কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন ড. আব্দুস শহীদ

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৪

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন ড. আব্দুস শহীদ

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১১ জানুয়ারি ২০২৪ : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের ৭ম বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ।

Manual3 Ad Code

বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৪) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২২ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা চতুর্থ-বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। এবছর নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়েছে সিলেটের ৩ সাংসদের।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে। এরমধ্যে পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় আছেন উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এবং সামন্তলাল সেন। প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় আছেন সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী।

Manual2 Ad Code

সাবেক চিফ হুইপ, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সাতবারের সংসদ সদস্য। গত মেয়াদে তিনি জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

Manual4 Ad Code

নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়া মৌলভীবাজারের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো.আব্দুস শহীদ এর আগে সপ্তম জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় হুইপ, অষ্টম সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও নবম জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন।

মন্ত্রী সভায় ডাক পাওয়া ড. আব্দুস শহীদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটা অত্যন্ত আবেগময় একটা মুহুর্ত। যখন আমাকে মন্ত্রিসভার বিষয়টি ফোনে জানানো হয়, তখন খুশিতে আমার চোখে জল চলে আসে।”

উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ সিলেটের রাজনীতিতে তিনি সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।

এদিকে মন্ত্রী হওয়ার খবরে আনন্দের বন্যা বইছে নির্বাচনী এলাকা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনায় বিশাল আনন্দ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃত্বে সর্বস্তরের জনগণ। শ্যামা সুইটমিট এন্ড মিষ্টান্ন ভান্ডারসহ বিভিন্ন স্থানে জনগণের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উদযাপন করতে দেখা গেছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের।

উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ ১৯৯১ সালে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামীলীগ মনোনীত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে তিনি এ আসন থেকে জয়লাভ করেন।

১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ, ২০০১- ২০০৬ পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এবং ২০০৯- ২০১৪ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১০ম সংসদের তিনি সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ২০১৮-২০২৩ পর্যন্ত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি সংসদ কমিটি, পিটিশন কমিটি ও কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এরও তিনি সদস্য ছিলেন।

Manual1 Ad Code

দীর্ঘ ৩৩ বছরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তার অবদান। ১৯৯১ সালের প্রথম নির্বাচনে উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের সাথে মৌলভীবাজার-৪ আসনে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

তখন এম সাইফুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হলে আলোচনায় সরব হয়ে উঠেন এ পার্লামেন্টারিয়ান। এলাকায় জনপ্রিয় এ নেতাকে সাধারণ মানুষ বারবার নির্বাচিত করেছেন। সাধারণ মানুষ অনেকদিন পর তাকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছেন।

উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেলো। এরমধ্যে কৃষিকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য টেকসই ও নিরাপদ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইকোনোমিক জোন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থসামাজিক পরিকল্পিত উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, পর্যটন খাতে উন্নয়ন সহ মৌলভীবাজার জেলায় সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই উপজেলায় আব্দুস শহীদের (নৌকা) মোট প্রাপ্ত ভোট ২ লক্ষ ১২ হাজার ৪৯১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আবদুল মহিত হাসানী (মোমবাতি) প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৩৯০। ২ লক্ষ ৭ হাজার ১০১ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. উর্মি বিনতে সালাম।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ