তিস্তা কেন খনন হচ্ছে না : মেনন

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২২

তিস্তা কেন খনন হচ্ছে না : মেনন

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১১ এপ্রিল ২০২২ : ‘বিভিন্ন স্থানে নদী দখল করে রাস্তাঘাট, দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। টিপামুখ, তিস্তার বাঁধ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এসবের কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর করছি। কিন্তু তিস্তা কেন খনন হচ্ছে না?’
সোমবার (১১ এপ্রিল ২০২২) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের আয়োজিত ‘কৃষকের পানির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি’তে এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি এসব কথা বলেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির অভাবে দুই আদিবাসী কৃষক অভিনাথ ও রবি মার্ডির মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমরেড রাশেদ খান মেনন বলেন, দুই কৃষকের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে কৃষকদের পানি সংকটের বিষয়টি সবার সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে এখন কথা বলার লোকও কমে গেছে। আমরা আমাদের যাবতীয় উন্নয়নের হিসাব করছি জিডিপি, মাথাপিছু আয় দিয়ে। শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে বেশি কিন্তু তারা এখন ধুঁকছে। তাদের সব ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

Manual2 Ad Code

খাদ্য সংকট ও বৈদেশিক নির্ভরতা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ ছিল জানিয়ে কমরেড মেনন বলেন, এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও খাদ্য উৎপাদনের জন্য যে পানি প্রয়োজন এ বিষয়ে আমরা উদাসীন। বরেন্দ্র অঞ্চলে আদিবাসীরাই একসময় বিশাল বিশাল পুকুর খনন করেছিল। এখন সেখানে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর ১ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। সমস্ত পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নদী ব্যবস্থাপনা ও ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

Manual6 Ad Code

ধর্মাশ্রয়ীদের বিপক্ষে এবং কৃষকদের পক্ষে দাঁড়াতে তরুণ, যুবকদের আহ্বান জানিয়েছেন মেনন।
তিনি বলেন, যেখানে বিজ্ঞান পড়াতে গেলে জেলে যেতে হয়, টিপ পড়ার কারণে কথা শুনতে হয় এমন বাংলাদেশ কখনো দেখতে চাইনি। এসব কথা বললে এখন নাস্তিক বলা হয়। তাহলে তো মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, কাজী নজরুল এরা সবাই নাস্তিক ছিলেন।

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি না পেয়ে আত্মহননকারী দুই কৃষক অভিনাথ ও রবি মার্ডির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ১২ দিন অনুরোধ করেও সেচের পানি পায়নি তারা। কৃষকের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটা একটা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।

এক সময়ের কিংবদন্তি বামপন্থী নেতা ও এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হক বলেন, একটি গোষ্ঠী এখন পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। পানির অধিকার সবার আগে কৃষকের। করোনায় এই কৃষকরা আমাদের বাঁচিয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের যারা খাদ্য যোগান দেয় তাদের সম্মান জানাতে হবে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভারতের কৃষকদের মতো রাস্তায় নামতে হবে।

Manual5 Ad Code

জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হরেন্দ্রনাথ শীল ও ফোরামের সভাপতি সঞ্জীব দ্রং।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ