সিলেট ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৩
বিশেষ প্রতিনিধি | সংসদ ভবন, ০৮ এপ্রিল, ২০২৩ : গণপরিষদ নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অবিচল ছিলেন। তাই তিনি স্বল্পতম সময়ে মাত্র ৭ মাসে জাতিকে শাসনতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান তা ২৫ বছরেও পারেনি। ভারত শাসনতন্ত্র প্রণয়নে নিয়েছিল তিন বছর। যুক্তরাষ্ট্রের লেগেছিল ৫ বছর ৯ মাস।
জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ৭ এপ্রিল আনীত এক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা আজ একথা বলেন।
জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, দেশে এখন বৈষম্যের পাহাড় গড়ে উঠেছে। বর্তমান সংসদ সরকারকে কতটুকু দায়বদ্ধ করতে পেরেছে তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

মেনন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমরা এমন একটি সংসদ তৈরি করব যা অন্যের জন্য শিক্ষার বিষয় হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা দেখছি, ক্রমাগতভাবে আমাদের পার্লামেন্টের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা যায়, সংসদে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় মানুষের কথা হয় মাত্র তিন মিনিট। বাকি সময় নিজের, দলের আর দলের নেতাদের বিষয়ে কথা হয়। রাষ্ট্রপতিও তার বক্তব্যে বলেছেন, সামনে হয়তো আইনের পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের জন্য বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, রাজনীতির বাণিজ্যায়ন, নির্বাচনের বাণিজ্যায়নের ফলে সংসদের নতুন চেহারা দাঁড়িয়েছে। আমাদের সংসদের চরিত্র ক্রমাগত পাল্টে যাচ্ছে। এখন সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেশি। রাজনীতি করলে ব্যবসা করা যাবে না এমন নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি হলে স্বার্থের বিষয় চলে আসে। সংবিধান পর্যালোচনা ও সংসদ বিষয়ে সংস্কার করা প্রয়োজন।
কমরেড রাশেদ খান মেনন বলেন, জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব সাধারণকে আমি সমর্থন করছি। আমার সৌভাগ্য হয়েছে এই সংসদে পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে সংসদের কার্য্যক্রমে অংশ গ্রহণ করার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন সংসদের এই পঞ্চাশ বছরের যাত্রাপথ মসৃণ ছিলনা। এই সংসদের ওপর বারবার আঘাত এসেছে সংসদ বাতিল হয়েছে, সংসদকে ঠুটো জগন্নাথ বানানো হয়েছে। তবে এই পঞ্চাশ বছরের বিভিন্ন সময় জনগণের এ সংসদ সদস্যদের বীরোচিত সংগ্রাম সংসদকে তার নিজের জাগয়া ফিরিয়ে এনেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, গত তিনটি সংসদ গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই নজির স্থাপন করেছে। ব্যাপক উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরী করেছে।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যার পর খুনী মুশতাক সংসদকে দিয়ে তার ক্ষমতার বৈধতা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা রাজী হয় নাই। পরবর্তীতে অভ্যূত্থান-পথটা অভ্যুত্থানে সংসদ বাতিল হয়। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সামরিক ডিক্রিতে কেবল সংবিধান নয়, সংসদের ওপরও আঘাত হানে। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে সংবিধানকে কেবল পাল্টে দেয়া হয় না। তার ঐসব সংশোধনী যাতে সংসদ বাতিল বা পরিবর্তন না করতে পারে সে বিধানও সংযোজন করা হয়। এই সংসদের সবচেয়ে কালো অধ্যায় ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার বন্ধ করে খুনী মুশতাকের জারী করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনী ও সাংবিধানিক বৈধতা দান।
রাশেদ খান মেনন বলেন, সেই কঠিন সময়েও তৎকালীন বিরোধী দলের সদস্যরা জিয়ার পঞ্চম সংশোধনীকে বৈধতা দিতে অস্বীকার করেছে। কেবল তাই-নয় ঐ সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সামরিকীকরণ, জাতীয়করণকৃত শিল্পসমূহের বি-রাষ্ট্রীয়করণের বিরোধীতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, কৃষক সার ও পানির অধিকারের প্রশ্নে ঐ ঠুটো জগন্নাথ সংসদেও সংসদ সদস্যরা তাদের লড়াই অব্যাহত রাখেন।
মেনন বলেন, উজার মৃত্যু সাপের হাতেই। আর তাই জিয়া আমলের উনিশতম অভ্যূত্থানে সে নিহত হলে, তার অল্প কিছু পরেই সামরিক শাসনে ক্ষমতা দখলকারী রাষ্ট্রপরিচালনায় সেনা বাহিনীর অংশীদারীত্ব সাংবিধানিক বিধানে পরিণত করার দাবি তুলে সংসদ বাতির করে। এর পর দীর্ঘ নয় বছরব্যাপী সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে সার্বভৌম সংসদের নির্বাচন ও সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের এক অসমসাহসী লড়াইয়ে নব্বুইয়ের গণঅভ্যূত্থানে তিনজোটের রূপ রেখায় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটে। কিন্তু সার্বভৌম সংসদ ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের পথটিও সহজ ছিল না। বিএনপি-জামাতকে নিয়ে ক্ষমতা লাভ করে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি অব্যাহত রাখে।
মাননীয় স্পীকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এই সংসদে তিনজোটের রূপরেখার সংবিধানের পরিবর্তন না করা হলে পদত্যাগের যে হুমকি দেন তার প্রেক্ষাপটে বিএনপি-জামাত সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী উত্থাপন করে।
তিনি বলেন, ঐ সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটির আমি সদস্য ছিলাম। রাতের পর রাত বিতর্কের পরও সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভবন, সংবিধানের চার মূলনীতিতে প্রত্যাবর্তন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশে বিঘœ সৃষ্টিকারী ৭০ বিধি পরিবর্তন করা সম্ভব হয় নাই। বরং ঐ বিধিকে আরও কঠোর করা হয়েছে। সংবিধানের কমিটিসমূহের ক্ষমতায়নের বিষয়টিরও সমাধান হয় নাই। বরং একানব্বুইয়ের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ঐহিত্য তৈরী করা হয়েছিল তাকে গুড়িয়ে দিয়ে খালেদা জিয়ার সরকার মাগুড়া ও মীরপুর উপ-নির্বাচনের কলঙ্কিত ইতিহাস তৈরী করে। মাননীয় স্পীকার,
দেশের মানুষকে অবাধ নির্বাচনের সংসদে ও সংসদের বাইরে আবার সংগ্রামে নামতে হয়। ঐ তীব্র আন্দোলনের মুখে ৬ষ্ঠ সংসদের নির্বাচন ছিল সংসদীয় নির্বাচন ও ব্যবস্থার প্রতি আরেকটি কুঠারাঘাত। সংবিধানের এয়োদশ সংশোধনীতে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সংযোজন করে খালেদা জিয়াকে কয়েকদিনের মাথায় পদত্যাগ করতে হয়। সপ্তম সংসদে সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি মন্ত্রীর জায়গায় সংসদ সদস্যদের বিধান সংযোজন ছিল সংসদের ক্ষমতায়নের এক নতুন অধ্যায়। কিন্তু ২০০১-এর ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনে বিএনপি-জামাত ক্ষমতা তাদের প্রবর্তিত তত্বাবধায়ক সরকারে ও ভোটার তালিকায় যে পরিবর্তন আনে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অসম্ভব হয়ে পরে। ফলে শুরু হয় বিএনপি-জামাত জোট বিরোধী সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম যখন সফল হতে চলেছে তখনই আবার সেনা শাসন। এবার আবার নতুন রাজনৈতিক পদ্ধতি প্রবর্তনের চেষ্টা হয়। কিন্তু জনগণের বিরোধীতার মুখে সেনা শাসনকে নির্বাচন দিতে হয়।
কমরেড রাশেদ খান মেনন বলেন, পঞ্চম সংশোধনীতে সংবিধানের ৪ মূলনীতি আমরা ফিরিয়ে এনেছি। ইতিমধ্যে সংবিধানে যে জঞ্জাল জমে গেছে সে জঞ্জালকে দূর করা এত সহজে সম্ভব হয় নাই। একদিকে ধর্ম নিরপেক্ষতার ১২ বিধিতে যে সজ্ঞা রয়েছে, যে সজ্ঞায় বলা হয়েছে কোন ধর্মকে রাজনৈতিক প্রাধান্য দেয়া হবে না রাজনীতিতে। সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিধান সাংঘর্ষিক হিসেবে এখনও বহাল রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু স্বীকৃতি দেয়া হলেও তাদের আদিবাসী হিসাবে স্বীকার করা হয় নাই। ফলে আদিবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ এখনও বিরাজ করছে। ৭০ বিধি এখনও অবস্থান করছে বিএনপি তার ১০ ও ২৭ দফায় সংবিধান সংস্কারের কথা বলছে- তাদের লক্ষ্য সংবিধান বাতিল করা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন পার্লামেন্টারী ট্রাডিশন গড়ে তুলব কারণ এই পদ জনগণের ক্ষমতার বাস্তবায়ন ঘটে, রাষ্ট্রপতি বলেছেন প্যার্লামেন্টে আইনজীবি কমে গেছে আইন প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ আনতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনীতির ও নির্বাচনের বাণিজ্যায়নে এই সংসদের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে এই সংসদে সাধারণ মানুষের কথা কমে গেছে সালাউদ্দিন, আমিনুজ্জামন পঞ্চম সংসদের ১ ঘন্টা বক্তৃতার মধ্যে মাত্র ৩ মিনিট গরীব মানুষের গ্রামের মানুষের কথা হয়। বাকী কথা হয় নেতা সম্পর্কে, দলের সম্পর্কে, ফলে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে জনগণ তার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন বলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে, স্মার্ট সংসদ গড়ে তুলতে আমাদের সামগ্রীক বিষয়গুলোকে ভাবনায় নিয়ে সামনে এগোতে হবে। নতুন প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী করে তুলেই এগোতে হবে। সংসদকেও আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সংসদের পথচলা বার বার হোঁচট খেয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংসদ বাতিল করা হয়েছিল এবং সংসদীয় গণতন্ত্র বাতিল করে তখন সামরিকতন্ত্র চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনের পর প্রকৃতপক্ষে মার্শাল ডেমোক্রেসি চালু করেছিল। ওই নির্বাচনের পর যে ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, যে ব্যক্তি পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের ডেপুটি লিডার হিসেবে জাতিসংঘে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে বক্তব্য রেখেছে-‘তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কোন গণহত্যা হচ্ছে না, ভারতীয় চররা, ভারতের দোসররা কিছু গন্ডগোল করছে মাত্র’। এই ব্যক্তিকে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ১৯৮৮ সালে প্রধান দলগুলোবিহীন একটি নির্বাচন করে তখন আ স ম রবকে গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা বানিয়ে সংসদকে হাস্যকর স্থানে পরিণত করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্ণেল রশীদকে বিরোধী দলীয় নেতা বানিয়ে সংসদকে কলঙ্কিত করেছিল। এই সংসদে বিভিন্ন সময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছে। যেভাবে সংসদের মাইক, খাতাপত্র, বইপত্র ছুঁড়েছে, এতেও সংসদের মানমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক হলো ২০০৭ সালে এই সংসদের স্পিকারের বাসভবন, চিফ হুইপের বাসভবনকে কারাগারে রূপান্তর করা হয়েছে এবং এই সংসদে জননেত্রী শেখ হাসিনা যিনি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁর বিচারের জন্য এখানে আদালত বসানো হয়েছিল। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়া যিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন, তার বিচারের জন্যও এখানে আদালত বসানো হয়েছিল। এভাবে এই সংসদ চত্ত্বরকে, সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছিল। এটি স্পষ্টত সংসদকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলী প্রদর্শন করার জন্য, গণতন্ত্রকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ২০০৭ সালে ঢাকা শহরে এতো জায়গা থাকা সত্বেও এখানে আদালত বসানো হয়েছিল এবং এখানে কারাগার বানানো হয়েছিল। সেই কাজটি যারা করেছিলেন, তারা দায়িত্ব এড়াতে পারে না। সংসদের ৫০ বছর পূর্তিতে বলতে চাই- যারা এই কাজটি করেছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন কিনা, সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের পথচলা যদি মসৃণ না হয়, উন্নয়ন কখনো হয় না। গণতন্ত্রের নামে কসমেটিক সার্জারি হয়। যখন সংসদীয় গণতন্ত্র ছিল না, মার্শাল ডেমোক্রেসী ছিল, কখন কসমেটিক সার্জারির মতো উন্নয়ন হয়েছিল। প্রকৃত উন্নয়ন তখন হয়নি। গত তিনটি সংসদে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু থাকার এবং সংসদে জবাবদিহিতা থাকার প্রেক্ষিতে দেশে উন্নয়ন অগ্রগতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে নির্বাচনের পর যখন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা ছিল, তখন বঙ্গবন্ধু কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি উপস্থাপন করেছিলেন। সেই দাবি নিয়ে অনেক টালবাহানা হয়েছিল। বিএনপি এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা বেগম খালেদা জিয়া এতে রাজি ছিলেন না। অনেক টালবাহানার পর শেখ হাসিনার সহযোগিতার মাধ্যমে তৎকালীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ভোট দানের মাধ্যমে আমরা আবার সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে এসেছিলাম।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলবো, তবে যারা ৭১, ৭৫ এবং ২০০৪ সালে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।
গণপরিষদের সাবেক সদস্য ও ময়মনসিংহ-৬ আসনের সদস্য মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘গণপরিষদ নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অবিচল ছিলেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশের জন্য একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন। মাত্র ৭ মাসে তিনি জাতিকে শাসনতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। পাকিস্তান তা ২৫ বছরেও পারেনি, ভারত তাদের শাসনতন্ত্র প্রণয়নে নিয়েছিল ৩ বছর।’
তিনি বলেন, জাতির পিতার দ্বিতীয় স্বপ্ন বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর অভিষ্ট লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রূপকল্প-২০৪১ অর্জনের দিকে বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’
গণপরিষদের সাবেক সদস্য ও নওগাঁ-৪ আসনের সদস্য মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। জাতির পিতা ছিলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবিচল। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের কোন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা নেই। কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেননি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্জনের জন্য ২৩ বছর বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা। তিনি ওই সময়ে উপলব্দি করেছিলেন কৃষি ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সরবরাহের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন করতে হবে। তাঁর সময়োচিত সিদ্ধান্তে তিতাস, হবিগঞ্জ, কৈলাসটিলা, বাখরাবাদ ও রশিদপুর-এ পাঁচ গ্যাসক্ষেত্র ক্রয়ে ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট চুক্তি সই হয়। বঙ্গবন্ধু গ্যাসক্ষেত্রগুলো কিনে রাষ্ট্রীয়করণ করেন। এখনো দেশীয় কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের ৮২ শতাংশ যোগান দিচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কেনা এ ৫টি গ্যাসক্ষেত্র।
জাসদের হাসানুল হক ইনু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের শাসনতন্ত্র ও সার্বভোম সংসদের প্রতিষ্ঠাতা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে শাসনতন্ত্রকে কাটছাট করে এই সার্বভৌম সংসদকে অকার্যকর করে। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শাসনতন্ত্র ও গণতন্ত্রকে পুনপ্রতিষ্ঠা করে সার্বভৌম সংসদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনেন।
সংসদ সদস্যরা বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার সবসময় কাজ করে গেছেন। এই গণতন্ত্রকে নসাৎ করতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তারা বলেন, জাতির পিতা ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা সারা জীবন গণতন্ত্র ও সার্বভৌম সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষে আন্দোলন করে গেছেন। আর বিএনপি বারবার এই সংসদকে কলঙ্কিত করেছে। তারা কুখ্যাত স্বাধীনতা বিরোধী আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে সংসদের স্পিকার, বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল রশিদকে বিরোধী দলের নেতা এবং যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে এই জাতীয় সংসদকে অপবিত্র করেছে।
শাজাহান খান, মো. আব্দুস শহীদ, আ স ম ফিরোজ, আবুল কালাম আজাদ, সিমিন হোসেন রিমি, মো. সাইফুজ্জামান, নাহিম রাজ্জাক, সৈয়দা জাকিয়া নুর, তানভীর শাকিল জয়, বেগম হাবিবা রহমান খান, জাতীয় পার্টির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বেগম রওশন আরা মান্নান ও মশিউর রহমান রাঙ্গা আলোচনায় অংশ নেন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি