পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার জন্য কমিশন গঠন করা জরুরী: সাইফুল হক

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার জন্য কমিশন গঠন করা জরুরী: সাইফুল হক

Manual7 Ad Code
  • সরকার গঠনের ৫ মাস অতিবাহিত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই: মতবিনিময় সভায় বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেছেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার তাদের ৩১ দফা কর্মসূচিতে একটি বহুজাতিক ও বহুত্ববাদী ‘রেইনবো নেশন’ (Rainbow Nation) গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সরকারের পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা জরুরী।”

আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী কনফারেন্স রুমে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কমরেড সাইফুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও অধিকারহীনতার বিষয়টি বারবার সামনে আনতে হয়, কারণ যুগের পর যুগ সেখানে পাহাড়ি জনগণের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন ও দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কার্যত এক ধরনের অঘোষিত সামরিক শাসন বিদ্যমান। নিরাপত্তার অজুহাতে পুরো অঞ্চলকে অতিমাত্রায় সামরিকীকরণ করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, চলাচল এবং মৌলিক অধিকার বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশ্নকে কেবল একটি আঞ্চলিক বা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সমঅধিকার এবং সাংবিধানিক মর্যাদার প্রশ্ন। তাই পাহাড়ের সংগ্রাম শুধু পাহাড়ি জনগণের নয়, বরং বাংলাদেশের সকল নিপীড়িত, বঞ্চিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের সংগ্রামেরই অংশ। রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সেখানকার জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

Manual5 Ad Code

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের অন্যতম সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ন সমন্বয়কারী জাকির হোসেন, বাংলাদেশ জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ।

Manual5 Ad Code

মতবিনিময় সভায় ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রতিটি জনগোষ্ঠীরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার আলোকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণের ক্ষেত্রেও সেই অধিকার প্রযোজ্য। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, সেই সরকারই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারেনি। পরবর্তীতে টানা প্রায় ১৭ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক ন্যারেটিভ ও দমন নীতির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্য, দমন-পীড়ন এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ আরও গভীর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিতে একটি বহুজাতিক ও বহুত্ববাদী ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, আদিবাসী জনগণের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পার্বত্য চট্টগ্রামকে দীর্ঘদিন সংঘাত, অবিশ্বাস ও অস্থিরতার মধ্যে রেখে বাংলাদেশে টেকসই শান্তি, গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর, তবে সদিচ্ছা আছে কী না সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন কেবল একটি অঞ্চলের মানুষের দাবি নয়; এটি ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ। তাই এই আন্দোলন বাংলাদেশের সকল সচেতন ও গণতন্ত্রমনা নাগরিকেরও আন্দোলন হওয়া উচিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী ও রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আন্তরিকতা, সংলাপ এবং চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চুক্তি কোনো একক দলের সাথে আলোচনা করে হয়নি। এরশাদ সরকার, বিএনপি এবং আওয়ামি লীগ এর সাথে আলোচনা করেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সুতরাং, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো একক দলের কৃতিত্ব নয়। বিএনপি যদি ১৯৯৭ সালে ক্ষমতায় থাকতো তাদের সাথেও একই চুক্তিই হতো। এই চুক্তি হয়েছিল সকল দলে সাথে আলোচনা মাধ্যমে। আজকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায়। আমি মনে করি এই সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এগিয়ে আসবেন।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, প্রতিটি জাতিরই নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকার রয়েছে। সেই বাস্তবতা থেকেই একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগণ তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হয়েছিল। দীর্ঘ ২৪ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এর মৌলিক ধারাগুলোর বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। যেহেতু বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিজেই এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাই এর পূর্ণাঙ্গ ও আন্তরিক বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে চুক্তির অবশিষ্ট ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। চুক্তি বাস্তবায়ন শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির তিন দশক পূর্ণ হতে চলেছে। অথচ এত বছর পরও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যেই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে সেখানে সংঘাতকে জিইয়ে রাখা হয়েছে এবং পার্বত্য অঞ্চলের জনগণকে বরাবরের মতোই বঞ্চনার মধ্যে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আদিবাসী, উপজাতি ও নৃগোষ্ঠী এই পরিচয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করে মূল সমস্যাগুলোকে আড়াল করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ নতুনভাবে একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, জাতি-নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাজধানীতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে, অথচ এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে সমতা, ন্যায়বিচার ও বহুত্ববাদের প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত প্রতিটি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।

Manual5 Ad Code

কমরেড আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া অঞ্চল। পাকিস্তান আমল থেকেই এ অঞ্চলের জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। স্বাধীনতার পরও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের সশস্ত্র সংঘাতের পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আজও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এলেও চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বাংলাদেশের প্রায় এক-দশমাংশ ভূখণ্ডজুড়ে সামরিক উপস্থিতি এখনো বহাল রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের কার্যক্রমের কারণে সংঘাতের পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সংকট ভূমি সমস্যারও কার্যকর সমাধান হয়নি।

Manual1 Ad Code

লিখিত বক্তব্য জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১৮০ দিনের কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে এই কর্মসূচিতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার তালিকার রাখার আহ্বান জানিয়ে গত ৩ মার্চ ২০২৬, আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়োগকৃত অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করার দাবিও জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সরকার গঠনের ৫ মাস অতিবাহিত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে-পাহাড়ি জনগণের সশস্ত্র সংগ্রাম অবসানে ও সমস্যা সমাধানে লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকার প্রয়াস চালিয়েছিল এবং একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবেই সবাই স্বীকার করে নিয়েছিল। সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে এবং এ সমস্যা নিরসনে জনসংহতি সমিতির সাথে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন সরকারসমূহ সংলাপে বসেছিল।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা দেখছি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন অ-পাহাড়ি মন্ত্রী রয়েছেন। তাহলে কি বর্তমান সরকারও আগের সরকারগুলোর নীতির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখবে?”

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগ্রিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের নিকট নিম্নলিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করছি:

১.অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক একজন পাহাড়িকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করা;
২.চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ প্রদানের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা;
৩.পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা;
৪.দ্রুততম সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন করা;
৫.বিধিমালা প্রণয়নসহ পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে’ দ্রুত কার্যকর করা এবং
৬.অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন করা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ