৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব বাতিলের আরপিও সংশোধনী মানি না: নারী মুক্তি সংসদ

প্রকাশিত: ১২:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব বাতিলের আরপিও সংশোধনী মানি না: নারী মুক্তি সংসদ

Manual6 Ad Code

ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২০: রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত বিধান বাতিলের নির্বাচন কমিশনের সংশোধনী নারীসমাজ মানে না। এই সংশোধনী সংবিধান পরিপন্থী। এই সংশোধনী পাশ হলে নারী ক্ষমতায়ন ব্যাহত হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমভাবে ভুমিকা পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে রচিত সংবিধান নারী সেই অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এ বিষয় বাতিল করার কোন এখতিয়ার নাই। নির্বাচন কমিশন সংবিধানের আলোকে গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনেও ৩৩ ভাগ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। সেখানেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান।

Manual8 Ad Code

আজ ২৪ জুলাই ২০২০ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ আয়োজিত নারী সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই অভিমত পোষণ করেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহানা ফেরদৌসী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড কামরূল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি কমরেড আবুল হোসাইন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কমরেড আমিরুল হক আমিন, বাংলদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কমরেড জাকির হোসেন রাজু, জাতীয় কৃষক সমিতির প্রচার সম্পাদক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, সংগঠনের আইন সম্পাদক এ্যাড. জোবায়দা পারভীন কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল নাহার লুনা, নাজমা আকতার শিরিন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গোটা বিশ্বসহ বাংলাদেশ যখন করোনা মহামারিতে আক্রান্ত তখন নির্বাচন কমিশন আরপিও সংশোধনী দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বচন অনুষ্ঠানের মধ্যেদিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সুদূঢ় করা। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার যে পায়তাঁরা করছে তা জনগণ প্রতিহত করবে।

Manual8 Ad Code

নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু রাজনৈতিক দলের কাঠামোতে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা নারীর ক্ষমতায়নে যথেষ্ঠ নয়, জাতীয় সংসদসহ সকল নির্বাচনে ৩৩ ভাগ নারী আসন নিশ্চিতকরণসহ সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর সক্ষমতা তৈরী করতে হবে। একাজে নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সে কাজ করনে কোন ভূমিকাই পালন করছেনা।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা মহামারির সময়ে সারা দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী প্রধানমন্ত্রী হলেও দেশে পরিচালিত হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। যে কারণে নারীরা সহিংসতার শিকার হলেও তারা ন্যায় বিচার পায় না। পুরুষতন্ত্র ও পুজিতন্ত্র এই দুই মিলে নারীকে পিষ্ঠ করছে। এই অবস্থা পরিত্রাণ পেতে হলে নারীকে সচেতন ও স্বোচ্চার হতে হবে। একই সাথে এই সংগ্রমে পুরুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ