একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জেনোসাইডের দায়ে জামায়াত-শিবিরের বিচার কর

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জেনোসাইডের দায়ে জামায়াত-শিবিরের বিচার কর

Manual7 Ad Code
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাঁধা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের পুনরায় ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ : বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে পিরোজপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাঁধা দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের বিরোধিতাকারী এই দুই সংগঠনের এহেন কর্মকাণ্ড মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের চরম ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই প্রতীয়মান।

Manual4 Ad Code

রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬), এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার বলেন, মানিক পশারী একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেইল্যা রাজাকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার একজন বাদী।
৫ আগষ্টের পর স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দ্বারা প্রাণনাশের ভয়ে মেয়ের বাড়িতেই থাকতেন মানিক পশারী। একজন মুক্তিযোদ্ধা নির্ভয়ে নিজভিটায় শেষ-নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারলেন না, এই ঘটনা সমগ্র জাতীর জন্য লজ্জাজনক। মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর লাশ পিরোজপুর নিয়ে আসা হলে তাঁর শেষযাত্রায় বাঁধা দেয় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জামায়াত ইসলামী ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য, যুদ্ধাপরাধী সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদীর গৃহপালিত সন্ত্রাসীরা।

Manual6 Ad Code

নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির আস্ফালন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির এদেশে তাদের পুরোনো পাপের ধারাবাহিকতা তৈরি করতে চাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিহ্নিত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের ছবির প্রদর্শনী এবং সর্বশেষ ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক নেতা জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন—এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা তাদের বাংলাদেশবিরোধী অবস্থানকে আবারও দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়েও তারা বারবার তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান সুস্পষ্ট করেছে। যদিও জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Manual6 Ad Code

নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষের অধিকার হরণ, সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ। পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম, সেই মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধার শেষ বিদায়ের পথেও যদি বাঁধা সৃষ্টি করা হয়, তবে তা জাতির জন্য গভীর লজ্জার বিষয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।

Manual5 Ad Code

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যার দায় এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অবসানের লক্ষ্যে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান তাঁরা।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাঁধা দেওয়ার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ