অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি অপসারণের চক্রান্তে সমর্থন দেয়নি বিএনপি

প্রকাশিত: ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি অপসারণের চক্রান্তে সমর্থন দেয়নি বিএনপি

Manual6 Ad Code

হায়দার আলী ও জয়নাল আবেদীন | ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণের উদ্দেশে বিভিন্ন মহলের যে চক্রান্ত ছিল, তাতে বিএনপি সায় দেয়নি। এর ফলে ওই অবৈধ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, ওই দুঃসময়ে তিনি একেবারে একা ছিলেন না।

বরং সংকটের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তারা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা তাদের কাছেও অগ্রাধিকার। কোনো অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে তারা ছিলেন না-এই বার্তাটি তাঁকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথা।

তিনি বলেন, তারেক রহমানকে ঘিরে তাঁর মনে শুরুতে নানা কৌতূহল ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ একজন মানুষ। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তাঁদের মধ্যে দুই–তিনবার ফোনে কথা হয় বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। তাঁর ভাষায়, সেই দুঃসময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা ছিল শতভাগ।
রাষ্ট্রপতি জানান, একা তাঁর পক্ষে মনোবল অটুট রাখা সম্ভব হতো না, যদি না বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস ও অভয়বাণী পেতেন। বিশেষ করে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি যেন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবিচল থাকেন। রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, বিএনপির অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট, কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রশ্নে তারা একমত নয়।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, তিন বাহিনীর প্রধানগণ ওই পরিস্থিতিতে দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে ছিলেন এবং নির্ভয়ে তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন।

তাঁদের বক্তব্য ছিল, রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান; রাষ্ট্রপতির পরাজয় মানে তিন বাহিনীরই পরাজয়। এমন পরিস্থিতি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রপতিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে অপসারণের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

Manual1 Ad Code

তাঁর দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাপ থেকেই এসব তৎপরতার সূচনা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলে। একপর্যায়ে এ ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন তৈরি হয় এবং তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলে।

Manual1 Ad Code

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, রাজনৈতিক পর্যায়ে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে খোদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর থেকেই তাঁকে অপসারণের নতুন চেষ্টা করা হয়। এমনকি অসাংবিধানিকভাবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির স্থানে বসানোর চক্রান্তও হয়।

Manual6 Ad Code

তবে প্রধান বিচারপতির অনড় অবস্থান, সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সমর্থন এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট হিসেবে বিএনপির অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়। একই সময়ে বঙ্গভবন ঘিরে বিক্ষোভ ও মব পরিস্থিতিও তৈরি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেনাবাহিনী।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ