মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ

Manual2 Ad Code

মেহেদী হাসান রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আগামী ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রতিদিন যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Manual3 Ad Code

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৬০ হাজার জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩ হাজার নিবন্ধিত। তাদের অধিকাংশই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জাটকা রক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ সময় রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুর হয়ে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ এলাকায় ইলিশ সংরক্ষণ ও আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ নিষিদ্ধ থাকবে। নদী তীরবর্তী ৩০টি মাছ ঘাট এবং বরফকলগুলোও বন্ধ রাখা হবে।

Manual8 Ad Code

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের সহায়তায় চার মাসে প্রতি নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে মোট ১৬০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Manual7 Ad Code

রায়পুরের হাজিমারা সুইসগেট এলাকার জেলে সজল, হানিফ ও মহিউদ্দিন বলেন, “ইলিশ রক্ষায় সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব। তবে জেলেদের পুনর্বাসন ও পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় প্রকৃত জেলেরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।” তারা সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও দ্রুত চাল বিতরণের দাবি জানান।
অন্যদিকে চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজিমারা পর্যন্ত বরফ মিল মালিকরা বলেন, নিষেধাজ্ঞা মেনে বরফকল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ সময় লোকসান গুনতে হয়। সরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো।

রায়পুর ও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান চৌধুরী ও মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালিত হবে। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, “জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে টাস্কফোর্স কাজ করছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফ চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Manual6 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে এ বছর ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ