সনেট ও মধুসূদন

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২৬

সনেট ও মধুসূদন

Manual4 Ad Code

জাকারিয়া জামান |

কবিতার একটি বিশেষ ধরনের নাম সনেট। নির্দিষ্ট ছন্দ ও রীতিসহ একটি কবিতাকে সনেট হয়ে উঠতে গেলে এতে অবশ্যই ১৪টি চরণ থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতি চরণে অক্ষরসংখ্যাও হয় ১৪। সনেটের উৎপত্তি হয় ইতালিতে।

Manual5 Ad Code

বলা হয়ে থাকে, সিসিলিয়ান কবি জিয়াকমো দা লেন্টিনির হাতেই সনেটের জন্ম। ইতালিয়ান সনেটো থেকে ইংরেজি সনেট শব্দটি এসেছে। সনেটো অর্থ ক্ষুদ্র গান। বাংলায় সনেটকে চতুর্দশপদী কবিতা বলা হয়ে থাকে।

Manual6 Ad Code

যাঁরা সনেট লিখে থাকেন, ইংরেজিতে তাঁদের সনেটার বলা হয়ে থাকে। সনেটারদের মধ্যে যাঁকে সেরা বলা হয়, তিনি হলেন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার। শেক্সপিয়ার ১৫৪টি সনেট রচনা করেছেন। তাঁর লেখা সনেটগুলোকে শেক্সপিয়ারীয় সনেট বলা হয়।

সব ইংরেজ কবিই যে সনেট রচনার ক্ষেত্রে একই নিয়ম মেনে চলেছেন, তা নয়। বরং বিভিন্ন সময়ে এর রীতি বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়েছে। বিভিন্ন সময় ইংরেজ কবিদের লেখা সনেটে পার্থক্য সুস্পষ্ট। লেন্টিনি সনেট আবিষ্কার করলেও গিউটনে ডি’ অরেজো সনেটের পুনর্জন্ম দেন। তিনি প্রায় ২৫০টি সনেট লেখেন।

প্রথম দিকে বহু ইতালীয় কবিই সনেট লেখেন। তবে তাঁদের মধ্যে ফ্রান্সেসকো পেত্রাকার লেখা সনেটগুলোই সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনিই সনেটের ১৪ লাইনকে অকটেভ ও সেসটেট দুই ভাগে ভাগ করেন। এ ছাড়া জন মিল্টন, এডমুন্ড স্পেনসারও সনেটের ইতিহাসে বিশেষ কৃতিত্বের দাবিদার। মিল্টনই পেত্রার্কান সনেটকে বৈশিষ্ট্যমূলক অবয়ব থেকে মুক্ত করেন। বাংলা ভাষায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাত ধরেই সনেটের যাত্রা শুরু। পেত্রার্কান পদ্ধতিতে লেখা মধুসূদনের সনেটগুলোর সঙ্গে মিল্টনের লেখা সনেটের বেশ মিল পাওয়া যায়। মধুসূদনের মৃত্যুর পর বাংলার সনেট যাত্রা প্রায় থেমেই গিয়েছিল। পরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে আবার জেগে ওঠে বাংলা ভাষার সনেট চর্চা। রবীন্দ্রনাথ ১৩ লাইন ব্যবহার করে সনেট চর্চা করেছেন, যা সনেটের গঠনশৈলীর বিচারে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
#
গ্রন্থনা : জাকারিয়া জামান

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ