অবসরে গেলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক রেজোয়ানুল হক

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৬

অবসরে গেলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক রেজোয়ানুল হক

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ মে ২০২৬ : দেশের বেসরকারি টেলিভিশন সাংবাদিকতায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ও মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক রেজোয়ানুল হক অবসরে গেছেন। প্রায় দেড় দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন। মাছরাঙা টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগ ও সহকর্মীদের আয়োজনে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংবাদ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রেজোয়ানুল হক, যিনি সাংবাদিক মহলে ‘রেজোয়ানুল হক রাজা’ নামেও পরিচিত। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ সম্প্রচার, সম্পাদকীয় নীতি, আধুনিক সংবাদ উপস্থাপনা এবং ব্রডকাস্ট সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে সহকর্মীরা বলেন, বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিকাশে রেজোয়ানুল হকের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সংবাদকে বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও দর্শকবান্ধব করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন। তরুণ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নেও তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলা

Manual2 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা রেজোয়ানুল হক পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ব্রডকাস্ট সাংবাদিকতায় তিনি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সংবাদ পরিকল্পনা, উপস্থাপনা, লাইভ কাভারেজ এবং টেলিভিশন সংবাদ ব্যবস্থাপনায় তার দক্ষতা গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।

সহকর্মীদের মতে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং সংবাদকর্মীবান্ধব একজন সংগঠক। সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।

Manual7 Ad Code

নেতৃত্বের ভূমিকায় সক্রিয়

মাছরাঙা টেলিভিশনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন রেজোয়ানুল হক। তিনি ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রচার সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

Manual3 Ad Code

এছাড়াও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সাংবাদিক সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা তাকে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের বিকাশে অবদান

মাছরাঙা টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ কাঠামো গড়ে তোলা এবং আধুনিক ব্রডকাস্ট মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় রেজোয়ানুল হকের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার নেতৃত্বে চ্যানেলটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় ঘটনাপ্রবাহে তাৎক্ষণিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য দর্শকদের আস্থা অর্জন করে।

সংবাদ বিভাগের কয়েকজন সদস্য বলেন, তিনি সবসময় টিমওয়ার্কে বিশ্বাস করতেন এবং সংবাদকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।

বিদায়ে আবেগঘন পরিবেশ

বিদায়ী অনুষ্ঠানে মাছরাঙা টেলিভিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রেজোয়ানুল হকের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন। অনেকেই বলেন, তার নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতেও সাংবাদিক সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রেজোয়ানুল হক সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মাছরাঙা টেলিভিশন শুধু একটি কর্মস্থল নয়, এটি আমার জীবনের একটি বড় অধ্যায়। সহকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া এত দীর্ঘ পথচলা সম্ভব হতো না।”

Manual4 Ad Code

তিনি দেশের গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই মানুষের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ।

দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তির মধ্য দিয়ে দেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও গণমাধ্যম অঙ্গনে রেজোয়ানুল হকের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সহকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ