ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা ও প্রবীণ সাংবাদিক কমরেড জালাল উদ্দীন আর নেই

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২৬

ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা ও প্রবীণ সাংবাদিক কমরেড জালাল উদ্দীন আর নেই

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ), ৩০ মে ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি, প্রবীণ সাংবাদিক, চুনারুঘাট ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী এবং চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য কমরেড জালাল উদ্দীন আর নেই।

শনিবার (৩০ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গোগাউড়া গ্রামে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেই নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বড় ছেলে মহিউদ্দিন শাওন জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক বছর ধরে তিনি নানা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মরহুমের জানাজার নামাজ রোববার (৩১ মে) সকাল ১১টায় গোগাউড়া গ্রামের হযরত কাজী খন্দকার মাজার মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

Manual1 Ad Code

রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলা

কমরেড জালাল উদ্দীন ছিলেন দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও সংগঠক। প্রায় ৫২ বছর ধরে তিনি কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে কৃষক-শ্রমিক, মেহনতী মানুষ ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

দলীয় সহকর্মীদের মতে, তিনি ছিলেন একজন আদর্শনিষ্ঠ, ত্যাগী এবং সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। রাজনৈতিক মতাদর্শের পাশাপাশি তিনি মানবিক গুণাবলি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের জন্য সর্বমহলে শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন।

Manual7 Ad Code

রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতাকেও তিনি জনগণের সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিকতায় যুক্ত থেকে তিনি নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন। চুনারুঘাট ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী ও অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয় সংবাদ ও গণমাধ্যম বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য হিসেবে সাংবাদিক সমাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। সহকর্মীরা তাঁকে একজন অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও নীতিবান সাংবাদিক হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

শোকের ছায়া রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে

কমরেড জালাল উদ্দীনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শ্রেণি ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল।

এক যৌথ শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, “কমরেড জালাল উদ্দীন ছিলেন জনগণের রাজনীতির একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শ্রমজীবী ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দল একজন অভিজ্ঞ, আদর্শনিষ্ঠ ও পরীক্ষিত নেতাকে হারাল।”

Manual4 Ad Code

শোক প্রকাশ করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “কমরেড জালাল উদ্দীন ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতির এক নিরলস কর্মী। রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা জীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।”

এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা শাখার সভাপতি কমরেড সিকান্দার আলীও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের কর্মময় জীবনের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

বিভিন্ন সংগঠনের শোক

Manual4 Ad Code

কমরেড জালাল উদ্দীনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা শাখা। একই সঙ্গে জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক নেতারা, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি কমরেড আব্দুল আহাদ মিনার বলেন, “কমরেড জালাল উদ্দীন ছিলেন সংগ্রামী রাজনৈতিক ধারার একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। তাঁর মৃত্যু প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

মানুষের কাছে ছিলেন আপনজন

স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কমরেড জালাল উদ্দীন ছিলেন সহজ-সরল, মানবিক ও জনমুখী একজন মানুষ। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। ফলে তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা বা সাংবাদিক হিসেবেই নয়, একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তি হিসেবেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে চুনারুঘাটসহ বৃহত্তর হবিগঞ্জ ও সিলেট বিভাগীয় অঞ্চলে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ তাঁর কর্মময় জীবন, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং সমাজের প্রতি অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।

কমরেড জালাল উদ্দীনের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংবাদিকতায় অবদান এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড আগামী প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।