৩ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩১ শিশু নিহত

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬

৩ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩১ শিশু নিহত

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ : চলতি ২০২৬ সালের (জানুয়ারি থেকে মার্চ) ৩ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৩১ শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণে শিশুরা সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগজনক মাত্রায় হতাহত হচ্ছে।

সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ১১টি জাতীয় দৈনিক, ১৩টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্টনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন আরা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়।

Manual2 Ad Code

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের চিত্র বিশ্লেষণ:

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-

Manual7 Ad Code

বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালক/হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে ১১৩ শিশু (৪৮.৯১%) এবং পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১৮ শিশু (৯১.০৮%),

শিশু পথচারীদের চাপা-ধাক্কা দেওয়া যানবাহনের চিত্র:

১.বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৪ শিশু (৩৭.২৮%),

২.প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জীপের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১ শিশু (৯.৩২%),

৩.থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৯ শিশু (৪১.৫২%)

৪.বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কাায় নিহত হয়েছে ১৪ শিশু (১১.৮৬%)।

শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন:

শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ৫২ শিশু (২২.৫১%), আঞ্চলিক সড়কে ৮৫ শিশু (৩৬.৭৯%), গ্রামীণ সড়কে ৫৬ শিশু (২৪.২৪%) এবং শহরের সড়কে ৩৮ শিশু (১৬.৪৫%) নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:

দুর্ঘটনাসমূহ ভোরে ৬টি (২.৫৯%), সকালে ৬১ (২৬.৪০%) দুপুরে ৬৮টি (২৯.৪৩%), বিকালে ৫৭টি (২৪.৬৭%), সন্ধ্যায় ২২টি (৯.৫২%) এবং রাতে ১৭টি (৭.৩৫%) ঘটেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণ:

Manual3 Ad Code

১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৪১টি (১৭.৭৪%), ৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৮৬টি (৩৭.২২%) এবং ১৩ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ১০৪টি (৪৫.০২%)।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণসমূহ:

১. দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশুবান্ধব না হওয়া,

২. সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাব,

৩. পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া,

৪. অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক কর্তৃক যানবাহন চালানো,

৫. দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট,

৬. আহত শিশুদের চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।

দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনা পর্যালোচনা:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময়, বসতবাড়ির আশে-পাশের সড়কে খেলাধুলার সময় নিহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা। ঘরের দরজা খুললেই সড়ক- এমন অবস্থা! এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না। ফলে যানবাহনসমূহ বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের কোনো নিয়ম-নীতি জানে না। এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমাদের শিশুরা নিহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। এটা অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।

Manual4 Ad Code

সৈয়দ আমিরুজ্জামানের প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ :

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “দুর্ঘটনার এই চিত্র বাংলাদেশের সড়কে নিরাপত্তাহীনতা ও সীমাহীন অব্যবস্থার চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালনার প্রাথমিক শিক্ষা কোর্স (ব্যবহারিক সহ) চালু করাসহ দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা,পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করা, সকল সড়ক-মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমানো, গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা, সড়ক, নৌ ও রেলপথে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাসহ
সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালা যথাযথ বাস্তবায়নে নতুন নতুন কৌশল ও ডিজিটালাইজড উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে হবে। সর্বোপরি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও ডিজিটাইজড করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রায় দুই বছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছে, তা বাস্তবায়ন জরুরি।
যাত্রী ও পথচারীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা ও বিধি-বিধান প্রতিপালনে সচেতন হতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে আইন ও শৃঙ্খলা মানার সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে হবে। সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ আইন প্রয়োগে সহায়তা প্রদান করতে হবে।
প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ, মালিক, চালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয়ভাবে সেল তৈরি করে এবং প্রতি বিভাগ ও জেলায় একইভাবে সেল গঠন করে নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং এ সেলকে সর্বদাই সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ