হাইকোর্টে আইসিটি মামলায় কমরেড মেনন, মুক্তির দাবি ওয়ার্কার্স পার্টির

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬

হাইকোর্টে আইসিটি মামলায় কমরেড মেনন, মুক্তির দাবি ওয়ার্কার্স পার্টির

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় নেতা কমরেড রাশেদ খান মেননকে হাইকোর্টে আইসিটি মামলায় হাজির করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।

Manual7 Ad Code

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিকসহ দলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, কমরেড আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান, কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড কিশোর রায়, কমরেড জাহাঙ্গীর আলম ফজলুসহ পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মী।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কমরেড রাশেদ খান মেননের আদালতে হাজির হওয়ার খবর পেয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা আদালত এলাকায় উপস্থিত হন। এ সময় তারা তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কমরেড রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

কমরেড রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, শিক্ষা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা দলীয়ভাবে তুলে ধরা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন গণআন্দোলন, কৃষক আন্দোলনসহ শ্রেণি-পেশার সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংগ্রামেও কমরেড রাশেদ খান মেনন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বর্তমানে দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কমরেড রাশেদ খান মেনন দেশের গণমানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থার আমূল-পরিবর্তনের নিমিত্তে সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায় বাংলাদেশের ছাত্র, শ্রমিক ও গণআন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত বলেও তারা উল্লেখ করেন।

Manual6 Ad Code

বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) হাইকোর্টে কমরেড মেননকে হাজির করার পর ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা তাঁর পাশে থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে তারা কমরেড রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কমরেড রাশেদ খান মেননকে ‘জনতার মেনন’ হিসেবে উল্লেখ করে তার মুক্তি চান। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণমানুষের বিভিন্ন দাবি ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা কিংবদন্তিতুল্য এই নেতাকে তারা আবারও সাধারণ মানুষের মাঝে দেখতে চান।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে ‘জনতার মেনন ভাইকে জনতার মাঝে চাই’ এবং ‘মেনন ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি চাই’—এমন স্লোগান দেওয়া হয়।

কমরেড রাশেদ খান মেননের আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং মুক্তির দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটির নেতারা তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে তাঁর মুক্তির দাবিতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন।

তবে আইসিটি মামলাটির অভিযোগ, মামলার বর্তমান আইনি অবস্থান এবং আদালতের পরবর্তী আদেশ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

Manual8 Ad Code

দলীয় পরিচিতি ও রাজনৈতিক ভূমিকা

কমরেড রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত নেতা। ছাত্রজীবনে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তার সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকার কথা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনায় উঠে এসেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের পরও তিনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি হিসেবে ছাত্ররাজনীতিতেও তার পরিচিতি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্বে আসেন এবং দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কারণে বাংলাদেশের বাম ও প্রগতিশীল রাজনীতিতে কমরেড রাশেদ খান মেননের একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তার সমর্থকদের মতে, বিভিন্ন সময়ের গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁর অনন্য ভূমিকা তাকে দেশের অন্যতম পরিচিত গণআন্দোলনের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২৯ জুলাই হাইকোর্টে আইসিটি মামলায় হাজির হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে অবস্থান নেন। তারা বলেন, কমরেড রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক ভূমিকা ও দীর্ঘ সংগ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

‘জনতার মেননকে জনতার মাঝে চাই’—এই দাবিকে সামনে রেখে নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে তাদের অবস্থান জানান।

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ