বিটচ্যাট বন্ধের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ও কর্তৃত্ববাদী: সিপিআই(এম)

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬

বিটচ্যাট বন্ধের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ও কর্তৃত্ববাদী: সিপিআই(এম)

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | নয়াদিল্লি (ভারত), ২৫ জুলাই ২০২৬ : ওপেন সোর্স মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন বিটচ্যাট (BitChat) বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)—সিপিআই(এম)। দলটির পলিট ব্যুরোর অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত ও যোগাযোগ করার অধিকারের ওপর ‘কর্তৃত্ববাদী আঘাত’।

Manual7 Ad Code

২৫ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিপিআই(এম) বলেছে, বিটচ্যাট বন্ধের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা জনসমক্ষে আদেশ প্রকাশ করা হয়নি। অ্যাপটির উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত জ্যাক ডরসির একটি প্রকাশ্য পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে বলেও দাবি করেছে দলটি। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের গোপনীয় ও স্বচ্ছতাহীন সেন্সরশিপ সাংবিধানিক গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Manual8 Ad Code

সিপিআই(এম) আরও দাবি করেছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) থেকে জারি করা একটি কথিত নির্দেশে গিটহাবকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিটচ্যাটের রিপোজিটরিগুলোতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে বলা হয় এবং তা না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়। তবে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

Manual4 Ad Code

দলটির অভিযোগ, সরকারের আপত্তি বিটচ্যাটে কোনো নির্দিষ্ট বেআইনি কনটেন্ট থাকার কারণে নয়; বরং এমন একটি যোগাযোগব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়েই আপত্তি, যা ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ব্যবহারকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার সুযোগ দিতে পারে। সিপিআই(এম)-এর দাবি, এর মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার পরও নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Manual3 Ad Code

বিবৃতিতে বিটচ্যাট বন্ধের ঘটনাকে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী ও তরুণদের চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত করেছে সিপিআই(এম)। দলটির দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়ের দাবিতে সেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছে। ওই এলাকায় একাধিকবার ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত, মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ব্যারিকেড স্থাপন এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের অভিযোগও তুলেছে দলটি।

সিপিআই(এম) বলেছে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে মতপ্রকাশ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে আইনসম্মততা, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার পরীক্ষা পূরণের কথা বলেছে। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বন্ধ করার উদ্যোগ সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে।

বিটচ্যাট বন্ধের কথিত নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার, যেখানে ‘ইচ্ছামতো’ ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে সেখানে তা পুনর্বহাল, এ ধরনের সব সেন্সরশিপ ও ইন্টারনেট শাটডাউন সংক্রান্ত আদেশ প্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে সিপিআই(এম)।

দলটি আরও বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, অবাধ যোগাযোগ এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকার সংবিধান-স্বীকৃত মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। গোপনীয়তা, সেন্সরশিপ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনো সরকার এসব অধিকার হরণ করতে পারে না বলেও দাবি করেছে তারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ