সিলেট ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৬
বিশিষ্ট মুল্লা আহমাদুল্লাহ খুব ক্ষোভের সাথে লিখেছেন, পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, অথচ একটি “নাপাক খেলা” উদযাপন করতে মানুষ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে। এদের কারণেই পৃথিবীতে এত দরিদ্রতা।
তার মতে মুসলমানদের এই খেলা বয়কট করা উচিত।
আমি তার সাথে একমত।
তবে উনাকে একটা ছোট্ট প্রশ্ন করতে চাই।
যখন পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, তখন কিছু ক্ষণিকের পোলা ধর্ম প্রচার করতে দিনে পাঁচ জায়গায় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বয়ান করে ৫ লাখ, ১০ লাখ, এমনকি ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্মানী নিয়ে যান কেন, তিন থেকে চার লাখ টাকার হেলিকপ্টার ভাড়া করে। সবার আগে তো এদের বি/চি কেটে দেওয়া উচিত।
যখন পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, তখন এত এত ফাউন্ডেশন, ট্রাস্ট, সংগঠন গড়ে তুলে জনগণের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয় কেন?
যখন পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, তখন বিলাসবহুল গাড়ি, ব্যবসায়িক শ্রেণিতে ভ্রমণ, হেলিকপ্টারে করে ধর্ম প্রচার— এসব কি বন্ধ হওয়া উচিত নয়?
যদি যুক্তি হয় মানুষ ক্ষুধার্ত, তাই খেলাধুলা বন্ধ করতে হবে— তাহলে একই যুক্তি সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এবার আসি ফুটবলের কথায়।
⚽ একটি বল, ৮৫ কোটি মানুষ আর ট্রিলিয়ন ডলারের রুটি-রুজি
আমরা অনেকেই ভাবি ফুটবল মানেই ৯০ মিনিটের খেলা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফুটবল আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি।
এর মধ্যে শুধু প্রত্যক্ষ ভাবেই ৮৫ কোটি মানুষ ফুটবলের বিশাল অর্থনৈতিক চক্রের সাথে জড়িত। পরোক্ষভাবে এই সংখ্যা প্রায় ৪০০ কোটি।
অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে ১ জন কোনো না কোনোভাবে ফুটবল অর্থনীতির অংশ।
ফিফার সদস্য দেশ ২১১টি, যা জাতিসংঘের সদস্য দেশের সংখ্যার চেয়েও বেশি।
শুধু খেলোয়াড় নয়— কোচ, রেফারি, ফিজিও, চিকিৎসক, স্টেডিয়াম কর্মী, সম্প্রচারক, ক্যামেরাম্যান, সাংবাদিক, আইটি টিম, মার্কেটিং কর্মী— কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এই একটি খেলাকে ঘিরে।
আর আসল অর্থনৈতিক শক্তি লুকিয়ে আছে মাঠের বাইরে।
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে বিশ্বের প্রায় ৭০% প্রিমিয়াম ফুটবল তৈরি হয়। সেখানে হাজার হাজার কারখানার লাখ লাখ পরিবার শুধু বল উৎপাদনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।
চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের অসংখ্য গার্মেন্টস কারখানা নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্পোর্টসওয়্যার তৈরি করে টিকে আছে।
বাংলাদেশের গার্মেন্টসগুলো এই ক্ষেত্রে বিশাল বড় অবদান রাখে এখান থেকে বাংলাদেশের প্রচুর রেভিনিউ জেনেরেট হয়।
???????? বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক।
বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ থেকে ১৪ লাখ মানুষ ফুটবলভিত্তিক ব্যবসা ও শিল্পের সাথে জড়িত।
গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের শত শত কারখানায় আন্তর্জাতিক ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সি তৈরি হয়।
এছাড়া দেশীয় ফুটবলে যাবতীয় ইকুইপমেন্ট জার্সি সহ অন্যান্য বিক্রি উৎপাদন এসব ক্ষেত্রে বহু মানুষ এসব কর্মসংস্থানের সাথে জড়িত।
শুধু স্পোর্টসওয়্যার সেক্টরেই কাজ করেন প্রায় ২ থেকে ২.৫ লাখ শ্রমিক।
এছাড়া গুলিস্তানসহ সারা দেশের স্পোর্টস মার্কেট, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থার সাথে যুক্ত আছেন আরও ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ।
এখন একবার কল্পনা করুন—
আজ যদি ফুটবল পুরো পৃথিবী থেকে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কী হবে?
❌ অসংখ্য গার্মেন্টস কারখানা অর্ডার হারিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে।
❌ কোটি কোটি শ্রমিক ও কর্মচারী চাকরি হারাবে।
❌ স্পোর্টস জুতা, বুট, গ্লাভস, বল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরির হাজার হাজার শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
❌ বিশ্বজুড়ে ২০ লাখেরও বেশি স্পোর্টস রিটেইল শপ ও শোরুম বন্ধ হয়ে যাবে।
❌ কোটি কোটি পরিবার আয়ের উৎস হারিয়ে ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়বে।
তখন সেই মানুষগুলোর দায়িত্ব কে নেবে?
তাদের কি বলা হবে— “সব কাজ ছেড়ে দাও, এখন শুধু আল্লাহ-নবীর নাম নাও”?
বাস্তবতা হলো, ইসলাম মানুষকে অলস হতে শেখায় না। ইসলাম মানুষকে হালাল উপার্জন করতে শেখায়।
ফুটবল আজ শুধু একটি খেলা নয়।
ফুটবল মানে ৮৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান।
ফুটবল মানে লাখো কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব।
ফুটবল মানে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি।
আর ফুটবল মানে কোটি কোটি পরিবারের রুটি-রুজি।
তাই কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার আগে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনা করা উচিত।
মানুষের ক্ষুধার কথা যদি বলতেই হয়, তাহলে সেই কথা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে বলা উচিত। তা না হলে মূর্খ হিসেবে গণ্য হয়ে যাবেন।
#
✍️_____বারখার ডায়েরি (পৃষ্ঠা ৩৪৮৪)

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি