বিশ্বজয়ী গ্রন্থের অনুবাদ: পদার্থবিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের ‘মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি’

প্রকাশিত: ১:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২৬

বিশ্বজয়ী গ্রন্থের অনুবাদ: পদার্থবিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের ‘মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি’

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৫ মার্চ ২০২৬ : বিশ্ববিখ্যাত বাংলাদেশি পদার্থবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের বিশ্বজয়ী গ্রন্থ The Ultimate Fate of the Universe-এর বাংলা অনুবাদ ‘মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি’ প্রকাশ করে প্রকাশনা সংস্থা নাগরী। অনুবাদ করেছেন অনঙ্গভূষণ দাস।

বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে। প্রকাশের পরপরই এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

কেমব্রিজ থেকে চট্টগ্রাম: এক বিশ্বমানের বিজ্ঞানীর পথচলা

অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ও মহাবিশ্ববিদ্যার (Cosmology) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা থাকা সত্ত্বেও তিনি কেমব্রিজের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন এবং যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। জীবনের বাকি সময় তিনি সেখানেই শিক্ষকতা ও গবেষণায় কাটিয়েছেন।

বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক চর্চা ও গবেষণাকে এগিয়ে নিতে তাঁর ভূমিকা আজও স্মরণীয়।

মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান

Manual6 Ad Code

The Ultimate Fate of the Universe গ্রন্থে অধ্যাপক ইসলাম মহাবিশ্বের শেষ পরিণতি নিয়ে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও মহাকাশবিদ্যার নানা তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেছেন।

বইটিতে তিনি আলোচনা করেছেন—

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ,
নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির ভবিষ্যৎ,
ব্ল্যাক হোলের ভূমিকা,
তাপগতিবিদ্যার নিয়ম ও মহাবিশ্বের শেষ অবস্থা,
মহাবিশ্ব সংকুচিত হবে, নাকি অনন্তকাল প্রসারিত হবে—এই প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ।

জটিল বিষয় হওয়া সত্ত্বেও অধ্যাপক ইসলাম সহজ ভাষায় বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন, যা সাধারণ পাঠকের কাছেও বইটিকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলা অনুবাদ

বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই গ্রন্থ এতদিন বাংলায় অনূদিত হয়নি—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে আক্ষেপ ছিল। অবশেষে সেই শূন্যতা পূরণ করেছে প্রকাশনা সংস্থা নাগরী।

প্রায় দুই বছর আগে অনঙ্গভূষণ দাসের অনুবাদে বইটির বাংলা সংস্করণ প্রকাশিত হয়। পাঠক ও গবেষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুবাদক অনঙ্গভূষণ দাস মূল গ্রন্থের বৈজ্ঞানিক ভাব ও বক্তব্য অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলা ভাষায় সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।

বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন

বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের পাঠকরা মনে করছেন, বাংলা ভাষায় বিশ্বমানের এই গ্রন্থের অনুবাদ তরুণদের মধ্যে মহাবিশ্ববিদ্যা ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বই শুধু বিজ্ঞানচর্চার জন্য নয়, বরং বাঙালি বিজ্ঞানীর বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের এক অনন্য দলিল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

বাঙালি বিজ্ঞানীর বিশ্বজয়

বাংলাদেশি বা বাঙালি বিজ্ঞানীদের লেখা বই আন্তর্জাতিকভাবে এতটা আলোচিত হওয়ার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। সেই দিক থেকে জামাল নজরুল ইসলামের এই গ্রন্থ বাঙালির জন্য এক গর্বের বিষয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বই নতুন প্রজন্মকে শুধু বিজ্ঞান জানার সুযোগই দেয় না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাঙালির মেধা ও অবদানের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিজ্ঞানপ্রেমী পাঠকদের জন্য তাই ‘মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি’ শুধু একটি বই নয়, বরং মহাবিশ্বকে নতুনভাবে ভাবার একটি দরজা।

মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

নক্ষত্রভরা নীরব রাতে মানুষ যখন চেয়ে রয়,
অগণিত আলোর ভিতর প্রশ্ন জাগে—শেষটা কয়?
কোথা হতে এই বিস্তার, কোন্‌ অন্ধকার ভাঙা পথ,
কোথায় গিয়ে থামবে শেষে মহাবিশ্বের অনন্ত রথ।

মহাকাশের নিঃশব্দে যে ধূসর নীল গভীরতা,
তারই বুকে যুগে যুগে জেগেছে কত জিজ্ঞাসা।
গ্যালাক্সিরা ঘুরে ঘুরে আলোর নদী বয়ে যায়,
মানুষ তবু জানতে চায়—শেষে কোথায় থামবে হায়?

এই প্রশ্নের পথ ধরেই এক বাঙালি জাগে নীরব,
বিজ্ঞানপথে দীপ্ত তার ভাবনারা গভীর সুবিবর।
কেমব্রিজের প্রাচীন হলে নক্ষত্রমুখী সেই মন,
সমীকরণে খুঁজে ফেরে মহাবিশ্বের অন্তগমন।

জামাল নজরুল ইসলাম—এক নাম দীপ্ত নক্ষত্রসম,
বাংলার মাটি পেরিয়ে বিশ্বজোড়া জ্ঞানের অনুপ্রম।
তাত্ত্বিক জগতের গভীর সাগর পেরিয়ে চিন্তার পাল,
তিনি খুঁজেছেন মহাবিশ্বের ভবিষ্যতের শেষকাল।

১৯৮৩ সালের প্রভাতে জাগে নতুন আলো,
কেমব্রিজ প্রেস ছাপায় তখন বিশ্বজয়ী বইখানি ভালো।
“দ্য আল্টিমেট ফেট অফ দ্য ইউনিভার্স”—
এক মহাজাগতিক জিজ্ঞাসার বিস্ময়কর সুর।

বইটির পাতায় পাতায় বিস্তৃত সময়ের মহাসাগর,
বিস্তারমান মহাবিশ্বে নক্ষত্রের ভবিষ্যৎ ভর।
কোটি কোটি বছর পরে কী হবে এই তারামেলা,
আলো নিভে যাবে নাকি উঠবে নতুন সৃষ্টি খেলা?

তিনি বলেন—মহাবিশ্ব এক চলমান বিস্ময়ধারা,
বিস্তার তার অনন্ত পথে আলোর মত ছুটে সারা।
গ্যালাক্সিরা দূরে সরে যায় অজানার মহাশূন্যে,
সময়েরা গুনে চলে কোটি কোটি যুগের গুণে।

নক্ষত্রেরা জ্বলে ওঠে, আবার নিভে ধূলি হয়,
ব্ল্যাক হোলের অন্ধকারে আলোও গিয়ে থমকে রয়।
মহাকর্ষের রহস্যঘেরা গভীর নীরব সেই দ্বার,
যেখানে সময় থেমে থাকে অদৃশ্য কোনো অন্ধকার।

তাপগতির বিধান বলে—শীতল হবে সবই একদিন,
তাপের নদী ক্ষীণ হয়ে যাবে সময়ের দীর্ঘদিন।
তারার আলো নিভে গিয়ে জমবে শুধু শীতল ধূলো,
মহাবিশ্বে ভেসে থাকবে অন্ধকারের নিঃসঙ্গ মূল।

Manual8 Ad Code

তবু প্রশ্ন জাগে আবার—শেষ কি সত্যি শেষই তবে?
নতুন কোনো বিস্ফোরণে জন্ম নেবে সৃষ্টি রবে?
সংকোচনের কালো ডাকে ফিরবে কি সব তারাপুঞ্জ,
নাকি বিস্তারই চলবে শুধু সময়স্রোতে অনিঃশেষ গুঞ্জ?

এইসব প্রশ্ন রেখেই তিনি লিখেছেন বিজ্ঞানকাব্য,
সমীকরণের ভাষা পেরিয়ে মানবমনের গভীর অভাব।
জটিল সূত্র সরল করে পাঠকের হাতে তুলে দেন,
মহাবিশ্বের বিস্ময় যেন মানুষেরই আপন চিন।

তবু শুধু বই লিখেই থামেননি সেই জ্ঞানী মন,
ফিরে এসেছেন বাংলাতে ডেকে নিয়ে মাটির স্বর।
কেমব্রিজের খ্যাতি ছেড়ে, সোনালি পথ ছেড়ে দিয়ে,
চট্টগ্রামের শান্ত প্রাঙ্গণে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে।

কত ছাত্রের চোখে তখন জেগেছে নক্ষত্রস্বপ্ন,
বিজ্ঞানপথে হাঁটার শক্তি পেয়েছে নতুন অনুপ্রেরণ।
চট্টগ্রামের নীল পাহাড় আর সাগরের বিস্তৃত ঢেউ,
সাক্ষী থাকে—বিজ্ঞানসাধনায় নিবেদিত এক মন নেউ।

কত রাতে গবেষণাঘরে নীরব কাগজ, নীরব কলম,
সমীকরণের রেখায় জাগে মহাকাশের দূরতম।
মানুষ তখন বুঝতে শেখে—বাঙালির মনও পারে,
মহাবিশ্বের গভীর সত্য ধরতে জ্ঞানের অঙ্গারে।

সময়ের স্রোত বয়ে যায়, বইটি তবু বিশ্বে জাগে,
মহাবিশ্বের শেষ পরিণতি আলোচনায় আলো লাগে।
বিজ্ঞানীদের সভা ঘরে, গবেষণার নীরব টেবিল,
তারই ভাবনা নতুন করে খোলে কত চিন্তার ঢিল।

কিন্তু বাংলার পাঠকেরা এতদিন ছিল বঞ্চিত,
এই অমূল্য জ্ঞানের ধারা মাতৃভাষায় হয়নি লিখিত।
দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ বুকের মাঝে জমে রয়,
মহাবিশ্বের কাহিনি যেন দূরের ভাষায় বন্দী হয়।

অবশেষে এলো সে দিন, খুলল বাংলার নতুন দ্বার,
“মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি”—জাগল ভাষার অহংকার।
অনঙ্গভূষণ দাসের হাতে অনুবাদের আলোকরেখা,
বিজ্ঞানকথা বাংলাতে পেল নতুন স্বচ্ছ দেখা।

প্রকাশনার নাগরী তখন বইটি দিল পাঠকঘরে,
নক্ষত্রজ্ঞান পৌঁছে গেল তরুণ মনের অন্তরে।
সহজ ভাষায় জটিল তত্ত্ব খুলে গেল বিস্ময়দ্বার,
মহাকাশের গল্প যেন বাংলারই আপন ধার।

Manual2 Ad Code

যে তরুণ আজ আকাশ দেখে ভাবে অগণিত তারার গান,
তার হাতে এই বইটি যেন এক মহাজাগতিক মানচিত্রদান।
বিজ্ঞান শুধু সূত্র নয়—স্বপ্নও বটে বিস্তর,
জানার তৃষ্ণা মানুষকে দেয় মহাবিশ্বের ভিতর ঘর।

বাঙালির ইতিহাস জুড়ে জ্ঞানের কত দীপ্ত আলো,
তবু বিশ্বমঞ্চে এমন জয় দেখা যায় খুবই কম ভালো।
সেই কারণেই এই বই শুধু তত্ত্বের নয় স্মারকও বটে,
বাঙালি মেধার জয়ের গান বিশ্বপটে লেখা রটে।

যখন রাতের আকাশ জুড়ে জ্বলে ওঠে অসংখ্য তারা,
মানুষ তখন ভাবতে শেখে—আমরাও সেই আলোধারা।
কোটি বছরের বিস্তার পেরিয়ে জীবন দাঁড়ায় ক্ষণিক তবু,
জিজ্ঞাসাতেই মহত্ত্ব তার, প্রশ্নেই তার সত্য রূপ।

জামাল নজরুল ইসলামের সেই প্রশ্নমুখী দীপ্ত মন,
বাঙালিকে শিখিয়েছে—জ্ঞানই মানুষের চূড়ান্ত ধন।
মহাবিশ্বের অন্তহীন পথে যত দূরেই যাক আলো,
মানুষ তবু খুঁজে নেবে সত্যের সুর, জ্ঞানের ভালো।

হয়তো একদিন নিভে যাবে এই নক্ষত্রভরা আকাশ,
হয়তো মহাবিশ্ব থামবে কোনো নিঃশব্দ অনন্ত নিঃশ্বাস।
তবু মানুষের জিজ্ঞাসা থামবে না সেই মহাকালেও,
প্রশ্ন জাগবে—কী ছিল আগে, কী জন্ম নেবে আবার ঢেউ।

কারণ মানুষ মানেই খোঁজ, মানুষ মানেই আলোর পথ,
মহাবিশ্বের গোপন কথা জানার অন্তহীন রথ।
সেই পথেই এক বাঙালি লিখে গেছেন মহাকাব্য,
বিজ্ঞানের ভাষায় লেখা মহাবিশ্বের অন্ত্যাভাষ্য।

Manual3 Ad Code

আজ তাই বাংলার ঘরে যখন বইটি খোলে নীরব হাতে,
তারার আলো নেমে আসে জ্ঞানের দীপ্ত অক্ষরপাতে।
পাঠক তখন বুঝে নেয়—এই মহাবিশ্ব যত দূর,
মানুষের জ্ঞানপিপাসাই তার সবচেয়ে দীপ্ত সুর।

মহাবিশ্বের চূড়ান্ত শেষে যা-ই থাকুক অন্ধকার,
মানুষের প্রশ্ন থাকবে জ্বলে অনন্ত আলোর পার।
জামাল নজরুল ইসলামের নাম তাই নক্ষত্রসম,
বাঙালির গর্ব হয়ে জ্বলে বিশ্ববিজ্ঞানের গগন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ