সাংবাদিক কাজী সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি: ডিআরইউর উদ্বেগ

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬

সাংবাদিক কাজী সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি: ডিআরইউর উদ্বেগ

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০২ জুন ২০২৬ : বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সাবেক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক কাজী মুহাঃ আফিফুজ্জামান (কাজী সোহাগ)-কে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ঘটনাটিকে শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Manual3 Ad Code

মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডিআরইউর দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা সহিংসতার মুখোমুখি হওয়া একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। একজন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া কেবল তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে না, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

Manual2 Ad Code

তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিক কাজী সোহাগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Manual6 Ad Code

জিডিতে যা উল্লেখ করা হয়েছে

Manual4 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনে অবস্থানকালে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ‘ফয়সাল’ নামধারী এক ব্যক্তি সাংবাদিক কাজী সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি দেশে ফিরে তাকে দেখে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যারও হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে কাজী সোহাগ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি হুমকিদাতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ

ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের ওপর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে অনুসন্ধানী ও স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। তারা এ ধরনের ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক নেতাদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো সাংবাদিককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হুমকির মুখে পড়তে হলে তা স্বাধীন মতপ্রকাশ ও তথ্যপ্রবাহের জন্যও অশনিসংকেত।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের উদ্বেগ

সাংবাদিক কাজী সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সাংবাদিক কাজী সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমি এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত, হুমকিদাতাদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কাজী সোহাগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

সাংবাদিক সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনাটির দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক কাজী সোহাগের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা সহিংসতার ঘটনা দৃষ্টান্তমূলকভাবে মোকাবিলা করা না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপদ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।