তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরে বিআরটিসির কঠোর অবস্থান

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরে বিআরটিসির কঠোর অবস্থান

Manual7 Ad Code
  • সব ধরনের গণপরিবহনে ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বহন-ব্যবহার নিষিদ্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬ : গণপরিবহনকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত ও তামাকমুক্ত পরিবেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিআরটিসিসহ দেশের সব ধরনের গণপরিবহনে ধূমপান এবং তামাক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বহন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত “বিআরটিসি প্রশিক্ষণ মডিউলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে করণীয়” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) এবং সহযোগিতা করে উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস্)।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, গণপরিবহন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়; প্রতিদিন লাখো মানুষের নিরাপদ চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই যাত্রী, চালক ও সহকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। তিনি বলেন, ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিবহন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত তদারকি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডাস্-এর নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির কর্মসূচি সমন্বয়কারী মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু।

স্বাগত বক্তব্যে বিআরটিসির প্রশিক্ষণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার ফাতেমা বেগম বলেন, চালক, সহকারী ও প্রশিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না। তাই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে আইন, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Manual5 Ad Code

কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরে ডাস্-এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল বলেন, গণপরিবহনে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাস্-এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট লিড কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক। তিনি ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা, গণপরিবহনে আইন প্রয়োগের বাধ্যবাধকতা, বিদ্যমান শাস্তির বিধান এবং প্রশিক্ষকদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতোই মারাত্মক। গণপরিবহনে একজনের ধূমপান একই সঙ্গে বহু যাত্রীর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। এ কারণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।

বিআরটিসি প্রশিক্ষণ বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার (কারিগরি) মো. জান্নাতুল ফেরদৌস তামাক নিয়ন্ত্রণে বিআরটিসির গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, চালক ও সহকারীদের ধূমপানমুক্ত আচরণ নিশ্চিত করা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিআরটিসি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

Manual1 Ad Code

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; চালক, সহকারী, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। তারা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা চালক ও সহকারীদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করা, সব গণপরিবহনে বাধ্যতামূলকভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সাইনেজ স্থাপন, পরোক্ষ ধূমপান ও অগ্নিঝুঁকিসহ তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ জোরদার, তামাক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিবহনে গণপরিবহন ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (WHO FCTC)-এর Article 5.3 কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিআরটিসির বাসে চালক ও সহকারীদের ধূমপানমুক্ত চর্চাকে দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনেও সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।

কর্মশালায় বিআরটিসির ৩৫ জন প্রশিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, প্রশিক্ষণ মডিউলে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়বস্তু সংযোজন, মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের প্রতিবন্ধকতা এবং বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাস টার্মিনাল, কাউন্টার এবং যানবাহনের ভেতরে নিয়মিত প্রচার, সতর্কীকরণ বার্তা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে আইনের কার্যকারিতা আরও বাড়বে।

অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে বিআরটিসির প্রশিক্ষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়কে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে একটি টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হবে, যা দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ