সিলেট অঞ্চলে ২টি ট্রেন চালুসহ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৫

সিলেট অঞ্চলে ২টি ট্রেন চালুসহ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল | শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ : ঢাকাস্থ বৃহত্তর সিলেটবাসীর আহ্বানে সিলেট অঞ্চলে দুই জোড়া স্পেশাল আন্তঃনগর ট্রেন চালু, রেলপথ সংস্কার ও আধুনিকায়নসহ ঘোষিত আট দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এবং যৌক্তিক নানা দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual7 Ad Code

শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে “শ্রীমঙ্গলবাসী” ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেন।

Manual6 Ad Code

আট দফা দাবির মূল বিষয়

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিলেট রোডে দুই জোড়া স্পেশাল ট্রেন চালু, রেলপথ সংস্কার ও আধুনিকায়ন, ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন, শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগের অবহেলিত রেল স্টেশনগুলোতে উন্নত সেবা চালু, এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন—এই দাবিগুলো আর বিলম্ব করা চলবে না।

Manual6 Ad Code

তারা অভিযোগ করেন, তিন দশক ধরে সিলেট অঞ্চলের রেল ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে চরম বৈষম্য চলছে। ব্রিটিশ আমলের রেলপথ এখনও সংস্কার না হওয়ায় সিলেটবাসী নিত্যদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন।

Manual6 Ad Code

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুরবস্থা

বক্তারা উল্লেখ করেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এখন এক বিভীষিকার নাম।” ছয় ঘণ্টার গন্তব্যে যাত্রীদের সময় লাগে ১০ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। যানজট, খানা-খন্দ ও চলমান নির্মাণকাজের কারণে সড়কটি আজ ‘মহাভোগান্তির প্রতীক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেল যোগাযোগেও একই চিত্র—টিকিট পাওয়া এখন ‘সোনার হরিণ’, আর আকাশপথের ভাড়া ঢাকা-কলকাতা রুটের চেয়েও বেশি, যা সাধারণ যাত্রীর নাগালের বাইরে।

মানববন্ধনে বক্তারা

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ নেসার আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সৈয়দ ছায়েদ আহমদ।
এসময় বক্তব্য রাখেন দেবব্রত দত্ত হাবুল, মো. কাওছার ইকবাল, এম এ রহিম নোমানী, মো. একরামুল কবির, মো. আমজাদ হোসেন বাচ্চু, কাজী আছমা, সঞ্জয় দেব, আব্দুল কাদির, সাইয়িদুল ইসলাম সাজু ও শাহ মাসুদ আহমদ প্রমুখ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর (অব.) রাফি আহমেদ চৌধুরী।

ঐক্য ও আন্দোলনের ঘোষণা

বক্তারা বলেন, “যৌক্তিক এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে শ্রীমঙ্গল থেকেই বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে।”
তারা আরও বলেন, সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অবহেলিত রেল ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি, যা বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উপসংহার

বক্তাদের মতে, সিলেটের অর্থনীতি, পর্যটন, শিল্প ও ব্যবসার বিকাশের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও জড়িত। তাই সিলেট বিভাগের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের বিষয়।

দেশ-বিদেশের সিলেটবাসী ইতোমধ্যে এ দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ