জীবনের সুন্দর গল্পগুলো লেখা হোক বাস্তবতার খাঁটি ক্যানভাসে

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

জীবনের সুন্দর গল্পগুলো লেখা হোক বাস্তবতার খাঁটি ক্যানভাসে

Manual4 Ad Code

নাজনীন সুলতানা |

কাল্পনিক অ্যালগরিদমের ফ্রেমে বাঁধানো রূপ নয়, জীবনের সুন্দর গল্পগুলো লেখা হোক বাস্তবতার খাঁটি ক্যানভাসে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক ফটো জেনারেটর অ্যাপস (যেমন: FaceApp, Lensa AI, Remini ইত্যাদি) বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ৮০-৯০ দশকের রেট্রো লুক নেয়া, বয়সের সাথে চেহারা কেমন দেখাবে তা জানা কিংবা মৃত্যুর কাল্পনিক তারিখসহ ছবি তৈরি করার এই প্রবণতা বিনোদনের অংশ মনে হলেও, এর পেছনে বেশ কিছু বড় ধরনের নিরাপত্তা, মনস্তাত্ত্বিক ও কারিগরি ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে। নিচে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:

প্রযুক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকি ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও ডাটা চুরি:

Manual8 Ad Code

অধিকাংশ AI অ্যাপ চালু করার আগে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গ্যালারির পূর্ণ অ্যাক্সেস, অবস্থান, ডিভাইস আইডি এবং বায়োমেট্রিক ফেস ডাটা সংগ্রহের অনুমতি চাওয়া হয়। অনেক সময় অনিরাপদ থার্ড-পার্টি অ্যাপ এসব সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করে দেয় অথবা হ্যাকারদের হাতে তা ফাস হয়ে যায়।

Manual8 Ad Code

বায়োমেট্রিক নিরাপত্তার হুমকি:

Manual5 Ad Code

AI অ্যাপগুলো নিখুঁতভাবে আপনার মুখের প্রতিটি কোণ বা ফেসিয়াল ভেক্টর (Biometric Data) সংরক্ষণ করে। ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ডের বদলে ফেস-আনলক বা বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি যখন ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপে সর্বজনীন হবে, তখন এই ফেস ডাটা অপব্যবহারের বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ডিপফেক ও ছবি বিকৃতির শঙ্কা:

Manual5 Ad Code

আপনার দেওয়া ছবিগুলো AI-এর সার্ভারে ট্রেইনিং ডাটা হিসেবে জমা থাকে। প্রযুক্তিগত অপব্যবহার বা সাইবার অপরাধীরা এসব ছবি ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি, জাল পরিচয় তৈরি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপকর্ম চালাতে পারে।

আভাটার ও অলীক জগতের প্রতি আসক্তি:

বাস্তব চেহারার চেয়ে ৮০-৯০ দশকের নায়কের মতো নিখুঁত বা আকর্ষণীয় “AI রূপ” পছন্দ করতে গিয়ে মানুষ নিজস্ব প্রাকৃতিক রূপ ও স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। তৈরি হচ্ছে এক ধরনের মানসিক রূপ-অসন্তোষ (Body Dysmorphia)।

ইতিবাচক ও বিনোদনমূলক দিকসমূহ।

নিরাপদে ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শঃ

বিশ্বস্ত অ্যাপ নির্বাচন:
অচেনা, অজ্ঞাত উৎস বা নতুন যেকোনো ট্রেন্ডি অ্যাপে নিজের মূল ফেস ডাটা আপলোড করার আগে তাদের “Privacy Policy” পড়ে নিন।

অতিরিক্ত অনুমতি না দেওয়া:
অ্যাপ ইনস্টল করার সময় ক্যামেরার অহেতুক অ্যাক্সেস বা ফোন বুকের পারমিশন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

সংবেদনশীল কনটেন্ট এড়িয়ে চলা:
মৃত্যুর তারিখ, আত্মহত্যা বা নেতিবাচক থিমভিত্তিক ফিল্টারগুলো সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

কাজ শেষে অ্যাকাউন্ট ও ছবি ডিলিট করা:
অ্যাপে ছবি তৈরির কাজ শেষ হলে অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের র ডাটা ডিলিট করে অ্যাপটি আনইনস্টল করে দেয়া নিরাপদ।

প্রযুক্তি আমাদের কাজকে সহজ ও জীবনকে আনন্দময় করার জন্য, কিন্তু সচেতনতার অভাব হলে সামান্য একটি অ্যাপই ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
#
ধন্যবাদান্তে,
নাজনীন সুলতানা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ