নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত বামপন্থী জোহরান মামদানি

প্রকাশিত: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৫

নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত বামপন্থী জোহরান মামদানি

Manual5 Ad Code
প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ও সবচেয়ে কনিষ্ঠ মেয়র

π√π
বিশেষ প্রতিনিধি | নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), ০৫ নভেম্বর ২০২৫ : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করলেন বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে তিনি শহরটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মামদানি একযোগে তিনটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন—তিনি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র এবং এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ মেয়র।

ইতিহাস গড়লেন আফ্রিকাজনিত বংশোদ্ভূত এক তরুণ

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া জোহরান মামদানি বাংলাদেশি পিতা ও উগান্ডান মায়ের সন্তান। কৈশোরে তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়া এলাকাকে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। প্রগতিশীল রাজনীতি, সাশ্রয়ী আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং জনপরিবহন খাতে সংস্কারের দাবিতে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

নির্বাচনের দিনে অ্যাস্টোরিয়ার এক ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন মামদানি। ভোটগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, “এই বিজয় শুধু আমার নয়, এটি নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের বিজয়—যারা বিশ্বাস করেন ন্যায়ভিত্তিক ও সমানাধিকারের শহরে বাস করা সম্ভব।”

রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি

Manual8 Ad Code

শহরের নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৭ লাখ ভোটার অংশ নেন—যা গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৯৩ সালের পর এবারই নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে। তাছাড়া ৭ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে সর্বোচ্চ আগাম ভোটের সংখ্যা।

ভোটগ্রহণ চলে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টা)। এরপরই শুরু হয় ভোটগণনা। ফলাফল ঘোষণার পরপরই শহরজুড়ে মামদানির সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা।

পেছনে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এরিক অ্যাডামস

Manual1 Ad Code

বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস শুরুতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও গত সেপ্টেম্বরেই তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। তার অনুপস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল মূলত তিন প্রার্থীর—মামদানি, কুমো ও স্লিওয়া।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা

জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
এক বিবৃতিতে মৌলভীবাজার জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও আরপি নিউজের সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “জোহরান মামদানির জয় প্রমাণ করেছে—প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আজও গণআন্দোলনের মূল শক্তি। নিউইয়র্কের এই বিজয় বিশ্বব্যাপী তরুণ বাম রাজনীতিকদের অনুপ্রেরণা দেবে।”

Manual5 Ad Code

ভবিষ্যতের অঙ্গীকার

নির্বাচনী ইশতেহারে মামদানি ঘোষণা করেছিলেন—জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি করবেন তিনি। তরুণ ভোটার ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি বিপুল সাড়া ফেলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোহরান মামদানির বিজয় কেবল নিউইয়র্ক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে প্রগতিশীল পরিবর্তনের প্রতীক।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ