শ্রীমঙ্গলে শত বছরের বসতভিটা প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ এক সংখ্যালঘু পরিবারের

প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে শত বছরের বসতভিটা প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ এক সংখ্যালঘু পরিবারের

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১০ এপ্রিল ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শত বছরের পুরোনো বসতভিটা প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের পাত্রীকুল গ্রামের নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল দাশ।

মৌখিক চুক্তিতে কেনা জমি, পরে ‘শত্রু সম্পত্তি’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাবুল দাশ জানান, প্রায় একশ’ বছর আগে তার বাবা মৃত রুক্ষিনী দাশ স্থানীয় সত্যেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্যের কাছ থেকে পাত্রীকুল মৌজার আরএস ৫৭৮, ৫৭৭ ও ৫৭৫ নম্বর দাগে মোট ৪২ শতক জমি ক্রয় করেন। সে সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি রেজিস্ট্রির প্রচলন না থাকায় মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতেই জমি ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়।

পরবর্তীতে দলিল করে দেওয়ার আশ্বাস থাকলেও সত্যেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্যের মৃত্যু হলে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ওই সম্পত্তি ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ডিসি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

রেজিস্ট্রির আশ্বাসে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ

বাবুল দাশের দাবি, সত্যেন্দ্র কুমারের ছেলে শুকুমার ভট্টাচার্য (ওরফে হিরক ভট) পরবর্তীতে অর্পিত সম্পত্তি থেকে জমি অবমুক্ত করে তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ প্রক্রিয়ায় মামলা পরিচালনার খরচ বাবদ বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জমি রেজিস্ট্রি না করে নানা টালবাহানা করতে থাকেন শুকুমার ভট্টাচার্য।

গোপনে বিক্রির অভিযোগ

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে বাবুল দাশ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি শুকুমার ভট্টাচার্য গোপনে ওই জমিসহ মোট ২৭ কেয়ার জমি হবিগঞ্জের রিচি এলাকার তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।

গত বছরের ৫ অক্টোবর তাজুল ইসলাম লোকজন নিয়ে এসে জমির মালিকানা দাবি করলে বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন তারা।

স্থানীয়দের সমর্থন, ক্রেতার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ

বাবুল দাশ জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মুরুব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গ্রামের প্রবীণরা স্বীকার করেন যে, দাশ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব উপেক্ষা করে ক্রেতা তাজুল ইসলাম উল্টো দাশ পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

Manual1 Ad Code

উচ্ছেদের শঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে বাবুল দাশ বলেন, “এই জমিই আমাদের একমাত্র সম্বল। প্রতারণার মাধ্যমে আমাদের বসতভিটা অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার একমাত্র ছেলেকে গুম ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া বাড়ির পাশের চলাচলের পথ ও পানির উৎস ব্যবহারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান।

অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুকুমার ভট্টাচার্যের মেয়ে নিবেদিতা ভট্টাচার্য সুমি ফোনে জানান, তার বাবা বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগকারীরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখিয়েছে কি না, সেটি আগে যাচাই করা প্রয়োজন। পরে তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করা হবে এবং এরপর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

Manual3 Ad Code

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাবুল দাশ।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ স্থানীয় শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।