বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬

বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার

Manual3 Ad Code
  • গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ ওয়ার্কার্স পার্টির

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০২৬ : বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ছয়টার দিকে রাজধানীর গুলশানে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছিলেন

গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগেই বুধবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে অন্য একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি জানান, শাপলা চত্বরের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর তিনি সেদিনই জানতে পেরেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আদালত প্রাঙ্গণে তিনি বলেন, “আজ সকালে আমাকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমি জানি, আজ যদি আদালতে না আসতাম, তাহলে মনে করা হতো আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না, সব সময় আত্মপ্রকাশ করি। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি।”

তিনি আরও বলেন, তাঁকে যদি এর আগে গ্রেপ্তার না করা হতো, তাহলে আগামী রোববার অথবা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতেন।

অভিযোগ অস্বীকার

শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন সাবেক এই মন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সে সময়কার কোনো বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

তাঁর এই বক্তব্য আদালতের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

Manual1 Ad Code

আগের মামলাও চলমান

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্টে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার হন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে সেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালে হজ নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত হন এবং পরে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কৃত হন।

Manual4 Ad Code

২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে ওই বছর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদও বিলুপ্ত হয়।

ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা ও প্রতিবাদ

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

Manual6 Ad Code

দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিককে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে তাঁরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সকল নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান।

বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান

Manual7 Ad Code

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো বিচারাধীন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ