শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর পর্দা নেওয়ার প্রথম বার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২৬

শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর পর্দা নেওয়ার প্রথম বার্ষিকী আজ

Manual4 Ad Code
  • তরিকত ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনে বিভিন্ন দরবার, সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তির শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬ : বর্তমান শতাব্দীর তরিকত জগতের অন্যতম পথিকৃৎ, আওলাদে রাসুল (দঃ), আহলে বায়েতের অনুসারী, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় নেতা শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর আল হাসানী ওয়াল হুসাইনি মাইজভান্ডারীর পর্দা নেওয়ার প্রথম বার্ষিকী আজ।

Manual8 Ad Code

২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন দরবার শরীফ, ধর্মীয় সংগঠন, পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, ভক্ত-মুরিদ ও গুণগ্রাহীদের মধ্যে গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণের আবহ বিরাজ করছে।

শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারী ছিলেন হযরত শাহসূফি সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনি মাইজভান্ডারীর নাতি এবং শাহসূফি হজরত সৈয়দ শফিউল বশর মাইজভান্ডারীর বড় ছেলে। তরিকত, আধ্যাত্মিক সাধনা, আহলে বায়েতের আদর্শ এবং মানবকল্যাণমূলক চিন্তাধারায় তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর অনুসারীরা জানান।

গত বছরের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর দুনিয়ার সফর সমাপ্ত হয়। তাঁর অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভাষায়, তিনি আল্লাহ ও তাঁর হাবিবে পাক (দঃ)-এর সান্নিধ্য ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার জীবন থেকে বিদায় নেন। তাঁর ইন্তেকালে তরিকত ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

রেখে গেছেন পরিবার ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী

ইন্তেকালের সময় শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারী স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, পীর-মাশায়েখ, আহলে বায়েতপন্থী আলেম-ওলামা এবং দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক আশেক-ভক্ত ও মুরিদান রেখে গেছেন।

তাঁর প্রথম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আদর্শ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা অনুসরণের জন্য ভক্ত-মুরিদদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন দরবার ও সংগঠনের শ্রদ্ধা

শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আহলে বায়েত পাক পাঞ্জাতন পরিষদ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, রহমানপুর দরবার শরীফসহ বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন দরবার শরীফের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের সদস্য, রুহানি সন্তান, ভক্ত-মুরিদ ও আশেকানদের প্রতি গভীর ভালোবাসা জানানো হয়েছে।

দরবারে হযরত রহমানপুরী আলিয়া শরীফের পক্ষ থেকে মহান আওলাদে পাকের পরিবারবর্গ, তাঁর প্রিয় রুহানি সন্তান এবং সকল ভক্ত-মুরিদান ও আশেকানের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একইভাবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী দরবার শরীফ ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান থেকেও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডার শরীফ, হযরত চাঁদপুরী শাহ দরবার শরীফ, ফরহাদাবাদ দরবার শরীফ, আল্লামা শেরে বাংলা দরবার শরীফ, হযরত শাহ আলী বোগদাদী দরবার শরীফ, আমির ভান্ডার দরবার শরীফ, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, সুলতানসি দরবার শরীফ, চন্দ্রচড়ি দরবার শরীফ, সাতকানিয়া দরবার শরীফ, ঐতিহ্যবাহী হায়দরী দরবার শরীফ, রেজভিয়া দরবার শরীফ, দরবারে হাসেমিয়া আলিয়া শরীফ, কুমিল্লার রাজাপুর দরবার শরীফ, শাহপুর দরবার শরীফ ও জালালিয়া দরবার শরীফ।

Manual5 Ad Code

এ ছাড়া হযরত সুলতানুল আউলিয়া শাহজালাল (রহঃ), হযরত শাহপরান (রহঃ), হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (রহঃ) এবং হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমি (রহঃ)-এর দরগাহসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান ও দরবার শরীফের পক্ষ থেকেও তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে বলে তাঁর অনুসারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Manual1 Ad Code

তরিকত জগতে তাঁর অবদান স্মরণ

ভক্ত ও অনুসারীদের মতে, শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারী ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণের একজন নিবেদিতপ্রাণ ওলী। তিনি তরিকতের শিক্ষা, আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, আহলে বায়েতের প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।

তাঁর অনুসারীরা মনে করেন, তাঁর জীবন ও কর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে মানুষের নৈতিক ও মানবিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

প্রথম ইন্তেকাল বার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর রেখে যাওয়া আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণ করাই হবে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম।

সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শ্রদ্ধা

শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট’ ও সাপ্তাহিক ‘নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এক শ্রদ্ধা বার্তায় তিনি শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর আধ্যাত্মিক জীবন, তরিকত জগতে তাঁর ভূমিকা এবং ভক্ত-মুরিদদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি মরহুমের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তাঁর সকল ভক্ত, মুরিদ ও আশেকানের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর মতো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের জীবন ও দর্শন কেবল তাঁর অনুসারীদের মধ্যেই নয়, বৃহত্তর সমাজেও ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, সম্প্রীতি ও নৈতিক চেতনা বিকাশে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।

স্মৃতিতে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর ভক্ত-মুরিদ ও শুভানুধ্যায়ীরা বিভিন্নভাবে তাঁকে স্মরণ করছেন। তাঁর জীবন, সাধনা, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দর্শন নিয়ে আলোচনা এবং সমগ্র মানবকূলের মুক্তি কামনায় বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তাঁর অনুসারীদের কাছে শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর প্রস্থান শুধু একজন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ওলী-আউলিয়ার ইন্তেকাল নয়; বরং এটি তরিকত অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তাঁর স্মৃতি, শিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ করে ভবিষ্যতে আধ্যাত্মিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁর অনুসারীরা।

প্রথম ইন্তেকাল বার্ষিকীতে পরিবার, ভক্ত-মুরিদ, পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সমগ্র মানবকূলের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য অনুসারীর প্রতি গভীর ভালোবাসা জানানো হয়েছে।

শাহসূফি সৈয়দ হাবিবুল বশর মাইজভান্ডারীর প্রথম ইন্তেকাল বার্ষিকী তাই তাঁর অনুসারীদের কাছে একদিকে যেমন বেদনা ও শোকের দিন, অন্যদিকে তাঁর জীবন, সাধনা, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার স্মরণ এবং তা অনুসরণের অঙ্গীকারের দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ