অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তির পথে (Be Responsible, with a Boundary)

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৫

অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তির পথে (Be Responsible, with a Boundary)

Manual1 Ad Code

মিথীলা খন্দকার |

আমাদের সমাজে দায়িত্বশীল মানুষকে সবসময় প্রশংসা করা হয়। কিন্তু কখনও কখনও দায়িত্ববোধ এতটাই বেড়ে যায় যে সেটি হয়ে দাঁড়ায় মানসিক চাপের এক অদৃশ্য শৃঙ্খল। একে বলা যায় — Hyper-responsibility।
এরা মনে করেন, “সবকিছু আমাকে ঠিক করতে হবে”, “সবাই যেন আমার ওপর নির্ভর করতে পারে”— অথচ এই অতিরিক্ত দায়বদ্ধতা ধীরে ধীরে ক্লান্তি, হতাশা ও উদ্বেগ (anxiety) বাড়ায়।

এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব, যদি আমরা শিখে যাই— কীভাবে দায়িত্ব নিতে হয় “ব্যালান্স” রেখে, নিজের সীমা বজায় রেখে।

১. নিজের সীমা চিনে নিন (Know your limits)

Manual4 Ad Code

সব দায়িত্ব আপনার নয়। নিজের সামর্থ্যের ভেতরে আপনি যা করতে পারেন, সেটুকুই করুন।
একটি বৃত্ত কল্পনা করুন— ভেতরে যা আপনার নিয়ন্ত্রণে, বাইরে যা নয়। বাইরে থাকা বিষয়গুলো ছেড়ে দিন জীবনের ওপর।
যেমন, অফিসে সবাইকে সাহায্য করতে গিয়ে যদি নিজের কাজ অসম্পূর্ণ থাকে, নির্ভয়ে বলুন:
“আমি এই অংশটা করব, বাকিটা আপনি দেখুন।”
এভাবেই আপনি নিজের সীমা বজায় রাখবেন এবং মানসিক চাপ কমাবেন।

২. “না” বলতে শিখুন (Learn to say No)

সব অনুরোধে “হ্যাঁ” বললে আপনি দ্রুত মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। “না” বলা মানে রূঢ় হওয়া নয়— বরং নিজের মানসিক শক্তিকে রক্ষা করা।
যেমন,
“আজ হয়তো পারব না, কাল অবশ্যই চেষ্টা করব।”
অথবা,
“আপনার কাজটা গুরুত্বপূর্ণ বুঝতে পারছি, কিন্তু আজ আমার নিজের কিছু কাজ আছে।”
এভাবে সম্পর্কও রক্ষা হবে, আবার আপনি নিজেকেও সংরক্ষণ করতে পারবেন।

৩. পরিপূর্ণতার চাপ কমান (Reduce perfectionism)

Manual7 Ad Code

Hyper-responsible মানুষরা সাধারণত perfectionist হন। তারা মনে করেন, “যতক্ষণ নিখুঁত না হবে, ততক্ষণ কাজ শেষ নয়।”
কিন্তু এই মানসিকতা চাপ, হতাশা ও self-blame তৈরি করে।
নিজেকে বলুন—
“Perfect না হলেও আমি চেষ্টা করছি, এবং আমি এগোচ্ছি।”
নিজেকে সহানুভূতির সঙ্গে দেখলে মন হালকা হবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

৪. দায়িত্ব ভাগ করুন (Delegate responsibilities)

সবকিছু একা করা শক্তির নয়, বরং ভারসাম্যের অভাবের লক্ষণ। দায়িত্ব ভাগ করা মানে একে অপরের ওপর আস্থা রাখা।
বাড়িতে সন্তানদের ছোট কাজ দিন— যেমন টেবিল সাজানো, বই গোছানো।
অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ ভাগ করুন। এতে আপনার চাপ কমবে, এবং অন্যদেরও দায়িত্ববোধ বাড়বে।

৫. নিজেকে ক্ষমা করুন (Forgive yourself)

ছোট ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ না করে বলুন—
“এটা শেখার অংশ। সবাই ভুল করে, আমিও করি।”
এই self-compassion আপনার guilt কমাবে ও মানসিক ভারসাম্য আনবে।

৬. নিজের যত্ন নিন (Practice self-care)

নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানসিক সুস্থতার অপরিহার্য অংশ।
প্রতিদিন অন্তত ১০–১৫ মিনিট নিজের জন্য রাখুন—
হয়তো কিছুক্ষণ হাঁটা, প্রিয় গান শোনা, ধ্যান (meditation) করা বা ডায়েরি লেখা।
মনে রাখবেন—  “You can’t serve from your empty basket.”

৭. কাউন্সেলিং বা থেরাপি নিন (Seek therapy or counselling)

যদি “সব কিছু আমারই করতে হবে” এই guilt আপনাকে কষ্ট দেয়, তাহলে একজন মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন।
Cognitive Behavioral Therapy (CBT) বা Mindfulness-based therapy আপনাকে চিন্তার ধরণ (thought pattern) বুঝতে ও healthy boundary তৈরি করতে সাহায্য করবে।

Manual8 Ad Code

শেষ কথা

Manual7 Ad Code

আপনি পৃথিবীর সব সমস্যার একা সমাধান করতে আসেননি।
দায়িত্ব মানে বোঝা নয়; এটি জীবনের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলার শিল্প।
নিজের সীমা জেনে, সঠিক জায়গায় “না” বলতে পারলেই আপনি হবেন এক ভারসাম্যপূর্ণ, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ। ????
#
পাশে আছি,
মিথীলা খন্দকার
সাইকোলজিস্ট

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ