বিচারপতি টি এইচ খানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

বিচারপতি টি এইচ খানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ : দেশবরেণ্য খ্যাতিমান আইনজ্ঞ, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দেশের বিচার অঙ্গনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব বিচারপতি টি এইচ খানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শুক্রবার)।

দিনটি উপলক্ষে তাঁর স্মরণে পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বিচারপতি টি এইচ খান ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি বিচার বিভাগ, আইন পেশা, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর তাজমহল রোডে মরহুমের বাসভবনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ঔটি গ্রামে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে কবর জিয়ারত করা হয়।

Manual6 Ad Code

এছাড়া আগামীকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঔটি গ্রামে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন দান-খয়রাতের আয়োজন করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

মরহুমের বড় ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিচারপতি টি এইচ খানের সর্বস্তরের শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহীদের কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

বিচারপতি টি এইচ খানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ তাফাজ্জাল হোসেন খান। তিনি ১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ঔটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি ১৯৪৭ সালে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন।

১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে তিনি পুনরায় আইন পেশায় ফিরে আসেন এবং সুপ্রিম কোর্টে একজন বরেণ্য আইনজীবী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন।

তিনি দুই দফায়—১৯৭৭ ও ১৯৯৫ সালে—সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন, যা তাঁর সহকর্মীদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে।

রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব

বিচারপতি টি এইচ খান ১৯৭৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং একাধারে আইন ও সংসদীয় বিষয়ক, শিক্ষা, তথ্য ও বেতার, ভূমি, ধর্ম বিষয়ক এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নীতিগত ও প্রশাসনিক নানা সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আইনজীবী সমাজে অবদান

১৯৯২ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং আইনজীবীদের একটি বড় অংশকে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

Manual5 Ad Code

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা

দেশীয় অঙ্গনের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিচারপতি টি এইচ খান বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে আনেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইবুনাল ফর রুয়ান্ডার বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ পদটি জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের সমমর্যাদাসম্পন্ন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি।

Manual1 Ad Code

স্মরণে

দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত তাঁর জীবন ছিল সততা, ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত। বিচারপতি টি এইচ খান দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম হয়ে থাকবেন বলে মনে করেন আইনজীবী সমাজ ও তাঁর সহকর্মীরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ