৩৫ বছরেও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি: সরফু

প্রকাশিত: ১:২৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০২৬

৩৫ বছরেও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি: সরফু

Manual3 Ad Code
মেয়র নির্বাচিত হলে তিন বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ৩০ মে ২০২৬ : পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার গত তিন থেকে সাড়ে তিন দশকের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক ছাত্রনেতা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাউন্সিলর এবং আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর সরফরাজ আহমেদ সরফু বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শহরটি তার সম্ভাবনা অনুযায়ী উন্নয়ন লাভ করতে পারেনি।

শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) রাতে শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোড এলাকার গ্র্যান্ড তাজ চাইনিজ রেস্টুরেন্টে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আবুজাফর সালাউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুজার রহমান বাবলা, সদস্য সচিব রুবেল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রবিনসহ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‘সম্ভাবনা থাকলেও উন্নয়ন হয়নি’

Manual8 Ad Code

নৈশভোজের সূচনা বক্তব্যে সরফু বলেন, শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। তার ভাষ্য, গত ৩০ থেকে ৩৫ বছরে পৌরসভায় সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবায়।

তিনি দাবি করেন, পৌরসভায় বিভিন্ন সময় যে বৈদেশিক সহায়তা ও উন্নয়ন তহবিল এসেছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই শহরকে পরিকল্পিত ও আধুনিক রূপ দেওয়া সম্ভব হতো।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

সরফরাজ আহমেদ সরফু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের পাশাপাশি নীরব চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চালু ছিল। তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করা হয়েছে, যার ফলে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কিছু দোকান বরাদ্দ ও ভাড়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তার দাবি, যেখানে একটি দোকানের প্রকৃত মূল্য বা বরাদ্দমূল্য কয়েক লাখ টাকার মধ্যে থাকার কথা, সেখানে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে।

মেয়র পদে নির্বাচনের আগ্রহ

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল একটি ছোট্ট কিন্তু অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শহর, যার পর্যটন গুরুত্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে।

Manual2 Ad Code

তার মতে, সুশাসন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলকে দেশের অন্যতম মডেল পৌরসভায় পরিণত করা সম্ভব।

Manual6 Ad Code

উন্নয়নের তিন অগ্রাধিকার

মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি তিনটি অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন।

প্রথমত, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও একটি পক্ষ এ সম্প্রসারণের বিরোধিতা করছে বলে তার অভিযোগ, তবে জনস্বার্থে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Manual3 Ad Code

দ্বিতীয়ত, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত ময়লার ভাগাড় দ্রুত স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, শহরের যানজট নিরসন, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের মাধ্যমে একটি পর্যটনবান্ধব ও আধুনিক নগর অবকাঠামো গড়ে তোলা।

‘তিন বছরে পরিবর্তন দেখাব’

সরফু বলেন, পৌরবাসী তাকে নির্বাচিত করলে তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করবেন না; বরং তিন বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, “আমাকে মেয়র নির্বাচিত করলে পাঁচ বছর নয়, তিন বছরের মধ্যেই বিগত ৩০ বছরের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করব। যদি ব্যর্থ হই, তাহলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছেড়ে দেব।”

‘প্রথম এবং শেষ নির্বাচন’

নিজেকে শ্রীমঙ্গলের সন্তান উল্লেখ করে সরফু বলেন, তিনি এবারই প্রথম এবং শেষবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে চান। দ্বিতীয়বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও এলাকার একজন নাগরিক হিসেবে শ্রীমঙ্গলের উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবেন।

প্রেসক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ

অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে সরফরাজ আহমেদ সরফু প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমের স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও উন্নয়নমুখী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং শ্রীমঙ্গলের উন্নয়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, দ্রুত নগরায়ণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ