টেকসই শক্তি উন্নয়নে নারীর কণ্ঠস্বর অপরিহার্য

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫

টেকসই শক্তি উন্নয়নে নারীর কণ্ঠস্বর অপরিহার্য

Manual2 Ad Code

সৈয়দা হাজেরা সুলতানা |

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে সোলার হোম সিস্টেম, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কিংবা অন্যান্য বিকল্প শক্তি ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ একেবারেই উপেক্ষা করার মতো নয়। বাস্তব চিত্র বলছে, নারীরাই নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির প্রধান ব্যবহারকারী এবং পরিচালনাকারী।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সোলার ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহারে নারীর অংশগ্রহণ দাঁড়িয়েছে ৮৫-৯০ শতাংশের মধ্যে। একইসাথে, সারা দেশে স্থাপিত প্রায় এক লাখ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নারীরাই নিজের হাতে পরিচালনা করছেন। এ তথ্য প্রমাণ করে, গ্রামীণ পর্যায়ে টেকসই শক্তির ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে নারীরা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যেখানে নারীরাই নবায়নযোগ্য শক্তির মূল ব্যবহারকারী, সেখানেই কেন নীতি নির্ধারণের টেবিলে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না? জাতীয় জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের স্তরে নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। এই বৈষম্য দূর করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 5: লিঙ্গ সমতা ও SDG 7: সবার জন্য সাশ্রয়ী ও পরিষ্কার জ্বালানি) অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Manual4 Ad Code

নারীরা ঘরোয়া শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শুধু পরিবার নয়, সমগ্র সমাজে পরিবর্তন আনছেন। সোলার হোম সিস্টেমের আলো তাদের সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়িয়েছে, স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার তৈরি করেছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবহারের ফলে রান্নায় জ্বালানি কাঠের উপর নির্ভরশীলতা কমেছে, পরিবেশ দূষণ কমছে এবং কৃষিকাজে জৈব সার হিসেবে বায়ো-স্লারি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

এ বাস্তবতায় নারীর অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত করা এখন সময়ের দাবি। নারীর নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে তাদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা দরকার। নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রও উন্মোচিত হবে।

Manual4 Ad Code

টেকসই শক্তি উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির ওপর। নারীকে উপেক্ষা করে কোনোভাবেই একটি সবুজ, টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় পর্যায়ে নীতি প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে নারীর কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করতে হবে।

Manual4 Ad Code

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এখন সময় এসেছে এই অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করার—নারীর অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিয়ে। নারী এবং পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে টেকসই শক্তি নির্ভর একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
#
সৈয়দা হাজেরা সুলতানা
পদার্থবিজ্ঞান (সম্মান) ১ম বর্ষ
মুরারিচাঁদ কলেজ
সিলেট।
#
Women are the primary users and managers of renewable technology, yet their voices are missing from policy-making. 43% of solar users are women, 85-90% female participation in solar home systems, 1 lakh bio-gas plants managed by women. Gender equality is essential for sustainable energy development.

#WomenInEnergy #GenderEquality #RenewableEnergy #CleanEnergy #SDG5 #SDG7 #WomenEmpowerment #Inclusion #MJF #ManusherJonnoFoundation #WEE #WomenAndEnergy

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ