ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের নামকরণ : অনেক এলাকায় গিয়েছি যেখানকার নাম শুনে অবাক হয়েছি

প্রকাশিত: ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২২

ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের নামকরণ : অনেক এলাকায় গিয়েছি যেখানকার নাম শুনে অবাক হয়েছি

Manual6 Ad Code

খোন্দকার মোজাম্মেল হক |

আমার প্রাণের শহর ঢাকা, আমাদের প্রাণের শহর ঢাকা। ঢাকায় জন্মেছি, বড় হয়েছি আমরা যারা, তারা অনেক সময় অনেক এলাকায় গিয়েছি যেখানকার নাম শুনে কিছুটা অবাক হয়েছি, কখনোবা মজা পেয়েছি। পাতলাখান লেন, গরম পানির গলি, আল্লুবাজার এই রকম নাম শুনে আপনারা কখনো অবাক হয়েছেন কিনা জানিনা, আমি কিন্তু হয়েছি। ছোট বেলায় স্কুল ম্যাগাজিনে একটি কবিতা ছাপা হয়েছিল যা ছিল এরকম – “হাতিরপুলে নেইকো হাতি, ধানমণ্ডিতে কি হয় ধান; কলা নেই, কাঁঠাল নেই, আছে যে বাগান”। মনে আছে একবার এক রিকশা চালককে বললাম যে ঢাকা ভার্সিটির কার্জন হলে যাব, সে বলল, “টারজেন হল, যামু”। তাকে অনেক চেষ্টা করেও বুঝাতে পারিনি যে জায়গাটার নাম কার্জন হল। যাই হোক আসল কথায় আসা যাক, এই লেখাটি ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার নামের ইতিহাসের ইতিবৃত্ত নিয়ে।

ঢাকার অলি-গলির নামের পেছনে লুকিয়ে আছে বহু কিংবদন্তি, ঐতিহাসিক-লৌকিক-অলৌকিক ঘটনা। শহরের কোনো কোনো রাস্তার রাখা হয়েছে সুচিন্তিতভাবে। কিছু নাম মুখে মুখে হয়ে গেছে। কিছু এলাকা পরিচিত হয়ে উঠে স্থানীয় পেশা, সম্প্রদায়ের বা প্রসিদ্ধ শিল্প বা স্থাপত্যের নামে। আবার কোনো রাস্তার নাম রাখা হয়েছে স্থানীয় বা বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তি, মোগল বা ইংরেজ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নামে। কোনো নাম আবার লোকমুখে প্রচারিত হতে হতে হয়ে গেছে বিকৃত। ইংরেজ শাসনামলে আবার এসব নাম পাল্টানোর হিড়িক লাগে। এভাবে নানা খেয়ালে ঢাকার রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বা হয়ে গেছে। আজ অবশ্য এর বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস খুঁজে পাওয়া কঠিন। কাগজ-পত্র, বই-দলিল-দস্তাবেজ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। ঢাকার অলি-গলি-রাজপথের নামকরণের ইতিহাস। মোগল শাসনামলে গড়ে ওঠা বা নাম রাখা এলাকার নামের শেষে-গঞ্জ, বাগ, বাগিচা, টুলী, তলি, হাট্টা, রওজা, কাটরা, গলি, দরওয়াজা, কুচা, ময়দান, পুর, মণ্ডি, খানা প্রভৃতি দেখা যায়। অবশ্য পরেও কিছু রাস্তার নামের শেষে শব্দগুলো ব্যবহারের জন্য এ প্রক্রিয়ায় মোগল আমলের রাস্তা চিহ্নিত করা যায় না।
আসুন জেনে নেই কয়েকটি এলাকার নামকরণের গ্রহনযোগ্য কিছু ইতিহাস।

আমরা শুরু করি পিলখানা এলাকা থেকে। মোঘল আমলে বাদশাহ-সুবেদাররা ছিলেন খুবই শৌখিন, তাদের পছন্দের অন্যতম একটি ছিল হাতির লড়াই। আর তাই ঢাকা শহরে তখন প্রায়ই শোনা যেত হাতির ডাক। আর তাদের এই শখ মেটাতে বিভিন্ন বন্যহাতিকে ঢাকায় এনে পোষ মানানো হতো এবং এই কাজে ঢাকায় পাওয়া যেত হাতি পোষ মানানোর লোক, যাদের বলা হয় মাহুত। আর এই মাহুতদের আবাস ছিল যে এলাকায় সেটাই পুরাতন ঢাকার আজকের মাহুতটুলি। আর এই হাতিগুলোকে যে এলাকায় পোষ মানানো হত যে এলাকায় সে এলাকা আজকের পিলখানা। ফারসি ‘পিল’ শব্দের অর্থ হাতি আর ‘খানা’ শব্দের অর্থ জায়গা, দুটো মিলে পিলখানা। যার অর্থ হাতিশালা, এখানে টাকার বিনিময়ে হাতি পোষ মানানো হত।
এই পিলখানা হতে ঢাকেশ্বরীর জঙ্গলে (আজকের ঢাকেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন এলাকা) হাতিদের নিয়ে যাওয়া হতো হাতি চরানোর জন্য। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দক্ষিন পাশে বিরাট পুকুরের মত একটি ডিচ ছিল যেখানে নবাবদের এইসব হাতিকে গোসল করানো হত। পিলখানার এই হাতিগুলোকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত যে পথে নিয়ে যাওয়া হত সেই পথটাই আজকের এলিফ্যাণ্ট রোড।
এই পথ দিয়ে শাহবাগের দিকে যেতে একটি পুল ছিল, যে পুলটি অনেক উঁচু হওয়ায় হাতিগুলো স্বচ্ছন্দে তার নীচ দিয়ে চলাচল করতে পারতো। সেই পুলটি ছিল যে এলাকাটিতে সেই এলাকাই আজকের হাতিরপুল।

Manual7 Ad Code

হাতিরপুলের পাশের এলাকা পরীবাগ। পরীবাগ এলাকাটির নামকরণ নিয়ে দুইটি মতবাদ প্রচলিত আছে। অনেকের মতে পরীবাগ এলাকার নামকরণ হয়েছে নবাব আহসান উল্লাহর মেয়ে পরীবানুর নামানুসারে। পরীবানু ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহর সৎ বোন। এটি ছিল ঢাকার নবাবদের বাগান বাড়ি। তার আগে এলাকাটি হিন্দু জমিদারদের ছিল। নবাব সলিমুল্লাহ হিন্দু জমিদারদের কাছ থেকে এলাকাটি কিনে নিয়েছিলেন। পরীবানুর আবাসস্থল হিসাবে বাগানবাড়িটি পরীবাগ নামে পরিচিতি লাভ করে। আরেকটি মত হলো নবাব সলিমুল্লাহ তার পিতাকে না জানিয়ে পাটনা বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে পরী বেগমকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরী বেগম পরীবাগেই বসবাস করতো বলে এলাকাটির নাম পরীবাগ হয়েছে। পাশের শাহবাগ এলাকাটির নামকরণ হল কিভাবে? ১৬১০ খৃস্টাব্দের পরবর্তী সময়ে মুঘল সম্রাট ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং শাহবাগের বাগান গড়ে তোলেন। মোঘল সম্রাটের অতি প্রিয় এই বাগানের নাম হয় ‘শাহবাগ’ যার অর্থ ‘রাজকীয় বাগান’। উল্লেখ্য কয়েকটি সুত্রমতে, পরীবাগ ছিল শাহবাগেরই একটি অংশ।

আবার অন্য মত হচ্ছে পরীবানু নবাব শায়েস্ত
খানের মেয়ে। তার নামে পরীবাগ। মাজার তার লালবাগ কেল্লায়। এ নিয়ে নিচে আরো কথা থাকছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঐতিহাসিক সাত গম্বুজ মসজিদ খৃস্টাব্দ ষোল শতকে মোঘল শাসন আমলে গড়ে উঠে। ১৬৮০ খৃস্টাব্দে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নবাব শায়েস্তা খাঁ-এর পুত্র উমিদ খাঁ এর নির্মাতা। আর এই মসজিদের নামানুসারে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তাটি ধানমন্ডি পর্যন্ত ‘সাত মসজিদ রোড’ বলা হয়। এর পাশেই আসাদগেট এলাকা। ঢাকা শহরের লালমাটিয়ায় অবস্থিত একটি তোরন। এই তোরনের নাম অনুযায়ী ঐ জায়গার নাম আসাদগেট হয়ে গেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইউব খান ঢাকা এসে করে মোহাম্মদপুর এলাকার প্রথম পনেরটি বাড়ি কিছু পরিবারের জন্য বরাদ্দ করেন। সেই কারনেই মোহাম্মদপুর এলাকার প্রধান রাস্তার প্রধান গেটটির নামকরণ করা হয়েছিল আইউব গেট। ১৯৬৯ সালে ১১ দফা দাবী আদায়ের গণ আন্দেলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ। আসাদের শহীদ হওয়া সেই সময়ের গণ আন্দোলনে আনে নতুন মাত্রা। তবে আসাদুজ্জামান আসাদ বর্তমান আসাদ গেটের কাছে শহীদ হন নি। সেই সময়কার আন্দোলনটি ছিল প্রেসিডেন্ট আইউব খানের বিরুদ্ধে। সেজন্যই আসাদের স্মৃতি রক্ষার জন্য ঢাকাবাসী আইউব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেট রাখেন। এই পরিবর্তনটি পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল। ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের সাক্ষী আসাদগেট আজও আমাদের চেতনায় উজ্জ্বল।

আসাদগেটের পাশেই মোহাম্মদপুর এলাকা। দেশ বিভাগের পর পরই একটি বড় সংখ্যার অবাঙালি মুসলমান ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী এ এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে হাউজিং সেটেলমেন্ট দপ্তরের মাধ্যমে এসব লোক এ এলাকায় কিছু জমি স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামানুসারে মডেল টাউনটির নামকরণ হয় মোহাম্মদপুর। এ এলাকার বেশ কিছু রাস্তা দিলি্লর মসনদে অধিষ্ঠিত মুসলিম রাজন্যবর্গ এবং ব্রিটিশ যুগের শেষ অধ্যায়ে ভারতীয় মুসলিম জাগরণের অগ্রদূতদের নামানুসারে রাখা হয়েছিল। যেমন বাবর রোড, হুমায়ুন রোড, শাহজাহান রোড, শেরশাহ সুরী রোড, রিজিয়া সুলতানা রোড, খিলজি রোড, ইকবাল রোড, তাজমহল রোড ইত্যাদি। যা অন্যান্য এলাকার নামকরণ থেকে সম্পূর্ণই আলাদা। তেমনিভাবে, মোঘল আমলে ঢাকার অনেক আভিজাত লোকের নামের আগে মীর শব্দটি ব্যবহৃত হতো। ধারণা করা হয় কোন মীরের ভূ সম্পত্তির অন্তর্গত ছিল এলাকাটি, যা পরে মীরপুর বা মিরপুর নামে পরিচিতি লাভ করে।

আজকের আবাসিক এলাকা ধানমন্ডিতে ব্রিটিশ আমলে চাষাবাদ হতো। তবে সেইসময় ধানমন্ডিতে কিছু কিছু বসতিও ছিল। সেই এলাকায় ধান উৎপন্ন হতো বলেই নামকরণ ধানমন্ডি হয় নি। এলাকাটিতে ধানের এবং অন্যান্য শস্যের বীজের হাট বসতো। হাট বাজারকে ফার্সী এবং উর্দু ভাষায় মন্ডি বলা হয়। সেখান থেকেই এলাকাটির নাম ধানমন্ডি হয়। এ নিয়ে নিচে আরো তথ্য দেয়া হবে।
মগবাজার এলাকার নামকরণ করা হয়েছে মগ তথা বর্মী বংশোদ্ভুত ব্যক্তিদের নাম থেকে। ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে মগ সাম্রাজ্য তদানিন্তন মোগল সুবা বাংলার কেন্দ্রস্থল ঢাকা শহরে আক্রমণ চালায়। মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁ মগদের তখনকার ঘাঁটি চট্টগ্রাম এলাকা জয় করেন। সেখানকার মগ শাসক মুকুট রায় ও তাঁর অনুসারীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, এবং ইসলাম খাঁ তাদেরকে ঢাকা শহরের এই এলাকায় বসবাস করার অনুমতি প্রদান করেন। অবশ্য ঐতিহাসিক মুনতাসির মামুনের মতে এই ধারণা সঠিক নয়, এবং এই নামকরণ অনেক পরে ব্রিটিশ শাসনামলে তদানিন্তন বাংলায় আশ্রয় গ্রহণকারী মগ সর্দার কিং ব্রিং ও তাঁর অনুসারীদের বসবাসের কারণেই হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগ পর্যন্তও এই এলাকাটি ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। এ নিয়েও আছে আরো ভিন্নমত, তা নিচে পাবেন।

আজকের ফার্মগেট এলাকায় ছিল বিশাল এক খামার যার তোড়ন ছিল আজকের ফার্মগেট এলাকায়। আজও এই এলাকার নিকটবর্তী রয়েছে খামারবাড়ী।
এর পাশের ইন্দিরা রোড, অনেকের ধারণা ইন্দিরা রোড ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবিষয়ে দীর্ঘদিন তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এখন ভিন্ন একটি মত প্রচলিত রয়েছে। এই মতটিই সত্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে ইন্দিরা রোডটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকায় একসময় বেশ সংখ্যক ধনাঢ্য ব্যক্তি বসবাস করতেন। এদেরই একজন দ্বিজদাস বাবু। দ্বিজদাস বাবু মনিপুর ফার্মের কর্তা ছিলেন। খুব সম্ভবত তা ১৯৩০-এর দশকের দিকে। তার বিরাট বাড়ি ছিল বর্তমান ইন্দিরা রোডে। দ্বিজদাস বাবুর বড় মেয়ে ইন্দিরার অকাল মৃত্যু ঘটেছিল। সেই সময় ইন্দিরার সমাধি বাড়ির ভিতরেই করা হয়েছিল। দ্বিসদাস বাবুর মেয়ে ইন্দিরার নামেই সেই এলাকার রাস্তাটি ইন্দিরা রোড নামে পরিচিতি লাভ করে। এটা নিয়ে নিচে আরও তথ্য আছে।

পাশের কারওয়ান বাজার, ১৭শ শতাব্দি থেকেই এখানে বাজার ছিল। ১৮শ শতাব্দির শেষের দিকে কারওয়ান সিং নামের একজন মারওয়ারী ব্যবসায়ী এখানে প্রথম মার্কেট খোলেন। তার নামেই এই বাজারের নামকরণ হয়েছে।

এখান থেকে আরেকটু এগোলে আজকের নাটকপাড়া বেইলী রোড। বেইলী রোডের নামকরণ নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। মহীশুরের টিপু সুলতানের সঙ্গে কর্ণেল বেইলী ও সুনাম অর্জন করেছিলেন। এজন্য তার নামানুসারে বেইলী রোডের নামকরণ করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। অন্য ধারনাটি এইচ বেইলীকে ঘিরে। ওহাবী আন্দোলন দমনকালে স্পেশাল বেঙ্গল পুলিশের ডি, আই, জি, এইচ বেইলী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তার নামানুসারেই বেইলী রোডের নামকরণ হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।

ওদিকে মোগল সাম্রাজ্যের সময়কাল হতেই মতিঝিল এলাকার নাম শোনা যায়। এই এলাকাটি সেই সময় মির্জা মোহাম্মদের মহল হিসাবে গন্য হতো, যার মধ্যে ছিলো একটি পুকুর। শুরুতে সুকাকু মহলের পুকুর হিসাবে খ্যাত হলেও পরে এই পুকুরটি মতিঝিল নামে পরিচিত হয়ে উঠে, এবং এর নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়।

পাশেই পুরানো ঢাকার অভিজাত এলাকা ওয়ারী। ওয়ারী বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর গড়ে ওঠা আদি ঢাকা শহরের প্রথম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। সে সময় ওয়ারীর ছয় ভাগের পাঁচ ভাগই ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। ১৮৮৪ সালে ঢাকার রাজস্ব প্রশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ছিলেন ফ্রেডরিক ওয়্যার। তিনি জনবসতি স্থাপনের লক্ষ্যে পুরো এলাকাটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে উন্নয়ন শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগে জঙ্গল কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়। এসব ছিল লাল সুড়কি বিছানো পথ। এছাড়া রাস্তার দুপাশে তৈরি করা হয় ড্রেন। তৈরি করা হয় পানি সরবরাহের জন্য ওভারজহড পানির ট্যাংক বা রিজার্ভার। ঐতিহাসিকেরা মনে করেন যে ফ্রেডারিক ওয়্যারের নাম অনুসারেই এ আবাসিক এলাকাটির নামকরণ হয়েছিল ওয়ারী।

Manual2 Ad Code

পাশেই রয়েছে নারিন্দা, মধ্যযুগে মোগল শাসনামল থেকেই এখানে জনবসতি রয়েছে। এই এলাকাটির নাম এসেছে নারায়ণদিয়া শব্দের অপভ্রংশ হতে, যার অর্থ হলো নারায়ণের দ্বীপ। ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আগমনকারী পর্তুগিজ পরিব্রাজক ও ভ্রমণকারী সেবাস্তিয়ান মানরিকের বর্ণনায় নারিন্দার উল্লেখ পাওয়া যায়। সে সময় এই এলাকাটি ছিলো সুবা বাংলার রাজধানী ঢাকা শহরের পূর্ব সীমান্ত। পরবর্তীকালে, বিশেষ করে ইংরেজ শাসনামলে ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা যখন কমে আসে, তখন নারিন্দা প্রায় জনশূণ্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জনৈক নারায়ণ উক্ত এলাকায় একটি বিচ্ছিন্ন জনপদের গোড়াপত্তন করেন যা নারায়ণের দ্বীপ বলে পরিচিতি পায়; আর সেখান হতেই নারিন্দা নামকরণ (অসমর্থিত সূত্র মতে)।

শাঁখারিবাজার ঢাকা শহরের পুরানো ঢাকার একটি ঐতিহাসিক এলাকা। এই এলাকায় বসবাসকারী শাঁখারীদের নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছে। একইভাবে তাঁতিবাজার। লক্ষ্মীবাজার এর নামকরণ হয়েছিল ঐ এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের নামানুসারে।

আজকের যাত্রাবাড়ি ১৯৫০ সালে ছিল একটি নিভৃত পল্লী। যাত্রাবাড়ি এলাকাটি একসময় ব্রাক্ষ্মণচিরণ মৌজার অন্তর্ভুক্ত ছিল। যাত্রাবাড়িসহ বিরাট একটি এলাকা ব্রাক্ষ্মণচিরণ নামে পরিচিত ছিল। ব্রাক্ষ্মণচিরণ এলাকার একটি বাড়িতে যাত্রামন্ডপ ছিল। প্রায়ই সেখানে যাত্রাপালা হতো। একমাত্র যাত্রাই ছিল চিত্তবিনোদনের উৎস। তাই যাত্রার প্রতি লোকজনের আগ্রহ ছিল বেশি। যে বাড়িটিতে যাত্রামন্ডপটি অবস্থিত সেটিকে লোকজন তখন যাত্রাবাড়ি নামে ডাকতো। সেই থেকেই এলাকাটির নাম যাত্রাবাড়ি হিসাবে পরিচিত হয়।

পুরাতন ঢাকার আরমানিটোলা । অনেক পূর্বে এখানে আর্মেনিয়ার অধিবাসী বা আর্মেনিয়ানরা থাকতেন, তাই এলাকাটির নামকরণ হয়ে যায় আরমানিটোলা।

Manual2 Ad Code

বহুল আলোচিত পুরাতন ঢাকার চকবাজারের পত্তন হয় মুঘল আমলে। মুঘল আমলে সেনাপতি মানসিংহ পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন বিদ্রোহ দমন করতে। ১৬০২ সালে তিনি ভাওয়াল থেকে সদর দফতর স্থানান্তর করেছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায়। সেখানেই মুঘল দুর্গ স্থাপিত হয়েছিল। মুঘল দুর্গের পাশেই গড়ে উঠে চকবাজার। তবে একসময় এই চকবাজারকে বহুলোক চৌক বন্দর নামে ডাকতেন। সেখান থেকেই আজকের চকবাজার।

এর পার্শ্ববর্তী এলাকা লালবাগ যা লালবাগের কেল্লার জন্য বিখ্যাত। এখানকার গোলাপ বাগান হতে এরকম নামকরণের অসমর্থিত সূত্র পাওয়া যায়। এর পার্শ্ববর্তী এলাকা আজিমপুর এর নামকরণ নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকে মনে করেন, সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহাজাদা আজমের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল এ এলাকার। শাহজাদা আজম বাংলার সুবাদার ছিলেন ১৬৭৮ থেকে ৭৯ সাল পর্যন্ত। তিনি তখন লালবাগ দুর্গের কাজ শুরু করেছিলেন। তার কর্মচারীরা বাস করতেন এই এলাকায়। তখন সেই এলাকাটি আজমপুরা নাম পরিচিত ছিল। অনেকে আবার মনে করেন, সম্রাট আওরঙ্গজেবের নাতি শাহজাদা আজিমুশশানের নামে নামকরণ করা হয়েছিল আজিমপুর। আজিমুশশান বাংলার সুবাদার ছিলেন ১৬৯৭ থেকে ১৭০৩ সাল পর্যন্ত। তার আমলে এখানে আমলাদের জন্য আবসস্থল নির্মাণ শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়।

আরেকটু উত্তরের দিকে আজকের নীলক্ষেত। বৃটিশরা এদেশে আসার পর থেকেই ইউরোপিয়ানরা বিভিন্ন এলাকায় নীল চাষ শুরু করে। সেই সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকার বিরাট প্রান্তরজুড়ে নীল চাষ করা হতো। দীর্ঘকাল ধরে সেই নীল চাষ চলে। সেই এলাকাটিতে নীল উৎপন্ন হতো প্রচুর। প্রচুর নীল উৎপন্ন হতো বলেই আজও নীলক্ষেতের নামের সাথে নীল শব্দটি জড়িয়ে আছে। লোকজন এলাকাটিকে চিনছেও এ নামে। নীলক্ষেত এলাকার নামকরণ করা হয় নীলচাষের স্থান থেকে। সেব জমিতে চাষাবাদ করা হয় সেই জমিকে ক্ষেত নামে অবহিত করা হয়। এটা বেশ আগের রীতি। নীল এবং চাষাবাদের ক্ষেত এই দুয়ের মিশ্রনে নাম হয় নীলক্ষেত।

আরও কিছু কথকতা :
*********************
প্রতিটি নামের পেছনেই থাকে একটি কার্যকারণ | সেই প্রাগৈতিহাসিক ভাষা যুগ থেকেই নামের প্রচলন | তারই ধারাবাহিকতায় আজকাল নামের এত প্রয়োগ | প্রাচীন জনপদ থেকে শুরু করে আধুনিক শহর নগর জনপদ সব কিছুই নিজস্ব নামে পরিচিত | আর এসব নাম কবে কিভাবে এসে থিতু হলো, বা কে এসব নামের প্রবক্তা সেই সব সূত্র আজ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন | আমরা শুধুমাত্র অনুমান করেতে পারি | কিংবা এর ধারাবাহিকতাগুলো ভাবতে পারি | ১৯৭৫ সালে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত সৈয়দ মুর্তাজা আলীর একটি গবেষণা প্রবন্ধের কিছু উদ্ধৃতি এখানে অপ্রাসঙ্গিক হবে না | ইংরেজ আমলে প্রসিদ্ধ ব্যক্তি কর্তৃক স্থাপিত ব্যক্তির নাম থেকে স্থানের নামকরণ হয়েছে | ১৮৪৯ সালে খুলনার মোরেল নামক নীলকুঠির মালিক স্থাপন করেন মোরেলগঞ্জ | ১৭৭৭ সালে কর্ণেল টলী কলকাতা থেকে গঙ্গা পর্যন্ত একটি খাল খনন করেন | ওই খাল টলীর নালা ও নিকটস্থ বাজার টালীগঞ্জ নামে পরিচিত | চট্টগ্রামে কর্ণেল উইলফোর্ট কর্ণেল হাট স্থাপন করেন | ঢাকা শহরের বাকলেন ঘাট, মিন্টু রোড, ফুলার রোড, বেইলী রোড, হেয়ার রোড, লয়াল স্ট্রিট, র‌্যাঙ্কিং স্ট্রিট স্থাপয়িতাদের নাম করে | ঢাকার কলি রোড স্থাপন করেন কলি নামক একজন মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার | সেই কলি রোডই বর্তমানে গ্রীনরোড নামে পরিচিত | কোনো কোনো স্থানের নামকরণ হয়েছে গাছপালা থেকে | যেমন সেগুনবাগিচা, বাদামতলী, গাছপাড়ী, জামতলা, আমতলী, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান ইত্যাদি | অনেক অপ্রাসঙ্গিক বললাম, আবার আসি আপনার উত্তরে | মিরপুর নামকরণটি আসে মুঘল আমল থেকে | মোঘল আমলে ঢাকার অনেক আভিজাত লোকের নামের আগে মীর শব্দটি ব্যবহৃত হতো | ধারণা করা হয় কোন মীরের ভূ সম্পত্তির অন্তর্গত ছিল এলাকাটি, যা পরে মীরপুর বা মিরপুর নামে পরিচিতি লাভ করে | আজিমপুর – সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহাজাদা আজমের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল এ এলাকার | শাহজাদা আজম বাংলার সুবাদার ছিলেন ১৬৭৮ থেকে ৭৯ সাল পর্যন্ত | শাহবাগ – এলাকার পত্তন হয় ১৭শ শতকে মোগল শাসনামলে, যখন পুরানো ঢাকা ছিলো সুবা বাংলার রাজধানী এবং মসলিন বাণিজ্যের কেন্দ্র | শাহবাগের আদি নাম ছিলো “বাগ-ই-বাদশাহী” (ফার্সি: রাজার বাগান) | তবে পরবর্তীতে এটি সংক্ষিপ্ত নাম শাহ (ফার্সি রাজা) বাগ (ফার্সি বাগান) নামে পরিচিতি লাভ করে |

ইন্দিরা রোডঃ
এককালে এ এলাকায় “দ্বিজদাস বাবু” নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তির বাসাস্থান ছিল, অট্টালিকার পাশের সড়কটি নিজেই নির্মাণ করে বড় কন্যা “ইন্দিরা” নামেই নামকরণ করলেন।
:
পিলখানাঃ
ইংরেজ শাসনামলে প্রচুর হাতি ব্যবহার করা হত। বন্য হাতিকে পোষ মানানো হত যেসব জায়গায় তাকে বলা হত পিলখানা। বর্তমান “পিলখানা” ছিলো সর্ববৃহৎ আস্তাবল।
:
এলিফ্যান্ট রোডঃ
পিলখানার হতে হাতিগুলোকে নিয়ে যেতো “হাতির ঝিল”এ গোসল করাতে তারপর “রমনা পার্ক”এ রোঁদ পোহাতো। সন্ধ্যের আগেই পিলখানায় চলে আসতো যাতায়াতের রাস্তাটির নামকরণ “এলিফ্যান্ট রোড”। পথের মাঝে ছোট্ট একটি কাঠের পুল ছিলো, সেটার নাম হয় “হাতির পুল”।
:
কাকরাইলঃ
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে ঢাকার কমিশনার ছিলেন মিঃ ককরেল। নতুন শহর তৈরী করে নামকরণ করলেন “কাকরাইল”।
:
রমনা পার্কঃ অত্র এলাকায় বিশাল ধনী রমনাথ বাবু মন্দির তৈরী করেছিলেন “রমনা কালী মন্দির”। মন্দির সংলগ্ন ছিলো ফুলের বাগান আর খেলাধুলার পার্ক। পরবর্তীতে সৃষ্টি হয় “রমনা পার্ক”।
:
গোপীবাগঃ
গোপীনাগ নামক এক ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। নিজ খরচে “গোপীনাথ জিউর মন্দির” তৈরী করেন পাশেই ছিলো হাজারো ফুলের বাগান “গোপীবাগ”।
:
চাঁদনী ঘাটঃ
সুবাদার ইসলাম খাঁর একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী ছিলো এবং এখানে নিত্যনতুন নারী নিয়ে আসতো পেয়াদারা। প্রমোদতরীর নাম ছিলো “চাঁদনী”। যেই ঘাটে তরীটি বাঁধা থাকতো তার নাম হয় “চাঁদনী ঘাট”।
:
টিকাটুলিঃ
হুক্কার প্রচলন ছিলো হুক্কার টিকার কারখানা ছিলো “টিকাটুলি”।
:
তোপখানাঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর গোলন্দাজ বাহিনীর অবস্থান ছিল এখানে। এখানেই তোপ দাগা হতো। তাই নাম হয় তোপখানা।
:
পুরানা পল্টন, নয়া পল্টনঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ঢাকাস্থ সেনানিবাসে এক প্ল্যাটুন সেনাবাহিনী ছিল, প্ল্যাটুন থেকে নামকরন হয় পল্টন,পরবর্তীতে আগাখানিরা এই পল্টনকে দুইভাগে ভাগ করেন। নয়া পল্টন ছিল আবাসিক এলাকা আর পুরানো পল্টন ছিল বানিজ্যিক এলাকা।
:
বায়তুল মোকারম:
১৯৫০-৬০ দিকে পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনায় পুরানো ঢাকা থেকে নবাবপুর হয়ে উত্তর দিকে-নতুন ঢাকার যোগাযোগ হতে থাকে রাস্তার। তাতে শিয়া আগাখানীদের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,আবাসিক বাড়িঘর চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। আগাখানীদের নেতা আব্দুল লতিফ বাওয়ানী(বাওয়ানী জুট মিলের মালিক)সরকারকে প্রস্তাব দিলো, আমাদের নিজ খরচে এশিয়ার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্নি জাতীয় মসজিদ তৈরী করবো। এখানে একটা বিরাট পুকুর ছিল “পল্টন পুকুর”। এই পুকুরে একসময় ব্রিটিশ সৈন্যরা গোসল করতো। সেখানেই ১৯৬৮ সনে মসজিদ ও মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন হামিদুল হক চৌধুরী। তিনি তার ‘ম্যামোয়ার্স’ নামক বইতে জিপিওর কাছে রাস্তা কেন বাকা হলো তা বিস্তারিত লিখেছেন।
:
ধানমন্ডিঃ
এখানে ছিল ধান ক্ষেত। এককালে বড় একটি হাটও বসত। হাটটি ধান ও অন্যান্য শস্য বিক্রির জন্য বিখ্যাত ছিল।
:
পরীবাগঃ
পরীবানু নামে নবাব শায়েস্তা খাঁর এক মেয়ে ছিল। পরীবানুর নামে এখানে একটি বড় বাগান করেছিলেন সেই নবাব শায়েস্তা খান। এখানেই ভূত দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। সেটা এখন ভূতের গলি। পরীবানুর মাজার লালবাগ কেল্লায়।

কলাবাগান :
শায়েস্তা খানের হাতিদের খাবার ছিল কলা গাছ। সেজন্য তৈরি হয় কলাবাগান।
:
পাগলাপুলঃ ১৭ শতকে এখানে একটি নদী ছিল, নাম – পাগলা। মীর জুমলা নদীর উপর সুন্দর একটি পুল তৈরি করেছিলেন। অনেকেই সেই দৃষ্টিনন্দন পুল দেখতে আসত। সেখান থেকেই জায়গার নাম “পাগলাপুল”।
:
পানিটোলাঃ
যারা টিন-ফয়েল তৈরি করতেন তাদের বলা হত পান্নিঅলা। পান্নিঅলারা যেখানে বাস করতেন সে এলাকাকে বলা হত পান্নিটোলা। পান্নিটোলা থেকে পানিটোলা।
:
ফার্মগেটঃ
কৃষি উন্নয়ন, কৃষি ও পশুপালন গবেষণার জন্য বৃটিশ সরকার এখানে একটি ফার্ম বা খামার তৈরি করেছিল। সেই ফার্মের প্রধান ফটক বা গেট থেকে এলাকার নাম ফার্মগেট।
:
শ্যামলীঃ
১৯৫৭ সালে সমাজকর্মী আব্দুল গণি হায়দারসহ বেশ কিছু ব্যক্তি এ এলাকায় বাড়ি করেন। এখানে যেহেতু প্রচুর গাছপালা ছিল তাই সবাই মিলে আলোচনা করে এলাকার নাম দেন শ্যামলী।
:
সূত্রাপুরঃ
কাঠের কাজ যারা করতেন তাদের বলা হত সূত্রধর। এ এলাকায় এককালে অনেক শূত্রধর পরিবারের বসবাস ছিলো।
:
সুক্কাটুলিঃ
১৮৭৮ সালে ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে কিছু লোক টাকার বিনিময়ে চামড়ার ব্যাগে করে শহরের বাসায় বাসায় বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দিতেন। এ পেশাজীবিদেরকে বলা হত ‘ভিস্তি’ বা ‘সুক্কা’।
ভিস্তি বা সুক্কারা যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই কালক্রমে সিক্কাটুলি নামে পরিচিত হয়।
:
ধোলাই খাল নামঃ
ঢাকা শহরের বাণিজ্যিক ব্যস্ততম খাল ছিলো যা সরাসরি বুড়িগঙ্গা হয়ে বিশ্বের যোগাযোগ ছিল। খালের দুধারে ছিলো কাঠের আসবাবপত্রের দোকান এবং ধোপা-ঘর। কাঠের সামগ্রী আর ধোপারা কাপড় ধুতো সে থেকেই “ধোলাই খাল”।
:
স্বামীবাগঃ
“ত্রিপুরালিংগ স্বামী” নামে এক ধনী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি এ এলাকায় বাস করতেন। তিনি সবার কাছে স্বামীজি নামে পরিচিত ছিলেন। তার নামেই এলাকার নাম হয় স্বামীবাগ।
:
মালিবাগঃ
ঢাকা একসময় ছিল বাগানের শহর। বাগানের মালিদের ছিল দারুণ কদর। বাড়িতে বাড়িতে তো বাগান ছিলই, বিত্তশালীরা এমনিতেও সৌন্দর্য্য পিপাসু হয়ে বিশাল বিশাল সব ফুলের বাগান করতেন। ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নামের শেষে ‘বাগ’ শব্দ সেই চিহ্ন বহন করে। সে সময় মালিরা তাদের পরিবার নিয়ে যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই আজকের মালিবাগ।

মগবাজার :
বুড়িগংগা নদী পথে আরাকানি মগ জলদস্যুরা ঢাকায় হামলা করতো। তাদের আড্ডা ছিল যেখানে, সেটাই এখন মগ বাজার।

Manual1 Ad Code

গুলিস্তান :
সিপাহী বিদ্রোহ হয় ১৮৫৭ সালে। এরপর বিদ্রোহীদের খোজে ইংরেজ সৈন্যরা ফুলবাড়িয়ার বন জংগল ও গাছের পাতা অগনিত গুলিতে ঝরাতে থাকে। যেখানে এমন গুলি হয়, তার নাম আজ গুলিস্তান।

বাহাদুর শাহ পার্ক::
১৮৫৭ সালের সিপাই বিদ্রোহের নায়কেরা মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামে থাকা এই উদ্যানের নাম করে বাহাদুর শাহের নামে।

কিছু তথ্যসূত্রঃ প্রকৌশলী ফিরোজ আহমাদ ফাহিম।

সম্পাদনা, গ্রন্থনা ও সংগ্রহ : খোন্দকার মোজাম্মেল হক।
ছবিতে- ১৮৯০ সালের রেসকোর্স
#
খোন্দকার মোজাম্মেল হক
২৫ মে ২০১৯

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ