মেসোপটেমিয়া: সভ্যতার সূচনা

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৪

মেসোপটেমিয়া: সভ্যতার সূচনা

Manual7 Ad Code

শাওন |

সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা: ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্ক ও কুয়েতের কিছু অংশ জুড়ে অবস্থিত মেসোপটেমিয়া সভ্যতা, ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত, বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

নামকরণ:
“মেসোপটেমিয়া” শব্দটি গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ “দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি”। এই নামটি টাইগ্রিস (দাজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বর্ণনা করে, যেখানে এই সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল।

সেচ নির্ভর:
টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পলিমাটিতে উর্বর জমি তৈরি করেছিল, যা কৃষিকাজের জন্য উপযোগী। এই সভ্যতা সেচ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল ছিল, যা তাদের উন্নত কৃষিক্ষেত্র গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল।

Manual8 Ad Code

প্রধান পর্যায়:
মেসোপটেমিয়া সভ্যতার ইতিহাস ৪টি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত:

১. সুমেরীয় (খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০০ – ২০০০):
সুমেরীয়রা ছিল এই অঞ্চলের প্রথম বাসিন্দা। তারা চিত্রলিপি, সাহিত্য, আইন, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছিল।

Manual5 Ad Code

২. ব্যাবিলনীয় (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ – ৫৩৯):
হ্যামুরাবির বিখ্যাত আইনসংহিতা এই যুগের উল্লেখযোগ্য দিক। ব্যাবিলন সভ্যতা ঝুলন্ত উদ্যান, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও সাহিত্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।

৩. এসিরিয় (খ্রিস্টপূর্ব ৯১১ – ৬১২):
এসিরিয়রা শক্তিশালী সামরিক শক্তি ছিল। তারা ধাতুবিদ্যা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যশিল্পে উন্নতি লাভ করেছিল।

Manual7 Ad Code

৪. ক্যালডিয় (খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ – ৫৩৯):
নববলনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী ব্যাবিলন এই যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল। জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতে ক্যালডিয়দের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল।

Manual1 Ad Code

উত্তরাধিকার:
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা বিশ্ব সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইন, সাহিত্য, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও কৃষিক্ষেত্রে তাদের অবদান আধুনিক বিশ্বকে সমৃদ্ধ করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
মেসোপটেমিয়াতে চাকা, লেখন ব্যবস্থা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও আইনের ধারণার উদ্ভাবন হয়েছিল।
এই সভ্যতায় বিশ্বের প্রথম লাইব্রেরি, স্কুল ও হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছিল

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ