সিলেট ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ : বাংলা নববর্ষ মানেই নতুন দিনের আহ্বান, পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুন স্বপ্ন বুননের প্রেরণা। কিন্তু আমার কাছে পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়—এটি শৈশব-কৈশোরের এক অমলিন স্মৃতির ভাণ্ডার, যেখানে মিশে আছে গ্রামবাংলার মেলা, পান্তা-ইলিশের গন্ধ, আর নির্ভেজাল আনন্দের ছোঁয়া।
শৈশবের বৈশাখ শুরু হতো ভোরের আলো ফুটতেই। মা নতুন কাপড় গুছিয়ে রাখতেন আগের রাতেই। সকালে ঘুম ভাঙার আগেই উঠোনে শোনা যেত ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি—কখনও রেডিওতে, কখনও পাশের বাড়ির বড় আপার কণ্ঠে। নতুন পোশাক পরে বাবার হাত ধরে বেরিয়ে পড়তাম বৈশাখী মেলার দিকে। পথজুড়ে মানুষের ভিড়, মুখে হাসি, আর কোথাও কোথাও বাঁশির সুর—সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের শহর।
মেলায় ঢুকলেই চোখে পড়ত রঙিন কাগজের পাখা, মাটির ব্যাংক, বাঁশের তৈরি খেলনা, আর কাঠের ঘোড়া। ছোট্ট আমি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হতাম মাটির বাঁশি আর রঙিন ঘুড়ির প্রতি। বাবার কাছ থেকে এক-দুটি খেলনা পাওয়া মানেই ছিল অমূল্য সম্পদ পাওয়ার আনন্দ। মেলার এক কোণে থাকত নাগরদোলা—ওই দোলায় চড়ার উত্তেজনা আর ভয় মিশ্রিত অনুভূতি আজও ভুলতে পারিনি।
কৈশোরে এসে বৈশাখের রং বদলাতে শুরু করলেও অনুভূতির গভীরতা আরও বেড়ে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, একসঙ্গে ছবি তোলা, আর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠত আরও প্রাণবন্ত। স্কুল বা ক্লাবের আয়োজনে গান, আবৃত্তি আর নৃত্যের মাধ্যমে আমরা উদযাপন করতাম আমাদের সংস্কৃতিকে। তখন বুঝতে শিখেছিলাম—পহেলা বৈশাখ শুধু আনন্দের নয়, এটি আমাদের পরিচয়েরও প্রতীক।
বৈশাখ মানেই ছিল খাবারেরও উৎসব। পান্তা-ইলিশ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ—এই সরল খাবারটিই যেন সবচেয়ে সুস্বাদু মনে হতো ওই দিনটিতে। গ্রামের বাড়িতে হলে থাকত বাড়তি আয়োজন—পিঠা, মিষ্টি, আর নানা রকম ভর্তা। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়ার যে আনন্দ, তা আজকের ব্যস্ত জীবনে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গেছে। শহরের কোলাহল, প্রযুক্তির ছোঁয়া, আর ব্যস্ততার মাঝে বৈশাখের সরলতা কিছুটা হারিয়ে গেলেও, হৃদয়ের ভেতরে রয়ে গেছে সেই পুরনো দিনের আবেগ। এখনো পহেলা বৈশাখ এলে মনে পড়ে যায় মেলার ভিড়, বাবার হাত ধরা ছোট্ট আমি, আর নির্ভেজাল আনন্দে ভরা সেই দিনগুলো।
বাংলা নববর্ষ আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়, মনে করিয়ে দেয় আমরা কে, কোথা থেকে এসেছি। তাই যতই সময় বদলাক, বৈশাখের সেই শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি আমাদের জীবনে চিরকাল এক অনন্য আবেগ হয়ে থাকবে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি