৩ জেলায় তিনদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬

৩ জেলায় তিনদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ

Manual7 Ad Code

শিশির রঞ্জন দত্ত মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ : আজ থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে দেশের ৩টি জেলার ৩টি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব হতে যাচ্ছে।

১. নাটোর সদর মেলার স্থান : নাটোর জেলা পরিষদ হল চত্বর


২.সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় মেলার স্থান : শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠ
৩. বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় মেলার স্থান: শেরপুর সরকারি ডি.জে মডেল হাই স্কুল খেলার মাঠ

প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলার স্টল ক্রেতা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বইমেলায় প্রতিটি বইয়ে রয়েছে ২৫% থেকে ৩৫% পর্যন্ত মূল্যছাড়। আপনারা আপনাদের বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ আমন্ত্রিত।

আসুন, বই পড়ুন, বই কিনুন, চিত্তকে দীপান্বিত করুন।

পাঠের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি

Manual6 Ad Code

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী জানান, কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের “আলোকিত মানুষ গড়ার কর্মযজ্ঞ”-এর অংশ হিসেবেই সারাদেশে “ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি” চালু করা হয়েছে।

তার ভাষায়— “এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হাতে সহজলভ্যভাবে বিশ্বসেরা বইগুলো পৌঁছে দেওয়া। পাঠের আনন্দ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই আমরা আলোকিত সমাজের স্বপ্ন দেখি।”

তিনি জানান, মেলায় গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস, অনুবাদ, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, রূপকথা ও শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে বাছাইকৃত বই পাওয়া যাবে। পাঠপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে বইমেলায় থাকছে বিশেষ মূল্যছাড়ের অফারও।

উদ্বোধনী আয়োজনে পাঠক, সংস্কৃতিসেবী ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী।

Manual8 Ad Code

“জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল যাত্রা”— কমরেড আমিরুজ্জামান

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান মেলার সফলতা কামনা করে বলেন— “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের হাত ধরে ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ৪৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন, চিন্তাশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির নিরলস সাধনায় নিবেদিত।”

তিনি আরও বলেন— “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কোনো গৎবাঁধা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক সজীব অঙ্গন। অনুসন্ধিৎসু ও সৌন্দর্যপ্রবণ মানুষদের মিলনস্থলই এই কেন্দ্র। বই পড়ার অভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও রুচিশীল সংস্কৃতি বিকাশই এর লক্ষ্য।”

তার আশাবাদ— “এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় জ্ঞানপিপাসু মানুষের অংশগ্রহণে ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ আন্দোলন আরও বেগবান হবে।”

পাঠপ্রেমীদের মিলনমেলা: উচ্ছ্বাসে মুখর তরুণ সমাজ

তিন জেলায় বইপ্রেমী মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের দলগতভাবে মেলায় অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণ পাঠকরা বলছেন— এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বইপড়ার আগ্রহ আরও বাড়বে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র: এক আলোকিত যাত্রার ধারাবাহিকতা

Manual5 Ad Code

১৯৭৮ সালে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও প্রজ্ঞামূলক সংস্কৃতিচর্চা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রের পাঠচক্র, লাইব্রেরি ও মোবাইল লাইব্রেরি কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত।

ভ্রাম্যমাণ বইমেলা সেই ধারাবাহিকতারই এক নবীন সংযোজন— যাতে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদেও পৌঁছে যাচ্ছে বই ও আলোচনার জগৎ।

সমাপ্তি ৮ এপ্রিল

আগামী ৮ এপ্রিল, বুধবার মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে। আয়োজকদের আশা— তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন পাঠপ্রেমী মানুষকে নতুন অনুপ্রেরণা দেবে বইপড়া ও জ্ঞানচর্চার পথে এগিয়ে যেতে।

এই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার নয়— এটি জ্ঞান, মনন ও আলোকিত সমাজ গঠনের এক উজ্জ্বল উৎসব।

“বইই মানুষকে আলোকিত করে— সেই আলো ছড়িয়ে দিতেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই যাত্রা।”

Manual1 Ad Code