সাম্রাজ্যবাদ-ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন: বকুল

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬

সাম্রাজ্যবাদ-ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন: বকুল

Manual7 Ad Code
ওয়ার্কার্স পার্টির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৭ মে ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেছেন, বর্তমান সময়ে দেশের জনগণের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামকে জোরদার করা এবং এ লক্ষ্যে বাম, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, “দেশকে বাঁচাতে হলে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে সংগঠিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে হবে।”

রোববার (১৭ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শহীদ রাসেল আহমেদ খান ভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক।

‘স্বাধীনতার চেতনা থেকে রাষ্ট্র বিচ্যুত’

নুর আহমদ বকুল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “বারবার রেজিম পরিবর্তন, সামরিক শাসন, হত্যা, ক্যু, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান—সবকিছুর পেছনে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী রাজনীতির প্রভাব।”

তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়নি। ফলে জনগণের ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, “লুটেরা শাসকগোষ্ঠীর শাসনব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। উপমহাদেশে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের উত্থান আজ নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।”

‘মেহনতি মানুষকে সংগঠিত করতে হবে’

Manual5 Ad Code

ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক শক্তিকে সুসংগঠিত করতে না পারলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মৌলিক আদর্শের ভিত্তিতে জাতি গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। অসাম্প্রদায়িক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ওয়ার্কার্স পার্টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।”

রাশেদ খান মেননের মুক্তির দাবি

সভায় নুর আহমদ বকুল দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কমরেড রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে “মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদ, মৌলবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে রাশেদ খান মেনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অনস্বীকার্য।”

Manual1 Ad Code

তিনি অবিলম্বে রাশেদ খান মেননের মুক্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে হোসেন বাদশা, মুস্তফা লুৎফুল্লাহসহ বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

নেতাদের বক্তব্য

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড নজরুল হক নীলু, কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড আবুল হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ওয়ার্কার্স পার্টির আহ্বায়ক কমরেড কিশোর রায়, ঢাকা মহানগর উত্তর ওয়ার্কার্স পার্টির আহ্বায়ক কমরেড সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, খেতমজুর নেতা জাকির হোসেন রাজু, কৃষক নেতা দীপংকর সাহা দীপু, শ্রমিক নেতা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, নারী নেত্রী শিউলী সিকদার, গার্হস্থ্য নারী নেত্রী মুর্শিদা আখতার নাহার, যুবনেতা তৌহিদুর রহমান এবং ছাত্রনেতা অতুলন দাস আলো।

Manual2 Ad Code

বক্তারা বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচন, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাব মোকাবিলায় বাম-প্রগতিশীল শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তারা শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব-নারীসহ সর্বস্তরের জনগণকে সংগঠিত করে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান।

সভা পরিচালনা

সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মিডিয়া সেল ইনচার্জ কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ