সিলেট ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬
শাহ ফখরুজ্জামান | হবিগঞ্জ, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ : ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস কাল।
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে। অস্ত্রের যোগান, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এই সভায়।
৭১-এর মহান স্বাধীনতার ৫৫ বছরে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
জাতির সূর্য সন্তান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ শহীদ ও সকল শহীদ বুদ্ধিজীবী, সম্ভ্রম হারানো ২ লক্ষ মা-বোন, নির্যাতিত পনের লাখেরও বেশি মানুষ, সর্বস্ব হারানো ১ কোটি মানুষসহ গোটা জনগণের লড়াই-সংগ্রাম-ত্যাগ তিতিক্ষা আর অবদানের জন্য তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্ণ হলো এবার। বাঙালি জাতি ও জনগণের বড় ও শ্রেষ্ঠ অর্জন এই স্বাধীনতা। বাংলাদেশের ইতিহাস হলো স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের সুদীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস। এ দেশের মানুষ লড়াই করেছে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর শ্রেণি শোষণ ও জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে। দেশীয় সামরিক-বেসামরিক স্বৈরাচার ও লুটেরা শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে। জনগণের সংগ্রামের মুখেই একদিন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদকে এ দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ চলে গেলেও আমাদের উপর চেপে বসল পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর ঔপনিবেশিক ধরণের শাসন ও শোষণ।
বাংলাদেশের মানুষ প্রথম থেকেই জাতিগত শাসন-শোষণ-বঞ্চণা-অনুন্নয়ন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে- যার চূড়ান্ত রূপ লাভ করল ’৭১-এর সুমহান সশস্ত্র স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ভিতর দিয়ে। অল্পসংখ্যক ঘাতক রাজাকার-আল বদর-আল শামস-শান্তি কমিটির সদস্য ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ধর্ম-বর্ণ-বিশ্বাস-নারী-পুরুষ-আবাল বৃদ্ধ বণিতা-দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতার স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (ভাসানী), অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মোজাফফর), কমরেড মণি সিং-এর নেতৃত্বাধীন কমিউনিষ্ট পার্টি, কাজী জাফর-রাশেদ খান মেনন-হায়দার আকবর খান রনো’র নেতৃত্বাধীন কমিউনিষ্ট পূর্ব বাংলার সমন্বয় কমিটি (বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি), ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন]-(বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী), ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া]-(বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন), কমিউনিষ্ট পূর্ব বাংলার সমন্বয় কমিটি (দেবেন শিকদারের নেতৃত্বে), শ্রমিক-কৃষক কর্মীসংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি (হাতিয়ার), পূর্ব বাংলার কৃষক সমিতি, পূর্ব বাংলা শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন (পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন), পূর্ব বাংলা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নসহ বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও গণ-সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটিসহ অন্যান্য প্রগতিশীল নানা গ্রুপ-দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ফলেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পরাজয় ঘটলো এবং পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অভ্যুদয় ঘটলো। জাতিগত নিপীড়ন ও শোষণের শিকার জনগণের বিজয় অর্জিত হল। কিন্তু যুগযুগব্যাপী এ দেশের কৃষক-শ্রমিকসহ অন্যান্য মেহনতী ও সাধারণ জনগণ শ্রেণি শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির যে আকাঙ্খাকে বুকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে এসেছে, সে আকাঙ্খা পূর্ণ হয় নি। সাম্রাজ্যবাদী শোষণ-লুণ্ঠন-দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াই চলছে।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে ‘৭২-এর সংবিধান প্রণীত হলেও রাষ্ট্রের শ্রেণি চরিত্রে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয় নি। সাম্রাজ্যবাদের ফিন্যান্স পুঁজি জনগণকে নির্মমভাবে শোষণ-লণ্ঠন, ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম করে নিজেদের সম্পদ ও টাকার স্ফীতি ঘটাতেই নিয়োজিত। গ্রামীণ-টেলিনর ও অন্যান্য মোবাইল ফোন কোম্পানিসহ বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর কমিশন এজেন্সী, কালো বাজারী, তেল-গ্যাস-কয়লা-খনিজ-প্রাকৃতিক সম্পদকে দেশের প্রয়োজনে কাজে লাগানোর প্রশ্নে জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে প্রাধান্য না দিয়ে চুক্তি সম্পাদন করে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির হাতে ন্যস্ত করা, চোরাচালানী, বড় বড় কণ্ট্রাক্টরী, জাতীয় শিল্পের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আমদানি-রপ্তানি, সাপ্লাই, মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীসমূহের সহযোগী ও ছোট পার্টনার হিসেবে কাজ করা, বৈষম্যমূলক বিদেশী বিনিয়োগ নীতিমালা, এটাই হচ্ছে বিদেশীদের উন্নয়ন সহায়তার চরিত্র। এই সকল সহায়তা খবরদারিমূলক, আমাদের দেশের জনগণের প্রতি এদের দরদ-সহমর্মিতা বলতে কিছু নেই। এমনকি স্বাধীন ও জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণি হিসেবে গড়ে তোলাসহ স্বয়ম্ভর শিল্পায়নের দিকে ন্যূনতম আগ্রহও দেখা যায় না। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে পুঁজিতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেও মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা শিল্পায়নের একটা উদাহরণ যেভাবে সৃষ্টি করতে পেরেছে; আমাদের দেশেও সেই ধরণের অঙ্গীকার, উদাহরণ ও মডেল সৃষ্টি করা সম্ভব। বাংলাদেশ একটা বড় লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও আমাদের দেশের বুর্জোয়ারা সাম্রাজ্যবাদ, বহুজাতিক কোম্পানী, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত ও তাদের উচ্ছিষ্ট ভোগকারী শ্রেণি হিসেবে এরা কাজ করছে; বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে তাদের একটা ঘনিষ্ঠ স্বার্থের সম্পর্ক রয়েছে।
সাম্রাজ্যবাদী শোষণ-লুণ্ঠনমূলক আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির কারণে দেশের অর্জন, অগ্রগতি, উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, জনগণের মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভূমি সংস্কারসহ কৃষির গণতান্ত্রিক সংস্কার, শিল্পায়ন ও সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়েছে পদে পদে। প্রশাসনে, অর্থনীতিতে ও সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতির কারনে বিরাজ করছে অস্থিরতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, বিশৃঙ্খলা, অনুন্নয়ন ও শোষণ-লুণ্ঠন। জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও এ কারণে গড়ে উঠতে পারেনি। ক্ষমতাধর কিছু ব্যক্তিবগের্র চরম দুর্নীতির মাধ্যমে কালো পুঁজি সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে- যা বিলাসিতা, বিদেশে পাচার ও অনুৎপাদনমূলক ব্যবসার কাজে ব্যয়িত হয়েছে।
প্রতি বৎসর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তেলিয়াপাড়া স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করবে।
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে নেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এম এ জি ওসমানী।
৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কে.এম শফিউল্লাহ্ তার হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এখান থেকে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠে। জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ কয়েকটি সেক্টরের কমান্ডারগণ বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়া সফর করেন। ম্যানেজার বাংলোসহ পাশের এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনানায়কদের পদচারণায় মূখরিত।
১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচন্ড আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার তুলে নেয়া হয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোর পাশে নির্মিত হয় বুলেট আকৃতির মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মৃতিসৌধ।
১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান (অব.) মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বীর উত্তম পিএসসি।
মাধবপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুকোমল রায়সহ স্থানীয় অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাগণ দাবি করেন, তেলিয়াপড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্মৃতি বিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অবশ্যই এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে। অবিলম্বে সেখানে রেস্ট হাউজ, টয়লেট নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি ঐতিহাসিক বাংলোটিকে জাদুঘর করার দাবি দীর্ঘদিনের।
নিচে ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবসকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—
ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া ডাকে আজ ইতিহাস,
চা বাগানের নীরব পথে জাগে রক্তের নিশ্বাস।
ম্যানেজার সেই বাংলো ঘিরে শপথের আগুন,
সেখানে জ্বলে স্বাধীনতার প্রথম প্রজ্জ্বলন।
চার এপ্রিল একাত্তরের সেই গোপন বৈঠক,
সাতাশ জন সেনা অফিসার ইতিহাসের লেখক।
মানচিত্রে তখনও নেই স্বাধীন দেশের নাম,
তবু হৃদয় জুড়ে জ্বলছে স্বাধীনতার দামামা।
ওসমানীর দৃপ্ত কণ্ঠে উঠেছিল শপথ ধ্বনি,
“দেশমাতৃকা মুক্ত করব”— অঙ্গীকারে সবাই ধ্বনি।
পিস্তলের সেই ফাঁকা গুলি আকাশ কাঁপিয়ে কয়,
আজ থেকে আর পিছু হটা নয়, নয় কোনো ভয়।
সেক্টরে ভাগ হলো তখন মুক্তিযুদ্ধ ভূমি,
রণকৌশল ঠিক হলো আর যুদ্ধের নীতি ভূমি।
অস্ত্র কোথা, কেমন করে সংগ্রহ হবে সব,
আন্তর্জাতিক সমর্থনের পরিকল্পনা রব।
তেলিয়াপাড়া নামটি তাই শুধু কোনো গ্রাম নয়,
বাংলাদেশের স্বাধীনতার শপথভূমি হয়।
চা বাগানের সবুজ পাতায় লুকিয়ে আছে গান,
স্বাধীনতার রক্তলেখা, মুক্তিযুদ্ধের মান।
শফিউল্লাহ স্থাপন করলেন হেড কোয়ার্টার এখানে,
মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ নিলো অরণ্য ঘেরা টানে।
সড়ক রেল পথ পাহারা দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল গ্রাম,
সিলেটের পথে যুদ্ধযাত্রা এখান থেকেই থাম।
কত যে গোপন অভিযান এই মাটি থেকে যায়,
কত যে বীরের পদচারণা ইতিহাসে ঠাঁই।
ওসমানী আর সেক্টর কমান্ডার এলেন বারেবার,
তেলিয়াপাড়া হয়ে উঠল যুদ্ধের অগ্নিঘর।
জুনের পরে শত্রু যখন আক্রমণে ভয়ংকর,
হেড কোয়ার্টার সরিয়ে নিতে হলো তখন পর।
তবুও মুছে যায়নি কিছু ইতিহাসের দাগ,
তেলিয়াপাড়া রয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের রাগ।
বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ দাঁড়িয়ে আছে চুপ,
শহীদদের সেই রক্তগাঁথা বলে নিরব রূপ।
শফিউল্লাহ উদ্বোধন করলেন সেই স্মৃতিস্তম্ভ,
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হয়ে আজও অম্লান গম্ভীর।
তিরিশ লাখ শহীদের রক্ত নদীর ঢেউ,
দুই লক্ষ মা-বোনের চোখে অশ্রু ভেজা ঢেউ।
পনের লাখ নির্যাতিত মানুষ ব্যথার গান,
এক কোটি মানুষ হারিয়েছে ঘরবাড়ি সম্মান।
সেই ত্যাগে এই স্বাধীনতা, সেই রক্তে দেশ,
সেই ইতিহাস ভুলে গেলে হবে সর্বনাশ।
স্বাধীনতা শুধু মানচিত্র নয়, নয় শুধু পতাকা,
স্বাধীনতা মানুষের অধিকার, ভাত কাপড় ঢাকা।
ব্রিটিশ গেল, এল আবার শোষণের নতুন রূপ,
পাকিস্তানের শাসন নেমে এলো দুঃখের ধূপ।
ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, সংগ্রামের পথ,
শেষে এলো মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার শপথ।
কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ লড়েছে কাঁধে কাঁধ,
ছাত্র যুবক, শ্রমিক কৃষক, রক্তে লিখেছে সাধ।
বাম প্রগতির রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্র ইউনিয়ন,
সবাই মিলে যুদ্ধ করেছে স্বাধীনতার জন্য।
বাংলাদেশের জন্ম হলো রক্তনদী পেরিয়ে,
নতুন সূর্য উঠল তখন অন্ধকারকে হারিয়ে।
তবু আজও শোষণ আছে, দুর্নীতি আছে দেশ,
স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো পূর্ণ হয়নি শেষ।
স্বাধীনতার মানে শুধু স্মৃতিসৌধ ফুল নয়,
স্বাধীনতার মানে মানুষের অধিকার জয়।
দুর্নীতি আর লুটেরাদের বিরুদ্ধে লড়াই চাই,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আবার জাগ্রত হোক তাই।
তেলিয়াপাড়া শুধু স্মৃতি নয়, প্রেরণার স্থান,
দেশপ্রেমের আগুন জ্বালার পবিত্র তীর্থস্থান।
সেই বাংলোকে জাদুঘর কর, সংরক্ষণ কর আজ,
ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদেরই কাজ।
নতুন প্রজন্ম জানুক এসে কোথায় শপথ হয়,
কোথা থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়।
চা বাগানের নীরব পথে ইতিহাসের ডাক,
তেলিয়াপাড়া বলে আজও — ভুলে যেও না এক।
চার এপ্রিল এলে আবার ইতিহাস ফিরে আসে,
শপথের সেই পিস্তল ধ্বনি বাজে বাতাসে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ ডাক,
তেলিয়াপাড়া চিরকালই ইতিহাসের ফাঁক।
যতদিন লাল সবুজ পতাকা উড়বে বাংলার আকাশে,
ততদিন তেলিয়াপাড়া থাকবে ইতিহাসে।
স্বাধীনতার শপথভূমি, মুক্তিযুদ্ধের দ্বার,
বাংলার হৃদয়ে লেখা থাকবে তেলিয়াপাড়া নাম বারবার।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি