অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরী আর নেই

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৪

অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরী আর নেই

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৪ : আইয়ুব খান বিরোধী লড়াই, বাষাট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ডাকসুর সাবেক জিএস, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, কৃষক—শ্রমিক—মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ, আজীবন লড়াকু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় রাজনীতিবিদ বেগম মতিয়া চৌধুরী আর নেই।

Manual6 Ad Code

তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর ২০২৪) দুপুরে মারা গেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

৮২ বছর বয়সী মতিয়া চৌধুরী বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই আজ তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবারের একটি সূত্র। মতিয়া চৌধুরীর জানাজা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রমনা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে তাঁর বাসভবনে এবং বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁর সাবেক একান্ত সচিব মো. শাহজালাল জানিয়েছেন।

এরপর মতিয়া চৌধুরীকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে তাঁর পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্র বলেছে, মতিয়া চৌধুরীর কবরের জন্য জায়গা চেয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। জায়গা না পাওয়া গেলে তাঁর স্বামী প্রয়াত সাংবাদিক বজলুর রহমানের কবরে তাঁকে দাফন করা হবে।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে খ্যাত মতিয়া চৌধুরীর জন্ম পিরোজপুরে ১৯৪২ সালের ৩০ জুন। তাঁর বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

মতিয়া চৌধুরী শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থী রাজনীতি দিয়ে। তিনি ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬০–এর দশকে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার যে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয়, তাতে মতিয়া চৌধুরী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আইয়ুব খানের আমলে চারবার কারাবরণ করেন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

স্বাধীনতার পর মতিয়া চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর তিনি দলটির হয়ে বিভিন্ন আন্দোলনে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিভিন্ন সামরিক সরকারের সময় কারাবরণ করেন।

বেগম মতিয়া চৌধুরী’র মৃত্যুতে
ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল এক বিবৃতিতে দেশের পাকিস্তানী স্বৈরাশাসক আইয়ুব খান বিরোধী লড়াই, বাষাট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, কৃষক—শ্রমিক—মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত আজীবন লড়াকু জাতীয় রাজনীতিবিদ বেগম মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন বেগম মতিয়া চৌধুরী ব্যক্তিজীবনে একজন স্বজ্জন মানুষ ছিলেন এবং এ দেশের রাজনীতিতে তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার সংগ্রাম ও লড়াই করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন সৎ—নির্লোভ পরোপকারি রাজনীতিবিদকে হারাল।

Manual3 Ad Code

বেগম মতিয়া চৌধুরী’র মৃত্যুতে
সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শোক

স্বৈরাশাসক আইয়ুব খান বিরোধী লড়াই, ‘৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ডাকসুর সাবেক জিএস, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, কৃষক—শ্রমিক—মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ, আজীবন লড়াকু রাজনীতিবিদ বেগম মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ