সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই: নুর আহমদ বকুল

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২৬

সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই: নুর আহমদ বকুল

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৮ মে ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দুর্বল করে মৌলবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল অপতৎপরতা বিস্তারের চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি ও প্রগতিশীল ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষাঙ্গনে বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক ও একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সোচ্চার হতে হবে।

Manual6 Ad Code

সোমবার (১৮ মে ২০২৬) রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নুর আহমদ বকুল বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব যুবসমাজকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাব, বৈষম্য ও হতাশার কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণ মাদকাসক্তি, ছিনতাই ও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, তথাকথিত মেগা উন্নয়নের নামে বিদেশি শক্তিকে সন্তুষ্ট করার পরিবর্তে রাষ্ট্রকে শিল্পায়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল রাজনীতির ওপর বর্তমানে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র-যুবদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই হতে পারে গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের প্রধান শক্তি।

Manual2 Ad Code

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ইউনুস সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি কমরেড মেননসহ সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির ধারাবাহিক সংগ্রামে রাশেদ খান মেননের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মেনন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, রাশেদ খান মেনন এদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক কিংবদন্তি নেতা। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সারাজীবনের আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই মেননকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাশেদ খান মেননসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দিতে হবে।

আলোচনা সভায় জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণআন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাস আলো তাঁর বক্তব্যে বলেন, ছাত্র আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায় এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে রাশেদ খান মেনন ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে কমরেড মেননের রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Manual8 Ad Code

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানভীন আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস।

আলোচনা সভা শেষে জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মনোজ বাড়ৈ ও সুমাইয়া ঝরা। অনুষ্ঠানে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা গণসংগীত, আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে ওয়ার্কার্স পার্টি, যুব মৈত্রী, ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ