একুশে গ্রন্থ মেলায় প্রকাশের জন্য পান্ডুলিপি আহবান

প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৪

একুশে গ্রন্থ মেলায় প্রকাশের জন্য পান্ডুলিপি আহবান

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৪ : পাণ্ডুলিপি চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করার পর সম্মানিত লেখকদের অধিকাংশের প্রথম প্রশ্ন হয়- বই প্রকাশের টাকা কে দেবে? অনেকে আবার আরেকটু এগিয়ে জানতে চান- পাণ্ডুলিপি বাবদ প্রকাশনী তাঁকে কত টাকা সম্মানি দেবে?

খুবই প্রাসঙ্গিক এবং যুক্তিযুক্ত এইসব প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে প্রকাশনীকে হতে হয় কুণ্ঠিত এবং লজ্জিত। তারা না পারেন লেখকদেরকে নিজের টাকা খরচ করে বই করার কথাটা বলতে আর না পারেন ধুম করে সেই খরচটা নিজের কাঁধে নিয়ে নিতে। তখন তৈরি হয় একটা লুকোচুরি অবস্থা। অধিকাংশ প্রকাশনী তখন সামনে নিয়ে আসেন বিভিন্ন প্রকারের শর্তের জাল। ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে সেইসব শর্তের মূল কথা হয়- টাকা লেখককেই দিতে হবে।

কিন্তু বাস্তবে কি লেখকের খরচেই বই প্রকাশ হওয়া উচিৎ? বই প্রকাশ করাটা কি তবে প্রকাশনীর একটা লাভজনক ব্যবসারই নামমাত্র? ভালো লেখকদের অবমূল্যায়ন করাটাই কি তবে প্রকাশনীর শর্তাবলির উদ্দেশ্য?

Manual7 Ad Code

টাকা খরচের এই ব্যাপারটা নিয়ে লেখকদের একটা প্রচলিত ধারণা হলো এমন যে- “আমি ভালো লিখছি, আমার বই প্রকাশনীর খরচে কেনো করবে না”? কেমন করে যেনো এই প্রশ্নের সাথে লেখকদের সম্মানের ব্যাপার সংযুক্ত হয়ে যায়। যেনো- কোনো প্রকাশনী নিজের খরচে বইটি করবে না, কেনো আমাকেই অর্থ ব্যয় করতে হবে?

Manual8 Ad Code

এর উত্তর হলো আমাদের রাষ্ট্রীয় দূর্বলতা। বইয়ের প্রতি আমাদের সীমাহীন অনাগ্রহ। বই যদি বিক্রি না হয় কিংবা একেবারে নগন্য সংখ্যক বিক্রি হয় তবে সেটা প্রকাশনীকে একেবারে বিপদের মধ্যে নিমজ্জিত করে রাখে। প্রকাশনার খরচ জোগাতে জোগাতে তখন প্রকাশনীকে নেমে যেতে হয় রাস্তায়। আর জেনেশুনে রাস্তায় নামাটা নিশ্চয়ই কারো জন্যই কাম্য হয় না।

এখন প্রশ্ন হলো- তাহলে কি নতুনদের বই বের হবে না? কিংবা যাদের বই ততটা বিক্রি হয় না তারা কি বই বের করা বাদ দিয়ে দেবেন?

Manual7 Ad Code

না। বই বের হতে হবে এবং অপ্রিয় হলেও সত্য যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই উদ্যোগটা নিতে হয় লেখকের নিজেকেই। বের হওয়ার পর সে বই যদি পাঠকপ্রিয় হয়, যদি প্রকাশনী বুঝতে পারে এই লেখকের বইয়ে অর্থায়ন করলে লাভ না হউক অন্তত আর্থিক ক্ষতিতে পতিত হতে হবে না তখন প্রকাশনী সেই লেখককে খুঁজে বের করে বই করবে। তখন প্রকাশনী হাঁটবে লেখকের পিছু পিছু।

বাইরের দেশগুলোতে প্রকাশনী লেখকদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে। অতঃপর সে বই ছেপে, বিক্রি করে নিজেরা অধিক মূনফা অর্জন করে। তাছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবেও তাদের জন্য থাকে নানা ধরণের সহযোগিতা। আমাদের বাস্তবতা ভিন্ন। আমাদের পাঠকের বই ক্রয়ের প্রতি রয়েছে চরম অনাগ্রহ। রাষ্ট্রও কোনো প্রকার সহযোগিতার হাত বাড়ান না। তাছাড়া, আমাদের অধিকাংশ লেখকরাও ততটা বই ক্রয় করতে চান না। সবাই থাকেন নিজের বই বিক্রয়ে ব্যস্ত। এমন একটা অবস্থায় দাঁড়িয়ে যেকোনো বইয়ের পেছনে অর্থায়ন করাটা প্রকাশনীর পক্ষে কঠিনতর ঝুঁকির কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবার নিজেদের কথা বলি। বছরে আমাদের সম্পাদনা পরিষদ মনোনীত অল্প সংখ্যক বইয়ে আমরা অর্থায়ন করে থাকি এবং এটা স্বীকার করছি যে- বাকি বই সমূহ লেখকদের খরচেই বের হয়। এরমধ্য থেকে কিছু বই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পায়। পাঠকপ্রিয় সে বইগুলোর লেখকগণের পরবর্তী বইসমূহে আমরা অর্থায়ন করে থাকি। এবং সেগুলো বিক্রি করে খরচের টাকাটা বের করার পাশাপাশি খানিকটা মুনফাও করে থাকি। এভাবেই চলছে!

একথা শুনে এবং জেনেও কেউ যদি মাছরাঙা থেকে বই বের করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তবে আপনাকে স্বাগত। পাণ্ডুলিপি পাঠান।

**একুশে বইমেলায় মাছরাঙার স্টল থাকে।
** মাছরাঙার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারাবছর বই বিক্রির ব্যবস্থা থাকে।

Manual5 Ad Code

সম্পাদক- মাছরাঙা প্রকাশন
ফোন : 01714-911426 (What’s App)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ