়াও দৃঢ় হয়ে”,
সত্যের পথে চলাই মানুষের শ্রেষ্ঠ বয়ে।

জন্মদিন আজ—তবু এ শুধু উৎসব নয়,
এ ইতিহাস স্মরণের, সংগ্রামের একময়।
তার পথচলা আমাদের দেয় নতুন দিশা,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগায় প্রতিরোধের ভাষা।

বাতাসে ভেসে আসে লাল পতাকার ডাক,
“মানুষের মুক্তি চাই”—এই স্লোগান অটুট থাক।
বকুলের জীবন যেন সেই স্লোগানের রূপ,
সংগ্রামে দীপ্ত, সাহসে অনন্য, অবিচল অনুপ।

শত প্রতিকূলতায় যিনি হার মানেননি,
ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে পথ হারাননি,
তাঁর জীবন শেখায়—লড়াই মানেই জয়,
যদি থাকে সত্য আর মানুষের ভয়হীন পরিচয়।

এই দিনে জানাই প্রণাম, শুভেচ্ছা অফুরান,
দীর্ঘ হোক পথচলা, সুস্থ থাকুক প্রাণ।
দেশের মাটিতে জাগুক তাঁর আদর্শের বীজ,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক সেই বীজ।

গণতন্ত্রের এই পথ কখনো সহজ নয়,
কাঁটা ভরা পথে চলাই সংগ্রামের পরিচয়।
তবু যারা এগিয়ে যায়, ভয়কে করে জয়,
তাদের নাম ইতিহাসে অমর হয়ে রয়।

কমরেড বকুল সেই অমর নামের এক,
যার জীবন মানেই সংগ্রাম, যার পথ অবিচল এক।
বাংলার মাটিতে যতদিন মানুষের গান,
ততদিন জ্বলবে তাঁর সংগ্রামের সম্মান।

আজকের এই জন্মদিন শুধু স্মৃতির নয়,
এ ভবিষ্যতের প্রতিজ্ঞা—অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়।
তাঁর পথেই চলুক নতুন দিনের দল,
মানুষের অধিকার হোক চূড়ান্ত সফল।

শুভ জন্মদিন, কমরেড—সংগ্রামের সহযাত্রী,
আপনার পথচলা হোক আলোর দীপ্ত যাত্রী।
দেশ ও মানুষের জন্য আপনার এই লড়াই,
বাংলার ইতিহাসে চিরকাল জ্বলুক সেই জ্যোতিষ্ময় রশ্মির ছড়াই।