মেয়েরা কী চায়: দাম্পত্যে উপহারের চেয়ে বেশি জরুরি মনোযোগ ও মর্যাদা

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২৬

মেয়েরা কী চায়: দাম্পত্যে উপহারের চেয়ে বেশি জরুরি মনোযোগ ও মর্যাদা

Manual8 Ad Code

শাহনুর সারমিন |

মেয়েরা আসলে কি চায়? তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে? মোদ্দা কথায় তাদের স্বামীদের কাছ থেকে? আমি দেখেছি অধিকাংশ মেয়ে একটু মনোযোগ চায়, খানিকটা যত্ন চায়। আপনি যত যাই দিন না কেন, জড়োয়ার গহনা কিংবা বাড়ি গাড়ি জায়গা জমি, দিন শেষে প্রায় সকলেই চায় তাদের সবচেয়ে কাছের মানুষটার কাছ থেকে আদর যত্ন আর মনোযোগ। খুব একটা দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই আপাতদৃষ্টিতে সামান্য জিনিসটাই মেলেনা সহজে। কারণ আমাদের সমাজে স্ত্রীদের জন্য শয়নগৃহের অন্তরালে খানিকটা ভালোবাসা বরাদ্দ হলেও প্রকাশ্যে নিজ ঘরের ঘরনিকে কেয়ার করা, যত্ন করা বলতে পারেন একটা সামাজিক অপরাধের সামিল। বউকে বেশি মাথায় তুলতে নেই, পাত্তা দিতে নেই, এসব শিখেই আমাদের ছেলেরা বড়ো হয়। তাই নিজ স্ত্রীকে খেয়াল করা, প্রকাশ্যে ভালোবাসা প্রদর্শন করা মানেই পৌরষত্বের চরম বরখেলাপ! স্ত্রৈণ বলে একটা শব্দ আমাদের অভিধানে আছে যার অর্থ স্ত্রীর বশীভূত, অনুগত, স্ত্রীকে ভয় করে চলা পুরুষ, যা খুবই নেতিবাচক ভাবে ব্যবহৃত হয়। অথচ এর কোন নারীবাচক শব্দ নেই! মানে হলো মহিলা স্ত্রৈণ হলে বেশ ভালো, কিন্তু পুরুষ হলেই মুশকিল! আমাদের সমাজে সবাইকে গুরুত্ব দেয়া যাবে, মা বোন তো বটেই, এমনকি পাড়ার কাকি খালা, পাশের বাড়ির ভাবি, সবাই হলে হবে, কিন্তু বউকে গুরুত্ব দিলেই গেল গেল রব! পুরুষত্ব একেবারে ভূলন্ঠিত অবস্থা! বউকে গুরুত্ব দিলে বা যত্ন করলেই অবধারিতভাবে তা মায়ের সাথে তুলনায় চলে আসে। অথচ তুলনায় আসার কোনরকম যুক্তিই নেই, এদের দুজনেই দুজনের জায়গায় পূর্ণ সম্মান নিয়ে থাকতে পারেন।

Manual2 Ad Code

আমার রোগীরা প্রায় সময়ই খুব করুন মুখে অনুরোধ করেন তাদের স্বামীদের দুকলম লিখে দিতে, তাদের যাতে আদর যত্ন করা হয়, যাতে তারা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কাছে খানিকটা গুরুত্ব পান। আমি মনে মনে দুঃখের হাসি দেই, ভাবি, আহারে বোকা মেয়েটা! যে মানুষটা সারাজীবন ভেবেই এসেছে আর যাকে হোক বউকে মাথায় তোলা যাবেনা, বউকে ভালোবাসা দেখানো যাবেনা, সে কি আর আমার দু’কথায় বদলাবে! স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা থাকলেও সেটা ব্যাংকের ভল্টের মতো মনে অন্তরালে বন্দী করে রাখাই এই সমাজের দস্তুর।

Manual5 Ad Code

অনেক স্বামীরা এসে দুঃখ করেন যে এতো সব শাড়ী চুড়ি, সুরম্য প্রাসাদ, বছরে নিয়ম করে ঘুরুবেড়ু, স্টার প্লাসের সিরিয়াল বা জটিলতা বিহীন জীবন, তবুও কিসের এতো হাহাকার, এতো বিষাদ বিলাশ? ভেবে দেখুন, সব পেয়েও শুধু আপনার দুটো মিষ্টি কথা, একটু আহ্লাদ, ছোট্ট ছোট্ট কিছু যত্ন, সেসব কিছুর জন্যই মন কাঁদছে আপনার কাছের মানুষটার। আমি মনে করি নিজের জীবনসঙ্গীকে যত্ন করার মতো গুরুত্ব দেয়ার মতো সুন্দর আর সাবলীল আর কিছু হতে পারেনা। যখন কোন পুরুষ তার সঙ্গীকে স্নেহ করেন, খুব মমতার দৃষ্টিতে তাকান, যত্ন করেন, আমার দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। আমিও খুব ভালোবেসে দেখি সেই ভালোবাসার দৃশ্য। আমি সবসময়ই বলি, যেসব পুরুষ তাদের স্ত্রীদের ভালোবাসেন, আমিও তাদেরকে খুব ভালোবাসি, যারা তাদের সঙ্গীদের শ্রদ্ধা করেন, আমার মন থেকে তাদের প্রতি অসম্ভব শ্রদ্ধা আসে।

Manual5 Ad Code

আপনার সাথে পুরো জীবনটা কাটাবেন বলে নিজ ঘরবাড়ি মা বাবা, নিজ শিকড় ছেড়ে যিনি চলে আসেন, তাকে একটু খুশিতে তো রাখাই যায়, গুরুত্ব দেয়া যায়, খানিকটা আদর যত্ন করাই যায়। অবশ্য যারা তাদের জীবনসঙ্গীকে খুব মর্যাদা দেন, তাদের জন্য এই পোস্ট নয়। তাদের জন্য আমার অনেক অনেক শুভকামনা।

শুভ শুক্কুরবার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ