সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬
মেহেদী হাসান রাসেল, নিজস্ব প্রতিবেদক | লক্ষ্মীপুর, ১০ মার্চ ২০২৬ : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রির রমরমা ব্যবসা চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
জানা যায়, রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকার গরম বাজার সংলগ্ন স্থানে সাইফুল কবিরাজ নামের এক ব্যক্তি তার নিজস্ব ফসলি জমির উপরিভাগ কেটে মাটি বিক্রি করে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব মাটির প্রধান ক্রেতা এলাকার বিভিন্ন ইটভাটা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে জমির উপরিভাগ কেটে ট্রাকে করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো বিষয় সম্পর্কে আমি আগে জানতাম না। আপনাদের কাছ থেকেই শুনলাম, বিষয়টি আমি নোট করে রাখছি।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে জানিয়েছেন। আমি কী ব্যবস্থা নেব, সেটা আমার বিষয়। আমি অভিযান পরিচালনা করবো, নাকি ডেকে এনে মাটি কাটা বন্ধ করবো—সেটা আমার ব্যাপার।”
এদিকে সাইফুল কবিরাজের কেয়ারটেকার দাবি করেন, স্থানীয় মানুষ গোসল করার জন্য ওই জমি থেকে মাটি কাটছেন। তবে মাটি পরিবহনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন শ্রমিক জানান, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন বেকু দিয়ে জমি কেটে প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ ট্রাক মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় পাঠানো হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ এর ধারা ১৩ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উপরিভাগ থেকে মাটি কাটা বা অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অবৈধভাবে মাটি কাটলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এলাকার উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি