ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস কাল

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৪

ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস কাল

Manual8 Ad Code

শাহ ফখরুজ্জামান | হবিগঞ্জ, ০৩ এপ্রিল ২০২৪ : ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস কাল।

Manual5 Ad Code

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে। অস্ত্রের যোগান, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এই সভায়।

Manual6 Ad Code

প্রতি বৎসর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও এবার রমজানের জন্য সীমিত আকারে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তেলিয়াপাড়া স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করবে।

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে নেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এম এ জি ওসমানী।

৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কে.এম শফিউল্লাহ্ তার হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এখান থেকে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠে। জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ কয়েকটি সেক্টরের কমান্ডারগণ বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়া সফর করেন। ম্যানেজার বাংলোসহ পাশের এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনানায়কদের পদচারণায় মূখরিত।

Manual1 Ad Code

১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচন্ড আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার তুলে নেয়া হয়।

Manual7 Ad Code

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোর পাশে নির্মিত হয় বুলেট আকৃতির মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মৃতিসৌধ।

১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান (অব.) মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বীর উত্তম পিএসসি।

মাধবপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুকোমল রায়সহ স্থানীয় অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাগণ দাবি করেন, তেলিয়াপড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্মৃতি বিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অবশ্যই এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে। অবিলম্বে সেখানে রেস্ট হাউজ, টয়লেট নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি ঐতিহাসিক বাংলোটিকে জাদুঘর করার দাবি দীর্ঘদিনের।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ