গণিত আর পদার্থবিজ্ঞানপ্রেমী আরিশা আহাদ মৌমি’র স্বপ্ন— প্রকৌশলী হওয়া

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৫

গণিত আর পদার্থবিজ্ঞানপ্রেমী আরিশা আহাদ মৌমি’র স্বপ্ন— প্রকৌশলী হওয়া

Manual6 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ : গণিত আর পদার্থবিজ্ঞান ভীষণ ভালোবাসেন বলে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন দেখছেন ভিকারুননিসা নূন কলেজের মেধাবী ছাত্রী আরিশা আহাদ মৌমি। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সব বিষয়ে গোল্ডেন জিপিএ–৫ অর্জন করে তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

মৌমির এই সাফল্য শুধু তার পরিবার ও শিক্ষক–সহপাঠীদের নয়, বরং পুরো শিক্ষা অঙ্গনের জন্য এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষাজীবনের উজ্জ্বল ধারাবাহিকতা

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভিকারুননিসা নূন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন আরিশা আহাদ মৌমি। এর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও তিনি গোল্ডেন জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন মনোযোগী, অধ্যবসায়ী ও দায়িত্বশীল। নিয়মিত পড়াশোনা, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ই তার সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি বলে জানা গেছে।

Manual8 Ad Code

শিক্ষকরা যখন বলেন, “মৌমি শুধু একজন মেধাবী ছাত্রীই নয়, বরং দায়িত্ববান নেতা হিসেবেও আমরা তাকে পেয়েছি। ক্লাসের ক্যাপ্টেন হিসেবে সে শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

পরিবার ও অনুপ্রেরণার উৎস

মৌমির বেড়ে ওঠা এমন এক পরিবারে, যেখানে শিক্ষা ও সমাজসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তার বাবা কমরেড আব্দুল আহাদ মিনার—বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সম্পাদক।
তার মা একজন কেমিস্ট, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত।

Manual3 Ad Code

দাদা প্রয়াত হাজী আবদুল কাদির ছিলেন পতনউষার উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহসভাপতি—একজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে যিনি এলাকার মানুষের শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন।

এই পরিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায়ই আরিশা আহাদ মৌমি নিজেকে গড়ে তুলছেন মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক তরুণ প্রজন্মের প্রতীক হিসেবে।

মৌমি’র অনুভূতি: ‘পরিশ্রমের প্রতিটি মুহূর্ত সার্থক’

ফলাফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আরিশা আহাদ মৌমি বলেন, “ফল প্রকাশের আগে ভীষণ টেনশনে ছিলাম। চারদিকে শুধু শুনছিলাম— “এবার নাকি পাসের হার অনেক কমে গেছে!” যদিও আমি ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলাম, প্রশ্নগুলো ছিল ভীষণ কঠিন আর অচেনা, অনেক ভুলও ছিল। তবুও মা–বাবার সাহস আর নিজের বিশ্বাসেই আমি স্থির ছিলাম।

আর আল্লাহর রহমতে আমি সব বিষয়ে Golden A+ পেয়েছি! এত কঠিন মূল্যায়নে এই ফল আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। মা–বাবা, শিক্ষক আর আত্মীয়দের মুখে হাসি দেখেই মনে হয়েছে পরিশ্রমের প্রতিটি মুহূর্ত সত্যিই সার্থক।

যখন শিক্ষকরা বললেন, ‘তোমাকে ক্যাপ্টেন বানিয়ে আমরা ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম,” আর জুনিয়রদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিলেন এই বলে— “এই সেই মেয়ে, যে দায়িত্ব, পড়াশোনা দুটোই সামলে গোল্ডেন এ+ পেয়েছে।’ — তখন মুহূর্তটা সত্যিই গর্বের ছিল।

তিনি আরও বলেন, “এখন আমার স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া, কারণ গণিত আর পদার্থবিজ্ঞান আমার ভীষণ প্রিয়। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি নিজের লক্ষ্য পূরণ করে এই দেশের সম্পদ হতে পারি।”

পিতার আনন্দ ও গর্ব

মেয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কমরেড আব্দুল আহাদ মিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—
“আমার মেয়ে আরিশা আহাদ মৌমি ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ভিকারুননিসা নূন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে! আমরা ভীষণ আনন্দিত ও গর্বিত। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন যেন সে তার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সে প্রকৌশলী হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অভিনন্দনের জোয়ার

Manual5 Ad Code

মৌমির এই কৃতিত্বে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চলছে অভিনন্দনের ঢল।
আরিশা আহাদ মৌমির এই অসাধারণ কৃতিত্বে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজ–এর সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, “রাজনীতিক কমরেড আব্দুল আহাদ মিনারের মেয়ে আরিশা আহাদ মৌমির এই অর্জন আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয়। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি এবং বিশ্বাস করি, সে প্রকৌশলী হয়ে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দেবে।”

Manual2 Ad Code

স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনের নেতৃবৃন্দও মৌমির সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়ে তার ভবিষ্যৎ পথচলায় সাফল্য কামনা করেছেন।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অবদান রাখতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াই মৌমির লক্ষ্য।
তিনি চান উদ্ভাবন, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে ভূমিকা রাখতে।

শেষ কথা

আরিশা আহাদ মৌমির এই অর্জন প্রমাণ করে—নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই বড় সাফল্যের চাবিকাঠি।
তার মতো মেধাবী ও স্বপ্নমুখী তরুণরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক নতুন দিগন্তের পথে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ