রাজশাহীতে বইপড়ায় কৃতিত্বের জন্য ২ হাজার ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৫

রাজশাহীতে বইপড়ায় কৃতিত্বের জন্য ২ হাজার ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | রাজশাহী, ১৯ জুলাই ২০২৫ : বইপড়ায় কৃতিত্বের জন্য রাজশাহী মহানগরের ২ হাজার ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৯ জুলাই ২০২৫) নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবে ৫৬টি স্কুলের এসব বই পড়ুয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এই পুরস্কার বিতরণ উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ (এনডিসি), রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পাখি বিশেষজ্ঞ, আলোকচিত্রী, লেখক ও পর্যটক, ইনাম আল হক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নাটোর শাখার সংগঠক অধ্যাপক অলোক মৈত্র, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাঃ আবদুর রশিদ, লেখক, গবেষক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সংগঠক অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম তরু, গ্রামীণফোন লিমিটেডের রাজশাহীর বিজনেস সার্কেলের রিজিওনাল হেড মাহমুদুল হাসান ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই পুরস্কার বিতরণ উৎসব শুরু হয়।

Manual2 Ad Code

শুভেচ্ছা বক্তব্যে পর্বে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ (এনডিসি) বলেন, বই পড়া মানে জ্ঞান অর্জনের দরজা খুলে দেওয়া, বই পড়া আমাদেরকে মুক্ত ভাবে ভাবতে শেখায়। তাই ছাত্রছাত্রীদের বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

বাংলাদেশি পাখি বিশেষজ্ঞ, আলোকচিত্রী, লেখক ও পর্যটক ইনাম আল হক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বলেন, আমার মা ছিলেন আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক, তার কাছ থেকেই জীবনের পাঠ নিয়েছি। শিক্ষা জীবনে অনেক সাফল্য পেলেও মায়ের চোখে গৌরবের মানদন্ড ছিল ভিন্ন। আমি বিশ্বাস করি নারীর ভাষা, নারীর জ্ঞান দিয়েই পরিবার ও সমাজের সুন্দর করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমাদের ঘরে আজ রবীন্দ্রনাথ নেই, তবুও তাঁর ভাবনা আমাদের হৃদয়ে বেঁচে আছে। নজরুলের বিদ্রোহ আর হুমায়ুনের ভাষা প্রতিদিন স্পর্শ করে আমাদের। তাই কোন কিছু পরিবর্তন করতে হলে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

গ্রামীণফোনের রাজশাহী অঞ্চলের রিজিওনাল হেড মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদের মধ্যে যেন মানবিক ও মানসিক উৎকর্ষতার বিকাশ ঘটে, এজন্য গত দুই দশক ধরে এই মহতী উদ্যোগের পাশে আছে গ্রামীণফোন। বই পড়া কর্মসূচিতে আজকের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের জানাই অভিবাদন। তরুণদের জ্ঞানের বিকাশ এবং মানসিক উৎকর্ষতার জন্য বইপড়ার বিকল্প নেই। তাই আলোকিত মানুষ গড়ার অংশ হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যে বইপড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরাও গর্বিত।”

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন স্বাগত বক্তব্যে বছরজুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান।

দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আগামী বছরগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

Manual2 Ad Code

দিনব্যাপী এই পুরস্কার বিতরণ উৎসবে রাজশাহী মহানগরীর ৫৬টি স্কুলের পুরস্কার বিজয়ী ২ হাজার ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩৮টি স্কুলের ১ হাজার ৬৬৪ জন সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে, তাদের মধ্যে ১২৪৪ জন ছাত্রী ও ৪২০ জন ছাত্র এবং ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্কুলের শিক্ষক/সংগঠক পুরস্কার গ্রহণ করেন। স্বাগত পুরস্কার পেয়েছে ১১১৭ জন, শুভেচ্ছা পুরস্কার পেয়েছে ৭২৮ জন, অভিনন্দন পুরস্কার পেয়েছে ৩৮৩ জন এবং সেরাপাঠক পুরস্কার পেয়েছে ৭৫ জন।

দিনব্যাপী উৎসবের এ বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

Manual1 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ