সিলেট ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬
চেক মামলা, ব্যাংক হিসাব বিতর্ক ও নির্যাতনের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২১ মে ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী মো. জয়নাল আবেদীন বাদশা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের টি ভ্যালি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি মামলার পটভূমি, বিচারিক প্রক্রিয়া, ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য, রায়ের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং নিজের ও পরিবারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বাদশা বলেন, তিনি দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর পেছনে বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে এবং উচ্চ আদালতে যথাযথ যাচাই-বাছাই হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
ঘটনার সূত্রপাত
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার গ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুক মিয়া অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় চিনি ব্যবসার কথা বলে তিনি কথিত মাহবুব মুর্শেদ নামীয় এক ব্যক্তির ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছেন। ওই হিসাব নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়— 7017137231221, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং, শ্রীমঙ্গল শাখা।
জয়নাল আবেদীন বাদশার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরিত চেক নেওয়া হয় এবং একটি লিখিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। চেক দুটির নম্বর— ৮১৩৪৫৭১ ও ৮১৩৪৫৭২।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে ওই চেকের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলার আগেই তিনি ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি আইনি নোটিশ পাঠান এবং ১৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে দাবি করেন।
দায়ের হওয়া মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়া
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলা হলো— জিআর ২৫৫/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮১/২০২৪) এবং জিআর ২৫৬/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮২/২০২৪)। বর্তমানে মামলাগুলো আপিল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, মামলার শুনানিকালে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতে লিখিতভাবে জানায় যে, উল্লেখিত হিসাব নম্বরটির অস্তিত্ব তাদের শ্রীমঙ্গল শাখায় পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, এরপরও গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলাদ্বয়ের রায় ঘোষণা করা হয়। একটি মামলায় তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপর মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আমার জানা মতে, সেদিন মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত ছিল। বিশেষ কারণে আমার পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। পরে জানতে পারি, আবেদনটি গ্রহণ করা হয়নি এবং ওই দিনই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে উচ্চ আদালতে আইনি প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই আপিল দাখিল করা হবে।
রায়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বাদশা আরও জানান, রায়ের পর আপিল পরিচালনার জন্য তিনি আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা, জমি বিক্রি এবং পরিবারের স্বর্ণালংকার বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।
এ অবস্থায় গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুরে শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে হবিগঞ্জ রোডের একটি গ্যারেজে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। সেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, পরবর্তীতে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার দাবি, ভিডিওটিতে ঘটনার কিছু আলামত ও পরিস্থিতি প্রতীয়মান হয়েছে।
একইসঙ্গে তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পর তার স্ত্রীকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এ সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরবর্তীতে তাকে থানায় নেওয়া হয় এবং প্রায় ২০ দিন মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে আদালতের মাধ্যমে বিশেষ শর্তে জামিন লাভ করেন।
‘উচ্চ আদালতেই সত্য উদঘাটনের আশা’
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বাদশা বলেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে চান না। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের তথ্য, তার স্ত্রীর উত্থাপিত অভিযোগ এবং অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়সহ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রাখি। আমি বিশ্বাস করি, উচ্চ আদালতে মামলার নথিপত্র, ব্যাংক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ব্যাংক প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সুধীজন ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি