ভাষাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি গবেষক অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়া স্মরণে

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬

ভাষাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি গবেষক অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়া স্মরণে

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ২৩ জুলাই ২০২৬ : ভাষাতত্ত্ব, লোকসংস্কৃতি গবেষণা এবং নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে এক অনন্য অবদান রেখে যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়ার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২১ সালের ২৩ জুলাই ভোরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি গবেষণার অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল, পাঁচ বছর পরও তা অনুভূত হচ্ছে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে।

অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়া ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক এবং বাঙালির ভাষা, সাহিত্য ও লোকঐতিহ্যের অনুসন্ধিৎসু অধ্যাপক। ভাষাতত্ত্ব, লোকসংস্কৃতি, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য এবং নারীর সামাজিক অবস্থান নিয়ে তাঁর গবেষণা শিক্ষাঙ্গন ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে বিশেষভাবে সমাদৃত। গবেষণার পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা এবং গবেষণামনস্কতা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার তেকোটা গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা প্রকৌশলী স্বপন কান্তি বড়ুয়া পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং পটিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। মাতা প্রীতি বড়ুয়া ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব বাসাবি বড়ুয়ার শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় একই বোর্ডের সম্মিলিত মেধাতালিকায় দশম স্থান লাভ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জ্ঞানচর্চার প্রতি গভীর আগ্রহ তাঁকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) নিয়ে যায়। সেখানে তিনি দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ভাষা ও সংস্কৃতি গবেষণায় নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা জীবনে তিনি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীবান্ধব, দায়িত্বশীল এবং গবেষণায় উৎসাহদাতা। তাঁর ক্লাস ছিল তথ্যনির্ভর, বিশ্লেষণধর্মী এবং সমকালীন প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন।

গবেষক হিসেবে অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়ার কাজের পরিধি ছিল বিস্তৃত। ভাষাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিকাশ নিয়ে তিনি বিভিন্ন গবেষণাপত্র রচনা করেন। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের অমূল্য নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ নিয়ে তাঁর গবেষণাধর্মী লেখাগুলো গবেষক মহলে প্রশংসিত হয়। বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিবর্তন এবং আঞ্চলিক ভাষার বৈশিষ্ট্য নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালনা করেন।

সহকর্মীদের মতে, বাসাবি বড়ুয়া শুধু একজন দক্ষ শিক্ষকই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান গবেষক, যিনি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও বিশ্বাসী ছিলেন। গবেষণাকে তিনি সমাজ পরিবর্তনের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে তাঁর গবেষণা দেশের উচ্চশিক্ষা ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

তাঁর শিক্ষার্থীরা স্মরণ করেন, তিনি সবসময় নতুন বিষয়ে গবেষণা, মৌলিক চিন্তা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক চর্চায় উৎসাহ দিতেন। গবেষণায় সততা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং বিশ্লেষণী দক্ষতার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতেন। অনেক তরুণ গবেষক তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও অনুপ্রেরণায় গবেষণায় যুক্ত হয়েছেন।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্মৃতিচারণ করে তাঁর গবেষণা, মানবিক গুণাবলি এবং শিক্ষা বিস্তারে অবদানের কথা তুলে ধরছেন।

ভাষাতত্ত্ব, লোকসংস্কৃতি গবেষণা এবং নারী অধিকার বিষয়ে তাঁর চিন্তা ও গবেষণা আগামী প্রজন্মের গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করেন সহকর্মীরা। তাঁদের মতে, অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়ার কর্ম, গবেষণা এবং জ্ঞানচর্চার উত্তরাধিকার বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি গবেষণার ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়া স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

আলোর উত্তরাধিকার
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

আজও ভোরের আকাশ জুড়ে নীরব আলোর ঢেউ,
মেঘের ভাঁজে বাজে যেন অশ্রুর গোপন বেণু।
ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা তেইশে জুলাই আজ,
স্মৃতির ভেতর জেগে ওঠে বিষণ্নতার সাজ।

পাঁচটি বছর কেটে গেছে সময়েরই স্রোতে,
তবু যেন তাঁর পদধ্বনি বাজে নিত্য পথে।
চট্টগ্রামের পাহাড় ডাকে, ডাকে কর্ণফুলী,
নীরব হয়ে স্মরণ করে এক আলোকিত বুলি।

যিনি ছিলেন ভাষার সাধক, লোকজ মাটির প্রাণ,
যিনি ছিলেন জ্ঞানের দীপে উদ্ভাসিত সম্মান।
গবেষণার গভীর জলে ডুব দিয়েছেন যিনি,
অক্ষরজোড়া স্বপ্ন বুনে লিখেছেন আলোকবাণী।

তিনি শুধু শিক্ষক নন, ছিলেন মহীরুহ,
তাঁর ছায়াতে আশ্রয় পেত ভবিষ্যতের মুখ।
শ্রেণিকক্ষে জ্বালতেন তিনি প্রশ্নের দীপশিখা,
জানার নেশায় খুলে দিতেন নতুন পথের দিশা।

তথ্যের সাথে যুক্তি মিশে গড়ত নতুন সুর,
চিন্তার সাথে মনন মিলত দূর থেকে সুদূর।
শিক্ষার্থীরা শিখত কেবল পাঠ্যবইয়ের পাঠ?
না, শিখত তারা মানুষ হবার অনিবার্য প্রভাত।

যে শিক্ষকটি বলতেন সদা—
“সত্যের কাছে নত হও,
মৌলিক চিন্তা লালন করো,
নিজের আলো জ্বালাও।”

সেই কণ্ঠস্বর আজও ভেসে
আসে শ্রেণির দ্বারে,
আজও কত গবেষক চলে
তাঁরই দেখানো ধারে।

চট্টগ্রামের পটিয়ার সেই তেকোটা গ্রামের ধূলি,
আজও যেন আপন কন্যার স্মৃতি বুকে তুলি।
সেই মাটিতেই প্রথম শিখে স্বপ্ন দেখার গান,
সেই মাটিতেই জেগেছিল এক আলোকিত প্রাণ।

শৈশব থেকে মেধার দীপ্তি ছিল অবিরাম,
জয়ের পথে লিখেছিলেন সম্ভাবনার নাম।
বোর্ডের মেধাতালিকাতে উজ্জ্বল প্রথম সারি,
স্বপ্ন তখন ডানা মেলে আরও বহুদূর পাড়ি।

Manual4 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জ্ঞানের ফুল,
চিন্তার সাথে যুক্ত হলো ইতিহাসের কূল।
তারপর পেরোলেন তিনি সীমান্তেরও পার,
জওহরলাল নেহেরুর সেই বিদ্যাপীঠ অপার।

শুধু ডিগ্রি নয়, অর্জন ছিল গবেষণার প্রাণ,
জ্ঞানকে কীভাবে সমাজমুখী করবে একজন জ্ঞানীজন।
প্রতিটি অধ্যয়ন ছিল দায়বদ্ধতার সুর,
মানুষ যেন মানুষ হয়—এই ছিল অন্তঃপুর।

লোকসংস্কৃতির প্রতিটি গান, প্রতিটি পালা-কথা,
গ্রামবাংলার ধুলো মেখে খুঁজেছেন তার ব্যথা।
বাউলের বুকে, ভাটিয়ালিতে, জারি আর সারিগান,
তিনি শুনেছেন বাংলারই ইতিহাসের টান।

চর্যাপদের নিভৃত বাণী, প্রাচীন শব্দরাশি,
তাঁর বিশ্লেষণ ছুঁয়ে পেল নবজাগরণের ভাষা।
অক্ষরেরও জন্মকথা, ধ্বনির গোপন ঢেউ,
তাঁর কলমে জেগে উঠত বিস্ময়েরই ঢেউ।

আঞ্চলিক সব শব্দ যেন নদীর শাখানদী,
তাঁর গবেষণায় পেয়েছে তাই নতুন পরিচয়বোধই।
বাংলা ভাষার বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাসখানি,
তাঁর অধ্যবসায় আলোকিত করেছে নিরবধি।

Manual8 Ad Code

তিনি জানতেন—
ভাষা মানে কেবল শব্দ নয়,
ভাষা মানে মানুষের জীবন,
অশ্রু, হাসি, পরিচয়।

Manual7 Ad Code

লোকসংস্কৃতি কেবল নয়
গানের অলংকার,
এতে লুকায় জাতির আত্মা,
অস্তিত্বের অধিকার।

নারীর শিক্ষা, নারীর মুক্তি,
ছিল তাঁরই ব্রত,
সমতার সেই দীপশিখাতে
জ্বলত তাঁরই রথ।

তিনি বলতেন—
একটি কন্যা শিক্ষিত হলে
জাগে একটি ঘর,
একটি নারী জেগে উঠলে
জাগে সমাজভর।

গবেষণার প্রতিটি পৃষ্ঠায়
ছিল মানবতার ডাক,
ক্ষমতায়ন মানে কেবল
আইনের নয় ফাঁক।

সমঅধিকার প্রতিষ্ঠাতে
কলম ছিল হাতিয়ার,
সাহস ছিল যুক্তিবাদী,
স্বপ্ন ছিল অপরিসীম আর।

কত তরুণ গবেষকের হাতে
দিয়েছেন প্রথম বই,
কতজনকে বলেছেন হেসে—
“থেমো না, এগিয়ে রই।”

কত অজানা প্রশ্নকে তিনি
করেছেন আলোকিত,
কত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী
হয়েছে অনুপ্রাণিত।

একটি গবেষণাগার যখন
হতো চিন্তার ক্ষেত্র,
তিনি সেখানে বপন করতেন
ভবিষ্যতের বীজ।

তথ্যের প্রতি সততা ছিল
তাঁর নিত্য ধর্ম,
মিথ্যার সাথে আপস করা
ছিল না তাঁর কর্ম।

জ্ঞানকে তিনি দেখতেন সদা
মানুষ গড়ার সোপান,
পদ-পদবি নয়, মানুষ হও—
এই ছিল আহ্বান।

আজও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
যখন জেগে রয়,
কোনো শ্রেণির নীরব কোণে
তাঁরই প্রতিধ্বনি বই।

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
স্মৃতির প্রদীপ জ্বালে,
প্রতিটি দেয়াল বলে ওঠে—
“তিনি আছেন কালে কালে।”

সহকর্মীরা স্মরণ করেন
সহজ হাসির মুখ,
গভীর জ্ঞানে বিনয় মেশা
অপরূপ সেই সুখ।

তিনি ছিলেন গবেষণাতে
অসীম নিষ্ঠাবান,
মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে ছিলেন
চিরকাল অবিচল প্রাণ।

আজ সামাজিক যোগাযোগে
অগণনেরই ভাষা,
তাঁর স্মৃতিতে লিখছে সবাই
ভালোবাসার আশা।

কারও চোখে শিক্ষক তিনি,
কারও চোখে মা,
কারও কাছে গবেষণার
প্রথম দিশারী তা।

কেউ বলেন—তিনি সাহস শিখিয়েছেন,
কেউ বলেন—স্বপ্ন,
কেউ বলেন—তিনি দেখিয়েছেন
অন্ধকারেও প্রভাত।

যে মানুষটি জীবনভর
জ্বালিয়েছেন প্রদীপ,
মৃত্যু কি তার আলোর কাছে
হতে পারে নীরব?

মৃত্যু শুধু শরীর নেয়,
কর্মকে নেয় না,
সত্যের পথে চলা মানুষ
হারিয়ে যায় না।

যতদিন বাংলা ভাষা বাঁচে,
বাঁচে লোকগান,
ততদিন তাঁর নামটি রবে
শ্রদ্ধার সম্মান।

যতদিন গবেষক খুঁজবে
চর্যার গোপন ধ্বনি,
ততদিনই বাসাবি নাম
জাগাবে নতুন বাণী।

যতদিন নারী এগিয়ে যাবে
স্বপ্নভরা পথে,
ততদিন তাঁর চিন্তাধারা
রবে মানুষের রথে।

যতদিন কোনো শিক্ষক বলবেন—
“প্রশ্ন করো নির্ভয়,”
ততদিন তাঁর জীবনগাঁথা
থাকবে আলোময়।

Manual1 Ad Code

আজ পঞ্চম এই মৃত্যুদিনে
নত করি শির,
বাংলার জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি
চিরঋদ্ধ অধীর।

হে ভাষার সাধক,
হে লোকঐতিহ্যের নিরলস অভিযাত্রী,
হে গবেষণার প্রহরী,
হে আলোকিত শিক্ষক,

আপনার রেখে যাওয়া
অক্ষরের প্রদীপ
এখনও জ্বলে—
শিক্ষার্থীর চোখে,
গবেষকের কলমে,
বাংলার লোকগানে,
নারীর জাগরণে,
মানবতার স্বপ্নে।

আপনি নেই—
তবু আছেন।

আপনি নীরব—
তবু উচ্চারিত।

আপনি দূরে—
তবু অন্তরে।

সময়ের দীর্ঘ নদী
আরও বহুদূর বয়ে যাবে,
প্রজন্ম বদলাবে,
মানচিত্র পাল্টাবে,
নতুন নতুন গবেষণা
লিখবে নতুন ইতিহাস।

কিন্তু যখনই কেউ
বাংলা ভাষার শিকড় খুঁজবে,
লোকসংস্কৃতির ভাঁজে
জাতিস্মৃতির আলো দেখবে,
নারীর মুক্তির ইতিহাসে
আলোকিত পথরেখা আঁকবে,
তখনই উচ্চারিত হবে
একটি প্রিয় নাম—

অধ্যাপক বাসাবি বড়ুয়া।

আপনার কর্মই আপনার স্মৃতিস্তম্ভ,
আপনার গবেষণাই আপনার অমরত্ব,
আপনার শিক্ষা আমাদের দায়,
আপনার আদর্শ আমাদের প্রেরণা।

বাংলার মাটি আপনাকে স্মরণ রাখুক,
বাংলার ভাষা আপনাকে ধারণ করুক,
বাংলার মানুষ আপনার আলোর ঋণ
চিরদিন কৃতজ্ঞতায় বহন করুক।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীর এই নীরব প্রহরে
শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার
অক্ষয় অর্ঘ্য নিবেদন করি—

আপনি অম্লান।
আপনি অনির্বাণ।
আপনি বাংলা ভাষা ও লোকঐতিহ্যের
চিরজাগ্রত দীপশিখা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ