এনসিপি নেতা প্রীতম দাশ: সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদদের তালিকায় যাঁর নাম

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২৫

এনসিপি নেতা প্রীতম দাশ: সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদদের তালিকায় যাঁর নাম

Manual6 Ad Code

এম খছরু চৌধুরী |

প্রীতম দাশ। হ্যাঁ, এনসিপি নেতা প্রীতম দাশ। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদদের তালিকায় যাঁর নাম উঠেছে। যাঁকে নিয়ে নিত্যদিন ট্রলিং বুলিং হচ্ছে। আমি নিশ্চিত, বন্ধুর এ পথ চলতে যেয়ে আরও অনেক বেশি আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়বে আমার/আমাদের প্রিয় প্রীতম।

আমাদের প্রীতমের জন্য ভালোবাসা ও নিরন্তর শুভ কামনা। ❤️??❤️

Manual1 Ad Code

ছোট্ট দু’টো ঘটনা থেকে বড় একটা অভিজ্ঞতার জ্ঞান কুড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টাই আজ প্রীতমকে জানাচ্ছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

প্রীতম জানুক, জানুক অন্যরাও। অর্থাৎ প্রীতম দাশ; কবি শাহাদাৎ মান্টুর কবিতার চরণ ফেসবুকে পোস্ট করেছিল, দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বুঝাতে চেয়েছিল। বিগত রেজিমের শ্রীমঙ্গলের ছাত্রলীগের এক পান্ডা এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে ধর্মানুভুতির মামলা করে। প্রীতমকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যায়। আমাকে তখন হিন্দু কমিউনিটির বেশ কয়েকজন কানে-কানে এসে প্রতিক্রিয়া জানান …।

দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে এই প্রীতমদের নেতৃত্বে যখন ১৫ বছরের কয়েদখানা থেকে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ মুক্ত হলো, মাফিয়া জননী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন। লাখো মানুষ মৌলভীবাজারের জেলা উপজেলার রাজপথে বেড়িয়ে এসে যখন আনন্দ করছিল (দুষ্ট চক্রের অনেকে প্রতিহিংসাও চরিতার্থ করছিল) তখনই একটা ফোন আসে আমার শিক্ষা গুরু ধীরাজ ভট্টাচার্য্যের, কথা শেষ করতে না করতেই লন্ডন থেকে দ্বিতীয় ফোন আসে জয়দীপ রায়ের। উভয়ের কড়া অভিযোগ, প্রীতমদের এই আন্দোলনে শ্রীমঙ্গলের মাস্টার পাড়া সহ হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। বাসাবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাথে অভিযুক্ত আমি এবং আমরাও …..। রাত ১২টা হয়ে গেলেও আমরা (ছাত্র নেতা রাজীব, বিশ্ব সহ অনেকেই) কিন্তু পরিবেশ শান্ত রাখতে জেলা শহরের রাজপথেই আছি। সতর্ক নজর রাখছি, দুষ্কৃতকারী কেউ সুযোগ নিচ্ছে কি না? প্রীতমকে ফোন দিয়ে জানলাম, শ্রীমঙ্গলে এরকম কিছু হচ্ছে না। যাক, ফিরতি ফোনে জয়দীপ এবং স্যারকে আশ্বস্ত করতে পারলাম এরকম কিছু হচ্ছে না।

প্রীতমকে নিয়ে আমার গর্ব হয় কেন জানেন? একটা নির্ঝঞ্ঝাট নিরিবিলি পরিবার থেকে প্রীতমকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার দোষের (অবশ্যই গুণের) ভাগিদারদের একজন আমিও।

প্রীতম যে দলের হ’য়ে রাজনীতিতে জড়িয়েছিল, সে দলে থাকেনি। অনেকেই থাকেননি। আজ সে এনসিপি পার্টি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব হ’য়ে সিলেট বিভাগের সর্বত্র তাঁদের নতুন রাজনৈতিক দলকে দাঁড় করানোর সংগ্রাম করছে।

প্রীতমদের নতুন দল — তাঁদের অনেক কিছুই আমার ভালো লাগছে না। আবার বেশ কিছু ভালো লাগবে। এই ভালো লাগা না লাগার নামই গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি। প্রীতমের যে জিনিসটা আমার ভালো লাগে, এর প্রথমটি হলো, আওয়ামী লীগময় ফ্যাসীবাদী বাংলাদেশে আমাদের মৌলভীবাজার জেলায় প্রীতমদের প্রজন্মের দ্বিতীয় কেউ নেই; যে তাঁর মতো সাহস নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরোধিতা করেছে…।

Manual2 Ad Code

দ্বিতীয়ত: শ্রেণিবিভক্ত সমাজে সবাই কোনো না কোনো শ্রেণির রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রীতম এর রাজনীতি যে শ্রেণির-ই পক্ষে যাক, সে তো নেতা হিসেবে আমাদেরকে ছাড়িয়ে গেছে (আমরা যাঁরা তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলাম)। অবশ্য এই ছাড়িয়ে যাওয়াকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখবে/দেখে। ওকে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বুলিং করবে/করে। কারণ এটা আমাদের সংস্কৃতির পশ্চাদপদ দিক। যা আমাদের দৈনন্দিনতায়, শিক্ষায় — ছোটো বেলা থেকেই শেখানো হয়ে থাকে। যেমন, কোনো শিষ্য এগিয়ে গেলে আমরা তাঁকে ‘গুরুমারা বিদ্যা’ শিখেছে ব’লে তাচ্ছিল্য করি। ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ ব’লে স্বার্থপরতার চর্চা করি। ‘রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন’ ধরনের স্ববিরোধীতা শেখাই।

Manual5 Ad Code

প্রীতমরা না-রাগলে, এ প্রজন্মের কিশোররা না-রাগলে কি হাসিনার মাফিয়া রেজিমের পতন হইতো? দেশের প্রবীণ রাজনীতিকরা একটা স্বাধীন দেশ দিয়েছেন, বিনিময়ে এজাতিকে দিতে হয়েছিল এক সাগর রক্ত!  কিন্তু ৫৪ বছরেও সভ্য রাষ্ট্র দিতে পারেননি, রাস্ট্রকে রাস্ট্র হিসেবে মেইক করতে পারেননি — শুনতে অপ্রিয় হলেও এটাই সত্য!

Manual8 Ad Code

রাস্ট্রটা রাস্ট্র হয়ে ওঠেনি ব’লেই এখানে মানুষের জীবন এতো তুচ্ছ হয় — শাসকের বিরোধিতা করলে মিথ্যা মামলা,জেল, মানুষ গুম, খুন হয় এবং  জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অকাতরে জীবন দিতে হয়।

প্রীতমদের কাছে চাওয়া ‘সমাজতন্ত্র’ নয়। বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজও নয়। আমার চাওয়াটা হচ্ছে — আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রের সংস্কার। অর্থাৎ রাষ্ট্রটাকে রাস্ট্র হিসেবে মেইক করার সংগ্রাম জারি রাখা। রাস্ট্রের সংস্কার না হলে এই রাস্ট্র আর রাস্ট্র থাকবে না। ব্যর্থ রাস্ট্র হবে।

‘৭১ আর ‘২৪-এর চেতনাকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ধারণ করেই এই রাস্ট্রটাকে রাস্ট্র বানাতে হবে।
রাষ্ট্রটাকে রাস্ট্র করার সংগ্রামে জয়ী হোক প্রীতমরা। প্রীতমের জন্য ভালোবাসা ও নিরন্তর শুভ কামনা ❤️??❤️. ………
#
এম খছরু চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক
লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ
মৌলভীবাজার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ