শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গলে প্রকল্প অবহিতকরণসভা আজ

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গলে প্রকল্প অবহিতকরণসভা আজ

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে সম্প্রদায়ভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক প্রকল্প অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এনজিও সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স কর্তৃক পরিচালিত “Strengthening Community and Institutional Response to Child Sexual Abuse and Exploitation” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সকাল ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভাটি শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে (পুরাতন উপজেলা ভবন) অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজক সংস্থা জানিয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও মেয়াদ

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স ১৯৯৪ সাল থেকে শিশু, যুব ও নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে আসছে। সংগঠনটি জানায়, “Strengthening Community and Institutional Response to Child Sexual Abuse and Exploitation” প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি GFA Consulting Group (GmbH)-এর কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নির্ধারিত অঞ্চলে নাগরিক সমাজ সংগঠনসমূহ—বিশেষ করে নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর মতামত, অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বকে জোরদার করা। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

সংগঠনটি আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সহায়তা প্রদান, অনলাইনে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন, শোষণ ও হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Manual7 Ad Code

প্রশাসনিক অনুমোদন ও স্থানীয় সম্পৃক্ততা

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে অনুমোদন লাভ করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চা-বাগান পঞ্চায়েত এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, বাগান পঞ্চায়েত প্রতিনিধিবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রীমঙ্গল শাখার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

অতিথিবৃন্দ

Manual4 Ad Code

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সদয় সম্মতি জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ইসলাম উদ্দিন।
এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

সামাজিক প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ঝুঁকি বেড়েছে। এ বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, “শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু একটি সংস্থার দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যাতে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি জানান, অবহিতকরণ সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, করণীয় নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারির এ সভাকে ঘিরে শ্রীমঙ্গলে শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শিশু সুরক্ষার শপথ
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

এই দেশে শিশুর মুখে ভোরের রৌদ্র হাসে,
ধানের শিষে দোলে তারা নীল আকাশের পাশে।
কচি হাতে স্বপ্ন থাকে রঙিন ঘুড়ির ডানায়,
ভবিষ্যতের আলোর রেখা জ্বলে তাদের প্রাণে।

তবু কেন আঁধার নামে নিষ্ঠুর গোপন পথে,
কেন ভয়ের ছায়া নামে শিশুর নীরব রথে?
কেন তাদের কণ্ঠরোধী অশ্রু ঝরে রাতে,
কেন শোষণ থাবা মারে সমাজেরই হাতে?

শিশু মানে পবিত্রতা, নির্মল এক আকাশ,
শিশু মানে আগামী দিনের উন্নয়নের আশ।
যে শিশু আজ অবহেলায় দুঃস্বপ্ন বুকে বাঁচে,
রাষ্ট্র তারই ক্ষত বহে ভবিষ্যতের কাছে।

দারিদ্র্যের করাল ছায়া যখন ঘরে নামে,
অন্নহীন দিনযাপনই নিয়তি হয়ে থামে,
তখন কত নিষ্ঠুর হাত সুযোগ খোঁজে চুপে,
অসহায়ের নীরবতা বাঁধে শোষণ রূপে।

অর্থহীন সংসার যখন টলমল করে ভয়,
স্বপ্নগুলো ভাঙতে থাকে অদৃশ্য কারও ক্ষয়,
শিশু তখন শ্রমের জালে হারায় খেলার দিন,
ঝুঁকির পথে ঠেলে দেয় যে সমাজ অদৃশ্য ঋণ।

শিক্ষাহীন অন্ধকারে অজ্ঞানতার দেয়াল,
ট্যাবুর চাপে চাপা পড়ে সত্যেরই আর্তনাদ;
‘সেফ টাচ’ আর ‘আনসেফ’ ভাষা শেখেনি যে প্রাণ,
সে-ই হয়তো বোঝে না তো বিপদেরই টান।

ক্ষমতারই ভারসাম্যহীন নির্মম এক সমাজ,
প্রভাবশালীর দম্ভভারে ন্যায়বিচার লাজ।
শিক্ষক, নেতা, আত্মীয় কিংবা কর্মস্থল,
কোথায় শিশু নিরাপদ—প্রশ্ন থাকে অবিরল।

ডিজিটালের নীল জগতে নতুন ফাঁদের ছায়া,
হাসির আড়াল লুকিয়ে রাখে কুৎসিত কু-ছায়া।
গ্রুমিং নামে ছদ্মবন্ধু জালে ফেলে মন,
ব্ল্যাকমেইলের কালো থাবায় কাঁপে শিশুর জীবন।

ছবির নামে লজ্জা ছড়ায় ভার্চুয়াল প্রান্তরে,
অপরাধী অদৃশ্য থাকে প্রযুক্তির অন্তরে।
আইনের পথ দীর্ঘ হলে ভেঙে পড়ে সাহস,
বিচারহীন দীর্ঘসূত্রে বাড়ে নীরব সর্বনাশ।

তাই আজ চাই সমবেত শপথ দৃঢ় কণ্ঠে,
রাষ্ট্র হোক অগ্রণী শক্তি ন্যায়বিচারের মঞ্চে।
শিশু-বান্ধব আদালত আর সহানুভূতির হাত,
তদন্ত হোক মর্যাদাময়, নিরাপদ সাক্ষ্যপাত।

প্রতিটি জেলায় গড়ে উঠুক সুরক্ষা টাস্কফোর্স,
বাজেটে থাক স্থায়ী বরাদ্দ, দৃঢ় হোক রিসোর্স।
উপজেলা থেকে ইউনিয়নে সক্রিয় কমিটি,
শিশুর হাসি রক্ষাই হোক প্রশাসনের নীতি।

বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক সুরক্ষারই পাঠ,
অভিযোগের বাক্স থাকুক নির্ভয়ে দিবস-রাত।
কাউন্সেলিং আর পুনর্বাসন মানবিক সহায়,
ক্ষতবিক্ষত শিশুমনে ফিরুক আস্থার ছায়া।

জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সমন্বিত হোক আজ,
শিক্ষা-স্বাস্থ্য-আইসিটি মেলুক একই সাজ।
সাইবার ইউনিট দক্ষ হয়ে নজর রাখুক সদা,
অশ্লীলতার বিষবাষ্পে ঢাকুক ন্যায়ের কদা।

ডিজিটাল জ্ঞান বাধ্যতামূলক হোক পাঠ্যক্রমে,
নিরাপদ নেট ব্যবহারের শিক্ষা যাক ঘরে-ঘরে।
সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম দায়িত্ব নিক মানবিক,
ক্ষতিকর সব কনটেন্ট মুছুক দ্রুত, স্বচ্ছনিক।

চা-বাগানের প্রান্তিক গ্রাম, শিল্পাঞ্চল নগর,
সবখানে হোক সচেতনতার দীপ জ্বলার ঘর।
ইমাম-পুরোহিত, শিক্ষক, নেতা, সমাজপতি—
মানসিকতার বদল ঘটাক ঐক্যবদ্ধ গতি।

নীরবতা ভাঙা এখন প্রথম শর্ত হোক,
অভিযোগে সাহস দিক পরিবার, সমাজলোক।
শিশুকে শেখাও নিজের দেহ নিজের অধিকার,
না বলতে শেখা হোক তার প্রথম অঙ্গীকার।

দারিদ্র্য বিমোচনের পথে বাড়ুক কর্মযজ্ঞ,
ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার পাক সহায়তার সংগ।
জীবনদক্ষতা শিক্ষায় গড়ে উঠুক মন,
আত্মরক্ষার জ্ঞান থাকুক প্রতিটি শিশুপণ।

Manual1 Ad Code

গবেষণায় তথ্যভিত্তিক নীতি হোক নির্মাণ,
প্রবণতা আর ঝুঁকির মানচিত্র থাকুক জ্ঞান।
প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তে বদলাবে পরিস্থিতি,
সমন্বয়ে আসবে শক্তি, রুখবে সব অবিচার-নীতি।

শিশু যখন নিরাপদে বেড়ে ওঠে ঘরে,
জাতি তখন শক্ত ভিত্তি পায় উন্নয়নের তরে।
শিশুর মুখের হাসিই তো রাষ্ট্রের মূলধন,
সেই হাসিতে রচিত হবে আগামীরই জীবন।

Manual5 Ad Code

যে শিশু আজ কাঁদে চুপে অন্যায়ের ভারে,
তার অশ্রু একদিন ঝরে ইতিহাসের দ্বারে।
সেই ইতিহাস প্রশ্ন তোলে আমাদেরই পানে—
কোথায় ছিলে যখন সে কাঁদত নিভৃতখানে?

তাই আসুন আজ শপথ নিই সমবেত উচ্চারণে,
শিশু সুরক্ষা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হোক প্রাণে।
আইন, নীতি, সমাজচেতনা মিলুক একই স্রোতে,
অপরাধীর রুদ্ধ হোক সব পথ গোপন নোটে।

শিশু মানে সূর্যোদয়, মুক্ত নীলিমা-ডানা,
শিশু মানে অশ্রুহীন এক নিরাপদ গাঁথা।
প্রতিটি ঘর হোক আশ্রয়, প্রতিটি পথ হোক আলো,
অন্যায়ের সব কুয়াশা ভাঙুক প্রভাত-ভালো।

শ্রীমঙ্গলের ক্ষুদ্র দীপ জ্বালুক দেশের প্রাণ,
সেই আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি সন্তান।
ভয়হীন, মর্যাদাময় শৈশব হোক অধিকার—
এই হোক আমাদের আজ অটল অঙ্গীকার।

শিশুর হাসি রক্ষায় যদি জাগে সমগ্র দেশ,
তবে আর কোনো আঁধার নেমে আসবে না অবশেষ।
রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার মিলুক একই কণ্ঠে—
শিশু সুরক্ষা মানবতার সর্বোচ্চ শপথে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ