ত্রিমাত্রিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে এগুচ্ছে

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২৬

ত্রিমাত্রিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে এগুচ্ছে

Manual7 Ad Code

হাসনাত নাগাসাকি |

হঠাৎ করে এতো এতো ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী খুন হচ্ছে।
আপনাদের কি একবারও মনে হয়নি এগুলোর পিছনে কারো কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে?
থাকতে পারে কোনো মহলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য?

*গত সপ্তাহে – কারিনার মৃত্যুর পর এপক্ষ ওপক্ষ দখন তুমুল উত্তেজিত – তখন বলেছিলাম আপনাদেরকে উত্তেজিত এবং ব্যস্ত রাখার জন্য একের পর এক ইস্যু আনা হবে।
দেখুন না – মার্কিন বানিজ্য চুক্তি, সেইন্টমার্টিনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, ঘাঁটি – সব ভুলে আমরা ধর্ষণ নিয়ে মেতে গেছি।

আসলে ইস্যুটাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে – চুপ থাকার উপায় নেই, উত্তেজিত না হয়ে উপায় নেই।

তখন বলেছিলাম – ইস্যুগুলো তাদের ত্রিমাত্রিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে এগুবে।

১. মার্কিন বানিজ্য চুক্তি, যুদ্ধজাহাজ, ঘাঁটি ইত্যাদি বিষয়ে ভুলিয়ে দেয়া এবং ব্যস্ত রাখা।
এটা যেহেতু সবচেয়ে ক্রুশিয়াল টাইম। সেহেতু মার্কিন ডিপ-স্টেট চাইছে – তাদের পুত্ররা মাঠে সক্রিয় থাকুক এবং ইন্টেলিজেন্সরা একের পর এক ইস্যু তৈরি করে জনগণকে ব্যস্ত রাখুক।

২. জুলাইয়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এবং টাকা ও ক্ষমতা দিয়ে জেনজিদের আবার মাঠে নামানো এবং মাঠ দখল করা। এটা নিয়ে নিচে বলছি।

৩. প্রেগন্যান্ট পুলিশ কনস্টেবলের হত্যাকে নরমালাইজ করার জন্য সেই লেভেলের উদাহরণ তৈরি করা। প্রয়োজনে পুলিশ দ্বারা প্রেগন্যান্ট নারীকে পোড়ান্যর নাটক হবে। কারণ, জুলাইয়ের মবে হাজার হত্যার বিপরীতে একজন প্রেগন্যান্ট পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যা – পৃথিবীর যেকোনো আদালতে মহাগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে হাজির হবে। দেশের সাধারণ মানুষও বিষয়টাকে সেভাবে নিয়েছে। এই প্রসঙ্গ যখন (এখন বা ৫-১০ বছর পরে) আদালতে উঠবে – তখন মাসপিপলের অবস্থান একটা গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করবে।
সেজন্য প্রেগন্যান্ট পুলিশ হত্যাকে নরমালাইজ করে জনগণকে মেসেজ দেয়া ও প্রস্তুত করা ওদের জন্য আবশ্যক।

ফলে, এই ৩টা কারণে একেকটা ইস্যু আসবে, আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়বো।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে – ইস্যুগুলো এমন হবে বা প্রেজেন্ট করা হবে যে আপনি সহ্য করতে পারবেন না, চুপ থাকতে পারবেন না।

Manual3 Ad Code

২৪ এর জুলাই আগষ্টে বা আগে পরে এমনসব ইস্যু তৈরি করে এমনভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছিল যে – বেশিরভাগ মানুষ সইতে পারেননি। অনেকে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার পক্ষে থাকার চেষ্টা করেও শেষ মুহুর্তে ভেঙে পড়েছেন।
অনেকে অন্যের চুপ থাকাকেও অপরাধ পর্যায়ে ট্রিট করেছিলেন তখন। আমার সামান্য কবিত্বটুকু নিয়ে সে কী টানাটানি! বাম কবিরা, জাম কবিরা আমাকে বালের কবি ইত্যাদি খেতাবে ভূষিত করেছিলেন। মানে এভাবেই একটা গ্রুপ কাজ করেছিল বাকিদের মানসিক স্ট্যান্ড ভেঙে দিতে। প্রায় কেউই বুঝতে পারছিলেন না কি ঘটছে, কেন ঘটছে কারা ঘটাচ্ছে।
এ বিষয়ে আলাদা বিস্তারিত লিখবো।

ডিপ-স্টেট গেইম এমনই হয়।

এবারও ইস্যুগুলো এমনভাবে আসবে – আপনি বুঝতেই পারবেন না। কথা না বললে বা গা না ভাসালে নিজেকে অপরাধী মনে হবে।

**
চতুর্থ আরেকটু কারণ বা লক্ষ্য উদ্দেশ্য আছে বা থাকতে পারে।

Manual7 Ad Code

সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে ১ বছর আগেও লিখেছি, ৬ মাস আগেও লিখেছি।
সেটা হচ্ছে – তারা সাধারণ মানুষের মানসিকতাকে শরিয়াহ আইন, ইসলামী আইনের দিকে ঝুঁকাতে চায়।

পরিস্থিতি এমন ঘোলাটে হবে যে – সাধারণ মানুষকে দিয়ে বলাবে বা সাধারণ মানুষের ভিতরে ঢুকে তারা বলবে – দেশে শরিয়াহ আইন চাই, ইসলামি শাসন চাই ইত্যাদি।

আপনি খেয়াল করলে দেখবেন – এই কথাগুলো বছরখানেক আগে আবছা দেখা দিয়ে ডুবে গেছিল। এখন সেগুলো আবার ভেসে উঠছে। আবার নানা জায়গায় নানাভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঢুকে নিজেরা শরিয়াহ আইনের কথা বলছে। সাধারণ মানুষকে দিয়েও বলিয়ে নিচ্ছে।
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আপনাকে দিয়েও বলাচ্ছে।

এভাবে একজন দু’জন করে বলা শুরু হলে, যারা বলবে না বা প্রতিবাদ করবে – তাদেরকে ব্লেইম করা হবে। মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা হবে। তখন শরিয়াহ না চাওয়াকে নিজের অপরাধ মনে হবে।
মনে হবে – ধুর বাল! এটাই একমাত্র সমাধান!

***
৮ বছরের রামিসা ধর্ষণের পর খুন হলো।
মাদ্রাসার বাথরুমে ৯ বছরের ছেলের লাশ পাওয়া গেল।
৩ বছরের বাচ্চা মেয়ে ধর্ষিত হয়ে হাসপাতালে।
আজ বিকেলে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ৪ বছরের বাচ্চা মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে।

যদিও মিডিয়া এবং আপনারা সিলেক্টিভলি প্রতিবাদ করছেন। যেমন – ৩ বছরের বাচ্চাটার বিষয়ে আপনারা অনেকে জানেনও না।

গত ২ মাসে সারাদেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী খু’ন হয়েছে – সরকারি হিসেবে ৮৫ জন, বেসরকারি হিসেবে ১৫০+।

গত দেড় বছরে এই সংখ্যা হাজার হাজার।
কেবল মাদ্রাসার ভিতরে বা মাদ্রাসার হুজুর দ্বারা ঘটেছে অসংখ্য।
কোনো একটা নিয়ে জামাত, এনিসিপি বা তৌহিদী জনতাকে কিছু বলতে দেখেছেন?
না। একটাও না।

গত ২ বছর তাদের লুটপাট, খুন, গুম, মবের ভিতর দিয়ে গেছে।
আজ জুলাই বললে মানুষ হাসে, গালি দেয়, দৌড়ানিও দেয়। সেনাবাহিনী না থাকলে জুলাই উচ্চারণ করার লোকও থাকবে না বা লজ্জা পাবে। এবং জুলাই উচ্চারণ করলেই মাইর দেবে সাধারণ জনতা।
সেজন্যই সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে তোলা যাচ্ছে না।

Manual4 Ad Code

সবচেয়ে বড় কথা – সেনাবাহিনী আর কত থাকবে? একদিন না একদিন তো ব্যারাকে ফিরতেই হবে।
সেদিন কি হবে তাদের?

তাদের সেদিনের জন্য একমাত্র ঢাল হবে ‘জুলাই চেতনা’’।
সুতরাং তাদের এ মুহূর্তে মিশন হচ্ছে – জুলাই চেতনা রিফর্মেশন।
অর্থাৎ, নানাভাবে জেনজিদের যুক্ত করে উদ্বুদ্ধ ও উত্তেজিত করা।
যেমন – গ্রাফিতি নাটক, শাহবাগের জুলাই দণ্ডে নিজেরা জুতার মালা দিয়ে একটা অংশকে উত্তেজিত করার চেষ্টা, টিকটকারের মৃত্যু নিয়ে নাটক ইত্যাদি।

মাঠে ফেরার জন্য এবং মানুষের আবেগের বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য তাদের ইস্যু দরকার।

গত সপ্তাহে যখন কারিনার মৃত্যু নিয়ে আপনাদের কারো হাসাহাসি, কারো কান্নাকাটি আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল – তখন বলেছিলাম – কারিনা নাটক দিয়ে মাত্র শুরু। আরো বহু নাটক আসছে।
তারপর সরকারি বাজেটে গ্রাফিতি নাটক হলো।
যদিও মেয়েটার অভিনয়ের দোষে নাটকটা ফ্লপ করেছে।
সেদিনই বলেছিলাম – প্রেগন্যান্ট পুলিশ কনস্টেবলের হত্যাকে নরমালাইজ করার জন্য আরো বহু হত্যা আসবে। প্রেগন্যান্ট হত্যাও হতে পারে।

রামিসার ধর্ষন ও হত্যা নিয়ে সকলে আবেগাপ্লুত। আমিও শক পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম।
আমিও চাই – রামিসার হত্যার বিচার হোক। আমার একটা মেয়ে আছে বলে নয়। কারো কারো কাছে পৃথিবীর সব বাচ্চা নিজের।

Manual5 Ad Code

কিন্তু এগুলো পরিকল্পিত নয় তো?
একটার পর একটা, বিষয়ের সামঞ্জস্য রেখে ইস্যু আসছে।
এর মোড় কোনদিকে যেতে পারে?
#
[] Hasnat Nagasaki

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ