বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল ২০২৬ বাতিলের দাবি সিপিআই(এম)-এর

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল ২০২৬ বাতিলের দাবি সিপিআই(এম)-এর

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | নয়াদিল্লি (ভারত), ৩১ মার্চ ২০২৬ : বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এম. এ. বেবি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি বিলটিকে “অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক” এবং “গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী” বলে অভিযোগ করেন।

চিঠিতে কমরেড এম. এ. বেবি বলেন, বিদেশি অনুদানের উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকলেও প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণের সীমা অতিক্রম করে নির্বাহী বিভাগের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিলের বিভিন্ন ধারা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে সংকুচিত করবে।

চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বিল অনুযায়ী একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’ গঠন করা হবে, যা বিদেশি অনুদানে গঠিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত, পরিচালনা বা বিক্রি করার ক্ষমতা পাবে, যদি কোনো এনজিওর নিবন্ধন স্থগিত, বাতিল বা নবায়ন না করা হয়।

কমরেড বেবির মতে, এটি অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ এবং এতে দেশীয় অর্থে গঠিত সম্পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত বিচারিক তদারকি ছাড়া এই ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হলে তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় পরিণত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এছাড়া বিলের আরেকটি প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো এফসিআরএ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করতে হলে রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। এটি ভারতের সংবিধানসম্মত ফেডারেল কাঠামোর পরিপন্থী বলে দাবি করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কেন্দ্রের এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিলটি নির্বাহী বিভাগের হাতে ব্যাপক বিবেচনামূলক ক্ষমতা দিচ্ছে, যা ইচ্ছামতো প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করবে। মানবাধিকার, পরিবেশ ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

Manual7 Ad Code

কমরেড বেবির মতে, লাইসেন্স নবায়ন না করা বা বাতিল করার মাধ্যমে সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল ও সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, যা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।

Manual6 Ad Code

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল সংসদে আনার আগে সরকার কোনো বিস্তৃত আলোচনা বা পরামর্শ গ্রহণ করেনি। এটি গণতান্ত্রিক আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।

Manual1 Ad Code

সবশেষে কমরেড এম. এ. বেবি চারটি দাবি জানান— বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ অবিলম্বে প্রত্যাহার, নির্বাহী বিভাগের হাতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রত্যাহার, সংবিধানসম্মত অধিকার বজায় রেখে নতুন আইন প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে কোনো সংশোধনী আনার আগে নাগরিক সমাজ, সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা।

এই বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে সংসদ ও দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ