নারী ইউপি সদস্যকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬

নারী ইউপি সদস্যকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

Manual4 Ad Code
  • সিন্দুরখানে ইউপি সদস্য মুরাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ৩০ আগস্ট ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্যকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়ন পরিষদের এক সাধারণ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল খায়ের সিদ্দিক মুরাদের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোছা. রাবেয়া আক্তার সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

তাঁর অভিযোগ, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কক্ষে একটি উত্তরাধিকার সনদের আবেদনের কাগজপত্রে তাঁর দেওয়া স্বাক্ষর কেটে সেখানে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নিজের স্বাক্ষর দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে মুরাদ তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন এবং তাঁর সম্মতি ছাড়া শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর রাবেয়া আক্তার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রের একটি অনুলিপি মামলার লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাক্ষর কাটা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত

Manual8 Ad Code

শ্রীমঙ্গল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে রাবেয়া আক্তার উল্লেখ করেন, তাঁর এলাকার এক নাগরিক উত্তরাধিকার সনদের জন্য আবেদন করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তিনি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। পরে ২৭ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কক্ষে তিনি দেখতে পান, ওই আবেদনপত্রে তাঁর দেওয়া স্বাক্ষর কেটে সেখানে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য আবুল খায়ের সিদ্দিক মুরাদ নিজের স্বাক্ষর দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি মুরাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন রাবেয়া। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মুরাদ অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

রাবেয়া আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর সম্মতি ছাড়া শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়। এলোপাতাড়ি মারধরের কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও নীলাজখমের সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাঁকে অভিযুক্তের কবল থেকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি সাক্ষীদের সহায়তায় চিকিৎসার জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

Manual4 Ad Code

লিখিত অভিযোগে রাবেয়া আক্তার দাবি করেন, হামলার পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অভিযোগের শেষে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেন রাবেয়া আক্তার।

থানায় মামলা

Manual2 Ad Code

রাবেয়া আক্তারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানায় ঘটনাটি নিয়ে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় আবুল খায়ের সিদ্দিক মুরাদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এলাকায় বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবি

এদিকে নারী জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রতিবাদে সিন্দুরখান এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, একজন নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Manual7 Ad Code

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিরোধ বা মতপার্থক্য থাকলেও তা নিয়ে কোনো নারী জনপ্রতিনিধিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা হেনস্তা করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল খায়ের সিদ্দিক মুরাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ